অপ্রচলিত কৃষি উৎপাদনে বদলে যেতে পারে দেশের অর্থনৈতিক চিত্র। দূর হতে পারে আমদানিনির্ভরতা।
পাম চাষের মাধ্যমে সম্ভব সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার তেল রফতানি। এক পার্বত্য চট্টগ্রামই হতে পারে ২য় মালয়েশিয়া কিংবা দ্বিতীয় ইন্দোনেশিয়া।
, ২৯ ছফর শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৭ রবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ৩১ ভাদ্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষামূলক পাম চাষে সফলতার দেখা পাওয়া গেছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছে, বাংলাদেশে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বাণিজ্যিক পাম চাষ। তাই রাস্তা কিংবা রেললাইনের কাছে, পতিত ও অনাবাদি জমি পাম চাষের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে কৃষি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছে, এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বড় প্রকল্প নেয়া জরুরি। যাতে যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ ল্যাব স্থাপন, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাম চাষ, তেল উৎপাদন ও বাজারজাত করা যায়। এতে ভোজ্য তেলের আমদানিনির্ভরতা কমবে। রফতানি করেও আয় করা সম্ভব বৈদেশিক মুদ্রা।
প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, আমাদের দেশে দৈনিক গড়ে ৬ হাজার মেট্রিক টন এবং বছরে ২১ লক্ষ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। যার সিংহভাগই আমাদের আমদানী করতে হয়। এর আনুমানিক মূল্য হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে পামগাছ চাষে সার্বিকভাবে বদলে যেতে পারে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র।
দেশের ২২ লাখ টন ভোজ্যতেলের বর্তমান চাহিদা মেটাতে মাত্র তিন কোটি পাম গাছের উৎপাদন প্রয়োজন। কিন্তু যদি পরিবার প্রতি ৫টি করে পাম গাছ রোপণ করে তাহলে প্রতি বছর আমাদের চাহিদা পূরণ করে ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার কোটি টাকা মূল্যের পাম তেল রপ্তানী করা সম্ভব। আর তা যদি নাও হয় তাহলে এক পার্বত্য চট্টগ্রামই দেশের তেলের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারবে। বরং কেবল পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে পারে দ্বিতীয় মালয়েশিয়া কিংবা দ্বিতীয় ইন্দোনেশিয়া।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অনাবাদি পাহাড়-টিলায় পাম গাছ চাষের মাধ্যমে তরল সোনা উৎপাদনের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে অদূর ভবিষ্যতে ভোজ্য তেল বা পাম অয়েল উৎপাদনে পার্বত্য চট্টগ্রাম হবে ‘দ্বিতীয় মালয়েশিয়া’। খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক পাম বাগান গড়ে উঠেছে।
পার্বত্যাঞ্চলের মাটি এবং আবহাওয়া পামচাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে অভিমত দিয়েছে কৃষি বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছে, পাহাড়ের মাটিতে পামচাষের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উপাদান রয়েছে। এখানকার আবহাওয়া, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সব কিছু পামচাষের জন্য খুবই উপযোগী। পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার হাজার একর জায়গা অনাবাদি পড়ে থাকা টিলায় পরিকল্পিতভাবে ব্যাপকহারে পামচাষ করে দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদার পূরণ করা সম্ভব। এতে ভোজ্য তেল আমদানির বিদেশী নির্ভরতা থাকবে না। পামচাষের মাধ্যমে ভোজ্য তেল উৎপাদন করে পশ্চাৎপদ পার্বত্যাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নতি শুধু নয়, গোটা দেশের অর্থনীতির চিত্র পাল্টে যেতে পারে।
তথ্যাবিজ্ঞ মহলের অভিমত, ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি বন বিভাগের মাধ্যমেও পার্বত্য এলাকায় পরিবেশবান্ধব পামচাষ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। মালয়েশিয়ার ফেল্ডা প্লান্টেশনের পাম সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত গবেষক জানিয়েছে, পামচাষের জন্য বাংলাদেশের তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও আবহাওয়া মালয়েশিয়ার চেয়েও উন্নত। এ সুযোগ কাজে লাগানো গেলে পাম অয়েল উৎপাদনে মালয়েশিয়াকেও পেছনে ফেলে দিতে পারে বাংলাদেশ। কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানায়, পাম গাছ রোপণের তিন-চার বছরের মধ্যে ফল দেয়া শুরু করে। একটি গাছ টানা ৬০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ফল দেয়। এক কাঁদিতে ফল হয় ৪০ থেকে ৮০ কেজি। আর বছরে আট থেকে ১০ কাঁদি ফল ধরে। চার-পাঁচ বছর বয়সী একটি গাছের ফল থেকে বছরে ৪০ কেজি পাম তেল পাওয়া যায়। প্রতি হেক্টর জমিতে ১২০-১৫০ চারা রোপণ করা যায়।
