প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
জনমনে তাই জোরালো প্রশ্ন একই ধারাবাহিকতাই অন্যান্য সরকারী কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ সম্বোধন করতে হবে কেন? হক্কানী-রব্বানী আলিমদের মতে ইংরেজী নিয়মে ‘স্যার’ ডাকা জাহান্নামী যাওয়ার কারণ।
, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
এর আগে গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
প্রসঙ্গত সারাদেশে সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে যে, যেখানে রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে ‘মাননীয়’ বাদ দেয়া হচ্ছে সেখানে অফিস আদালতে ‘স্যারের’ প্রচলন থাববে কেন?
সম্প্রতি একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্যার না বলায় এক ব্যবসায়ীকে লাঠিপেটা করা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে।
‘স্যার’ না বলায় সাংবাদিকদের উপরে চটেছিলো প্রশাসনের আর এক কর্মকর্তা।
বাস্তবতা হচ্ছে সাধারণ জনগণ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ সম্বোধন করে এটি যেকোনো সরকারি দপ্তরে, যেকোনো সময় গেলেই দেখা যাবে।
সাধারণ জনগণ চতুর্থ শ্রেণীর উপরে যেকোনো কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলবে সেটাই বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এর ব্যত্যয় হলেই মুশকিল।
‘স্যার’ (ঝরৎ) শব্দের উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ ‘সেনিয়র’ (ঝবহরড়ৎ) থেকে এবং এর অর্থ বয়োজ্যেষ্ঠ বা সম্মানিত ব্যক্তি।
শব্দের উৎস ও বিবর্তন
* ল্যাটিন শব্দ ‘সেনিয়র’ (ঝবহরড়ৎ) থেকে মধ্যযুগের ফরাসি ভাষায় আসে ‘সায়ার’ (ঝরৎব), যা পরবর্তীতে ইংরেজিতে 'স্যার' (ঝরৎ) রূপ নেয়।
* ত্রয়োদশ শতকের দিকে ইংল্যান্ডে নাইট বা রাজকার্যপ্রাপ্ত সম্মানিত ব্যক্তিদের নামের আগে ‘স্যার’ বা ‘সায়ার’ ব্যবহার করা হতো।
* ষোড়শ শতকের মধ্যে এটি শিক্ষক, সামরিক কর্মকর্তা ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের সম্মান দেখানোর জন্য সাধারণ সম্বোধনে পরিণত হয়।
* দক্ষিণ এশিয়া তথা ভারতীয় উপমহাদেশে ১৭ শতকের দিকে ব্রিটিশ শাসনকালে ঔপনিবেশিক প্রভাবের হাত ধরে ‘স্যার’ এবং ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনের প্রচলন শুরু হয়।
১৮৩৫ সালে ম্যাকলে তার ‘মিনিটস অব ইন্ডিয়ান এডুকেশন’ বইয়ে লিখেছে, উপনিবেশে এমন একটি শ্রেণি গড়ে তুলতে হবে যারা “রঙে ভারতীয়, কিন্তু রুচিতে-বুদ্ধিতে ও ভাবনায় ব্রিটিশ‘’।
এই নীতির অধীনে ভারতে গড়ে ওঠে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা এবং তার সঙ্গে আসে ব্রিটিশ সামাজিক রীতি যার একটি ছিল কর্তৃপক্ষকে ‘স্যার’ বলা।
শিক্ষক, ম্যাজিস্ট্রেট বা কর্মকর্তা, যারা শাসনের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সে সময় এই সম্বোধন বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে।
বাংলায় আগে কর্মকর্তাদের ‘সাহেব’ বলে সম্বোধন করার প্রচলন ছিল। সাহেব শব্দটি আরবি সাহাবী শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ সঙ্গী, সাথী, সহচর কিংবা বন্ধু।
মূলত ইরানিরা ভারতবর্ষে আসার পর ‘সাহিব’ শব্দটির প্রচলন ঘটে। পরে তা সাহেব বা সায়েব-এ রূপ নেয়। তখন পদবির সাথে সাহেব যোগ করে ডাকা হতো যেমন- কাজি সাহেব, সচিব সাহেব, চৌধুরী সাহেব।
তবে ইংরেজরা এদেশে আসার পর সেই সাহেব বা সায়েব সঙ্গী হিসেবে নয়, বরং ‘কর্তা’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে ‘স্যার’ এর বিকল্প শব্দ হিসেবে ‘সাহেব কখনো সেভাবে গৃহীত হয়নি।
অথচ বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৩ ও ১৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ বা ‘সরকারি কর্মচারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোথাও ‘কর্মকর্তা’ বলা হয়নি। তাদের মূল পরিচয় জনগণের সেবক হিসেবে।
অথচ সরকারি কর্মচারীদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে না ডাকায়, তার পরিবর্তে ভাই, আপা বা দাদা সম্বোধন করায় বিভিন্ন সময়ে সেবাগ্রহীতারা নানা বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়ার নানা খবর প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে।
জনপ্রশাসন বা সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার বা ম্যাডাম’ নামে সম্বোধনের রেওয়াজ বা রীতি যুগযুগ ধরে চলে এলেও ১৯৯০ সালে তা রদ করা হয়। ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর সেই সময়ের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক সংলাপে বলেছিলো, “সরকারি সেবা নিতে আসা জনসাধারণকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধনের কোনো নীতি নেই।”
এটি হচ্ছে ব্রিটিশ শাসনের ভূত। মগজে শাসনের ভূত। আমাদের দেশের লোকেরা দায়িত্ব বা ক্ষমতা পেলেই শাসন করতে চায়। বিশেষ করে যাদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থাকে। যে কারণে জনপ্রতিনিধি, তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হন কিংবা মন্ত্রী-তাদের স্যার বলার কোনও রেওয়াজ নেই এবং তাদের স্যার না বললে তারা মাইন্ডও করেন না। কিন্তু খুব ব্যতিক্রম না হলে একজন সাধারণ অফিসারও স্যার না শুনলে মনে করে সেবাগ্রহীতা জনগণ বোধহয় তাকে সম্মান দিচ্ছে না। অর্থাৎ জনগণ তাকে সম্মান দিলো কী দিলো না, সেটি নির্ভর করছে স্যার ডাকার ওপরে।
‘সার’ ডাকা প্রতেক্য মুসলমানের পরহেজ করা উচিৎ। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে স্যার ডাকা হারাম ও জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশা মুবারক হয়েছে, যে যেই সম্প্রদায়ের সাথে মিলরাখে তার হাশর-নশর তার সাথে হবে।’
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাঁটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম দেশগুলোর উচিৎ মক্কা চুক্তিকে আরো বিশুদ্ধ ও বিস্তৃত করা যাতে ভারতের গোস্বা এত বাড়ে যে তাদের গোস্বার অনলেই তারা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুবিশাল এই বাজারে প্রবেশে অনেকটাই ব্যর্থ বাংলাদেশ।
৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












