২৫ মার্কিন কোম্পানীকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমানের আহবান- সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি পূরণ নয়। বরং চরম আত্মঘাতী।
২৫ মার্কিন কোম্পানী, ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বিশাল বড় অনুলিপি এরা বাংলাদেশের গোটা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ আম্রিকায় অর্থ পাচার, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে। বিশাল মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ সরকারের দেয়া অতি সুবিধার কারণে এরা বাংলাদেশের শিল্পপতিদের তথা ব্যবসায়ীদের ধ্বসিয়ে দিবে।
আম্রিকা বিনিয়োগ করে- চিলি, আর্জেন্টিনা, ভেনিজুয়েলা এবং দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার অনেক দেশে তাদের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ফলানো সহ সামরিক বাহিনী প্রেরণ করে লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম করেছে। এমনকী যুদ্ধও লাগিয়েছে। একই লক্ষ্য নিয়ে তারা বাংলাদেশে আসছে। অতএব সচেতন জনগণকেই সক্রিয় হয়ে মার্কিন ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে ইনশাআল্লাহ । (৩য় পর্ব)
, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
বাংলাদেশের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকে সংক্ষেপে এফডিআই (ঋউও বা ঋড়ৎবরমহ উরৎবপঃ ওহাবংঃসবহঃ) বলা হয়। বাংলায় এটিকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বলা হয়।
বাংলাদেশে বিদেশ বিনিয়োগকারীদের ৭ ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়ে থাকে। এর মধ্যে মুনাফার টাকা নিজ দেশে নিয়ে যাওয়া, সস্তা শ্রম, শ্রমিকের মজুরি ছাড়াও অন্যান্য সুবিধায় ছাড় দেয়া, কর অবকাশসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা। তাই গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং অবকাঠামো সমস্যার কথা জেনেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসছে। প্রতি বছর মুনাফার অঙ্ক বাড়ার পরও বাণিজ্য ও সেবা খাতের বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ দেশে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে না। উল্টো দিকে সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে নানা সুবিধা দিয়েই চলেছে।
এক হিসাবে দেখা যায়, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিদেশি বেনিয়ারা তাদের বিনিয়োগের শত থেকে হাজার গুণ অর্থ নিয়ে চলে গেছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা বলে আমাদের হাজার শিল্প ধ্বংস করেছে। পক্ষান্তরে বিদেশি বেনিয়াদের এ দেশে এসে ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
মুনাফা অর্জনের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে বিদেশি মোবাইল ফোন, ব্যাংক কোম্পানি, লিজিং, বীমা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম এবং টেক্সটাইল ও বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা। মোবাইল কোম্পানিগুলো ভিওআইপির অবৈধ ব্যবহার করে অনেকবার অর্থদ- দিয়েছে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর অতি মুনাফা করার প্রবণতা সবার জানা। এ ছাড়াও অন্য কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আছে নানা অভিযোগ। তার পরও সরকার এদের ব্যাপারে তেমন সতর্ক নয়। এতে দেশের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না।
দুটো কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসে। প্রথম কারণ হচ্ছে, এখানকার সস্তা শ্রম। দ্বিতীয়টি কর অবকাশসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা। তাদের মুনাফার মূল উৎসও এ দুটি ইস্যু। তাই গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো সমস্যার কথা জেনেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসছে।
চীনে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি মাসিক ২০০ ইউএস ডলার। ভারতে তা প্রায় ১০০ ডলার। আর বাংলাদেশে মাত্র ৪৫ ডলার। এ সুবিধা বেশি করে কাজে লাগাচ্ছে রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) কারখানাগুলো।
কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নানা সুবিধা পেলেও দেশি বিনিয়োগকারীরা হচ্ছেন বৈষম্যের শিকার।