এদিকে শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামই নয় ঠাকুরগাঁও, নওগাঁসহ গোটা বাংলাদেশই পাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ইতোমধ্যে জেলায় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে অর্ধ শতাধিক পাম বাগান। নওগাঁ জেলায়ও পাম চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নওগাঁ সদরসহ মান্দা, ধামইরহাট এবং রানীনগর উপজেলায় ইতোমধ্যে কমপক্ষে ২০-২৫টি পাম বাগান গড়ে উঠেছে।
এছাড়াও বাংলাদেশের অনাবাদি জমি এবং সড়কপথ, রেলপথ ও গ্রামীণ জনপথগুলোকে পাম চাষের আওতায় আনা যায়। এক্ষেত্রে একটি বেসরকারি সংস্থা ইতিমধ্যেই দেশের ৪০টি জেলার ২১৩টি থানায় বিভিন্ন উদ্যোক্তার মাঝে নগদে ও কিস্তিতে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ পাম অয়েল চারা গাছ রোপন করা হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে আরো ১ লক্ষ ২০ হাজার চারা রোপন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কিন্তু এত বড় একটি সম্ভাবনাময় খাতকে শুধু কিছু এনজিও’র উপর ছেড়ে দিলেই হবে না। মূলতঃ সরকারকেই সার্বিক দায়িত্ব নিতে হবে।
দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌর ভবন চত্তর, মসজিদ মাদরাসা ও এতিমখানায় এবং সব সম্ভাব্য স্থানেই পাম চাষের বিপ্লব ঘটাতে হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্য নিয়ে যে অবস্থা চলছে, তার মূল সমাধান হলো, দ্রব্যমূল্য কমাতে হলে কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আধুনিকায়ন করতে হবে এই খাতের। কৃষকদের বিনা সুদে ঋণের সুবিধা দিতে হবে এবং এটা হওয়া উচিত সরাসরি কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে। কোনো এনজিও’র মাধ্যমে নয়।
স্বল্প খরচে শুধুমাত্র সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে পাম গাছ চাষের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভোজ্যতেল আমদানী নির্ভরতার বিপরীতে পাম তেল রপ্তানীকারক দেশ হিসাবে বিশ্ব বাজারে স্থান করে নিতে পারে এবং অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়ন ঘটিয়ে দারিদ্রতা মুক্ত হয়ে খোদ বাংলাদেশই রফতানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে। ইনশাআল্লাহ!
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘দ্যা গ্রেট রিসেট’ ও নমরুদী মশার প্রতিশোধের এক চরম ইহুদী-নাসারায়ী নীলনকশা!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিদ্যুতের বিল বার বার বাড়ানো শোষক জমিদারি কায়দায় চক্র বৃদ্ধি হারে খাজনার চাবুক মারা অথচ বিদ্যুতে শুধু চুরি নয়, সব দিক থেকে সাগর চুরি হচ্ছে। সে চুরির ক্ষত পোষাতে জনগণের উপর খাজনা বৃদ্ধি করে চোরদের উৎসাহ ও প্রনোদনা এবং নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সে যুগেও হুসাইন আহমদকে ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের কংগ্রেসের পা চাটা- গোলাম প্রচারণা করা হলেও থানভী গংরা তা বুঝতে পারলো কৈ? আজকে পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার মসজিদ ভাঙ্গা ও লাখ লাখ মুসলমানদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদ গ্রহণে বাধ্য করার মত মহা জুলুমের মূলে হোসেন আহমদের সর্ব ভারতীয় জাতীয়বাদ।
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আকাশের অতন্দ্র প্রহরী: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (১ম পর্ব)
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কিন্তু গতকাল গুগল, ফেইসবুকে অসংখ্য আইডি থেকে প্রচারিত- ‘তারেক রমমান নারিকেল দ্বীপ (সেন্টমার্টিন দ্বীপ) আমেরিকাকে দিয়ে দিয়েছেন নারিকেল দ্বীপ এখন মার্কিন ঘাটি হবে’- ইত্যকার প্রচারণা দেশবাসীকে হতভম্ব করছে। সর্বপোরি সরকারের দলীয় বা প্রশাসনের তরফ থেকে এটাকে গুজব না বলায়- হতাশা চরম আকার ধারণ করেছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বর্বর আম্রিকা আর সন্ত্রাসী ইসরাইলের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কিন্তু মুসলিম দেশ ইয়েমেন থেকে শুরু করে সোমালিয়া-লিবিয়া হতে সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চালিয়ে রাখছে আরব-আমিরাত ভয়াবহ মানবেতর সংকটে সুদান, সহিংসতা-রোগ-দুর্ভিক্ষে দিশাহারা মানুষ সুদানের রক্তপাত বন্ধে মুসলিম বিশ্বকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে এক্ষুনি
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে এক শতাংশ ছাড়! এ কেমন কালোচুক্তি? প্রকৃতপক্ষে গোলামীর চুক্তি
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












