অপুষ্টির কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা; দেশের ৫০ ভাগ শিশুমৃত্যুর কারণ অপুষ্টি; অপুষ্টিতে শিশুদের মধ্যে ব্যাপকভাবে বাড়ছে স্থুলতা। দেশের জনগণের প্রতি রাষ্ট্রযন্ত্রের কি কোনই দায়বদ্ধতা নেই?
, ০৫ শাবান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৮ তাসি’, ১৩৯১ শামসী সন , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ০৩ ফাল্গুন, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবে।’ অথচ স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে জাতীয় জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। ১৯৯৫ সালে সমন্বিত পুষ্টি প্রকল্প (বিআইএনপি), পরে দুই দফায় জাতীয় পুষ্টি প্রকল্প (এনএনপি) ও জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি (এনএনপি) পরিচালনা করে সরকার। বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকায় পরিচালিত এসব কর্মসূচির দৃশ্যমান কোনো প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে।
দেশের সামগ্রিক পুষ্টি-পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৪ অনুযায়ী, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৩৬ শতাংশের উচ্চতা ও ৩৩ শতাংশের ওজন বয়সের তুলনায় কম, আর ১৪ শতাংশ কৃশকায়। প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে শিশুরা খর্বকায় ও কৃশকায় হয়, তাদের ওজন হয় বয়সের তুলনায় কম। অপুষ্টির শিকার হলে শিশু বয়সের তুলনায় খাটো, ওজনে কম, শুকনো ও অপুষ্ট হয়। তাদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
অপুষ্টির শিকার শুধু পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই নয়; পাঁচ থেকে ১৮ বছর বয়সী, প্রসূতি, এমনকি পূর্ণবয়স্ক নারী-পুরুষদের মধ্যেও অপুষ্টি রয়েছে। মা হয়েছে, এমন নারীদের মধ্যে অপুষ্টির হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি। মায়েদের অপুষ্টির কারণে নবজাতক ও দুগ্ধপোষ্য শিশুদেরও পুষ্টির অভাব ঘটে।
বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, অপুষ্টির অঞ্চল ও অবস্থানভেদে তারতম্যের বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রামাঞ্চলের শিশু এবং অশিক্ষিত মা আছে এমন পরিবার ও দরিদ্র পরিবারে শিশুদের বয়সের তুলনায় উচ্চতা, উচ্চতার তুলনায় ওজন এবং বয়সের তুলনায় ওজন কম।
বিডিএইচএস-এর প্রতিবেদনে শিশুর পুষ্টি-পরিস্থিতি বোঝাতে তিনটি বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়। বিষয়গুলো হলো- বয়সের তুলনায় উচ্চতা, উচ্চতার তুলনায় ওজন এবং বয়সের তুলনায় ওজন। বিডিএইচএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরাঞ্চলের শিশুদের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের শিশুরা খর্বাকৃতির সমস্যায় বেশি ভুগছে।
বলাবাহুল্য, সবারই পুষ্টিজ্ঞান থাকা জরুরী। তবে মূল বিষয় হলো- পুষ্টিকর খাদ্যের সহজপ্রাপ্যতা আছে কিনা, মানুষের পুষ্টিকর খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে কিনে খাওয়ার সামর্থ্য আছে কিনা। এছাড়া শিশুরা টিকা পাচ্ছে কিনা, পরিবেশ যথেষ্ট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কিনা, রান্না করার পদ্ধতি কী ইত্যাদি বিষয়ের উপরও পুষ্টি-পরিস্থিতি নির্ভর করে।
প্রসঙ্গত, যে শিশুটি অপুষ্টির কারণে ধুঁকে ধুঁকে মরে গেল তার জন্য শোক-দুঃখ ও কষ্টবোধ কেবল আপনজনের। সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্র এ ক্ষতিকে তেমন আমল নেয় না। পাশাপাশি যে শিশুটি অপুষ্টিকে জীবনসাথী করে বড় হচ্ছে, তার বিষয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্র না ভেবে পারে না। এমনকি অপুষ্টির শিকার হয়ে ঝরে পড়াদের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রযন্ত্র ও সমাজের দৃষ্টি ঘুরিয়ে রাখা কখনোই সাজে না। কারণ আজ যে শিশু সেই তো আগামী দিনের শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী। অর্থাৎ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব তাদের উপরই বর্তাবে। আর তাদেরই একটি অংশ যদি অপুষ্টির মধ্যে বড় হয় তাহলে তাদের মেধার উপযুক্ত বিকাশ হয় না এবং কায়িক শ্রম করার যথেষ্ট শক্তিও তাদের থাকে না। মেধার উপযুক্ত বিকাশ না হলে তারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় তেমন সাফল্য পায় না। ফলে তাদের জন্য ভালো কর্মসংস্থানও জুটে না। এ কারণে তাদের অধিকাংশের পারিবারিক জীবন হয় একেবারেই আটপৌরে তথা অসচ্ছলতার মধ্য দিয়েই চলে তাদের। অথচ শিশু বয়স থেকে উপযুক্ত পুষ্টি পেলে তারা যেমন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারত, তেমনি তারা শিক্ষা-দীক্ষায় নিজের, পরিবারের ও জাতির জন্য অনেক সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম হতো।
তথ্যমতে, বছরে সর্বোচ্চ এক হাজার কোটি টাকা শিশু পুষ্টি খাতে ব্যয় করলে এ সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব। সম্ভব একদিকে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি রোধ করা অপরদিকে পুষ্টিমান সম্পন্ন শিশু নাগরিক গড়ে তোলা।
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, যে দেশে সেতু আর ফ্লাইওভার তৈরির বাজেট বারবার হাজার কোটি টাকা বাড়ে, সে দেশের জনগণের পুষ্টির জন্য একহাজার কোটি টাকা বরাদ্দ খুবই সোজা এবং চরম মানবিক। আর এই বিশেষ মানবিক ও সোজা কাজটিই সত্বর করে একটা সমৃদ্ধ জাতি উপহার দিবে এটাই সরকারের কাছে প্রত্যাশা।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষাধিক সদস্য সম্পন্ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ন্যানোটেকনোলজির কৌশলগত উপযোগিতা (পর্ব-১০)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের সাথে রাশিয়ার মুনাফেকী নূতনভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের জাগরণ দরকার।
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত প্রতিরক্ষা কৌশলের জরুরি রূপরেখা (পর্ব-২)
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নওমুসলিমদের আইনি সুরক্ষা ও তথাকথিত ‘ডিটেনশন সেল’ উচ্ছেদের দাবি
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৫০ লক্ষাধিক সেনাবাহিনীর জন্য বাংলাদেশের বাংকার নেটওয়ার্কের রূপরেখা (পর্ব ৯)
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পোর্কোন্নয়ন কেন শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে? অনন্য উচ্চতায় উঠা এ সম্পর্ক কেন ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উজ্জীবিত হবে না? (১ম পর্ব)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা: বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই অথচ ১৬৫০ থেকে ১৭৫০-এই ১০০ বছরে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোই বাংলা থেকেই ৩ লাখ গজ থেকে ৩ কোটি গজ কাপড় রপ্তানি করেছে। এই বিপুল উৎপাদনে এই বাংলাদেশই কীভাবে তুলার যোগান দিল?
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশের ৪ কোটি মানুষ না খেয়ে থাকে। অথচ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার শস্য নষ্ট হয় খাদ্য অপচয় রোধ করতে ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই’- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই নির্দেশ সমাজের সর্বাত্মক প্রতিফলন ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অলস জমিদারের কায়দায় বসে বসে তালুক বিক্রী করে খাওয়ার মতই জ্যামিতিক হারে ঋণ বাড়িয়ে চলছে সরকার ২০২৮-২৯ অর্থবছর ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো রফতানী বৃদ্ধি ও বহুর্মুখীকরণ করার উদ্যম নেই সরকারের দেশ জাতিকে করে যাচ্ছে সুদী মহাজনদের কাছে জিম্মি ও বিক্রী।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