তারা গ্যাস-বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। জ্বালানি খরচ ঊর্ধ্বমুখী। তাদের পদে পদে কর আর ভ্যাট। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন লাভ। যা মোটা অঙ্কের ঘুষ ব্যতীত কখনও মেলেনা। এসব কারণে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা মার খাচ্ছেন। অথচ সরকার তাদের কোনো উৎসাহ দিচ্ছেনা। কিন্তু সরকারের উচিত ছিল বিদেশী বিনিয়োগকারীদের এত অবাধ সুযোগ দানের পরিবর্তে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সব সুবিধা প্রদানসহ উল্টো প্রণোদনা দেয়া। তাহলে দেশের টাকা দেশেই থাকতো। বিদেশীরা লুটে নিয়ে যেতে পারতো না।
আর শুধু বিদেশি বিনিয়োগ দিয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। প্রবাসী বাঙালিরাও যেন বিনিয়োগে আগ্রহী হয়, সে বিষয়টিও সরকারকে নজর দিতে হবে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিডার বিনিয়োগবিষয়ক সম্মেলনে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, দেশে ব্যবসার পরিবেশ তথা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো পাঁচটি বড় বাধা রয়েছে। সেগুলো হলো বিদ্যুতের সমস্যা, অর্থায়নের সীমিত সুযোগ, দুর্নীতি, অনানুষ্ঠানিক খাতের আধিক্য ও উচ্চ করহার।
কিন্তু দেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈষম্য করে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ঠিকই অনেক বেশি রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদান করা হয়।
বিশেষ করে বর্তমান সরকার আমেরিকান ২৫ কোম্পানীকে অত্যধিক সুবিধা দেয়ার জন্য যেন মুখিয়ে আছে।
দেশের ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশের ব্যাংকের সুদহার বেশি, যদিও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিদেশ থেকে কম সুদে ঋণ আনতে পারেন। সেই সঙ্গে তাঁরা মুনাফা অন্য দেশে নিয়ে যেতে পারেন; বাংলাদেশের স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা সাধারণত অন্য দেশে বিনিয়োগ করতে পারেন না। করতে চাইলে হাজার রকম অনুমোদন নিতে হয়।
বিনিয়োগ বোর্ডের দেয়া তথ্যে জানা যায়, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সব সময় বাংলাদেশের শিল্প-বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতার কথা জোর গলায় প্রচার করলেও বাংলাদেশের দুর্বল বিনিয়োগ নীতির কারণে তারা হাজার হাজার কোটি ডলার মুনাফা ঠিকই করছে আবার তাদের দেশে পাচারও করছে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ভূয়া অস্ত্র বেঁচে টাকা লুট করতে চায় ভূয়া আম্রিকানরা মনে করে আম্রিকা যুদ্ধে সেরা অথচ মেক্সিকো, স্পেন, জার্মানসহ কয়েকটি কাফের রাষ্ট্র ছাড়া কানাডা ভিয়েতনামসহ অনেক কাফের রাষ্ট্রের কাছেও তারা শোচনীয়ভাবে হেরেছে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক বছরের পর বছর চালু রেখে এক সময় বিয়ে না করলে দন্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষক হয় পুরুষ।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে এখন চাপ আর চাপ এসব চাপকে- জনগণের নিজের মনে করতে হবে।
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
২০২৬ থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর মেয়াদে প্রতি বছর ছয়টি করে কার্গো এলএনজি আমদানি কথা চলছে। যা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বা কম মূল্যে নির্ধারণ হয়নি। এবং এমন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে যা দেশের স্বার্থবিরোধী।
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ হাজার একরের বেশি জমি ভারতের দখলে। উদ্ধারে নেই সরকারের সক্রিয়তা।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
১৯৪৭ সালের বেনিয়া বৃটিশদের দেশবিভক্তির দোহাই দিয়ে এখন পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের ভূখন্ড দাবী করছে উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মার্কিন দূত যে বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে গেলো, সরকারকে হুমকী-ধামকি দিলো তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হলো কৈ? সরকারী দল, বিরোধী দল, তথাকথিত সব ইসলামিক দল থেকে সব সুশীল, চিন্তাশীল, বিশ্লেষক তথা সব মহল কেউই কিন্তু প্রতিবাদ করলো না
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ। এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক কৌশল বাড়ানো উচিত
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিএনপির নেতা কর্মী বর্তমান উপদেষ্টা মন্ত্রীরা-এমপিরাও, সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১২৬ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












