“গরু খাওয়া মুসলমান”- তাচ্ছিল্যসূচক বাক্য ব্যবহার কতটুকু শরীয়তসম্মত?
, ২৬ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৫ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০১ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) আপনাদের মতামত
অনেকে এ অঞ্চলের মুসলমানদের ঈমানী দুর্বলতা বা মূলধারার মুসলমান নয়-এমন ধারণা বোঝাতে “গরু খাওয়া মুসলমান”নামে একটি তাচ্ছিল্যসূচক বাক্য ব্যবহার করে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বাক্যটির ব্যাপক প্রচলন ঘটানোরও চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বোঝাতে চায়, গরুর গোশত খাওয়ার মতো একটি সাধারণ বিষয়কে এ অঞ্চলের মুসলমানরা ঈমানের শর্ত মনে করে; সুতরাং তারা নি¤œশ্রেণির মুসলমান। (নাউযুবিল্লাহ)
মূলত বিষয়টি এমন নয়। আমাদের এ অঞ্চলে যেহেতু হিন্দু মুশরিকদের বসবাস রয়েছে এবং তারা গরুর গোশত খাওয়ার বিরোধী, অপরদিকে মুসলমানরা গরুর গোশত খায়-তাই গরুর গোশত এখানে ঈমান ও কুফরের পার্থক্যকারী একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত। সে হিসেবে গরুর গোশত খাওয়া দ্বীন ইসলাম উনার একটি শিয়ার (নিদর্শন)।
কোনো হালাল প্রাণীর গোশতও যে ঈমান ও কুফরের পার্থক্যকারী হতে পারে, তার দলিল পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা বাক্বারার ২০৮ নম্বর আয়াত শরীফ উনার শানে নুযূল সম্পর্কে বলা হয়েছে-
“বিশিষ্ট ছাহাবী আব্দুল্লাহ বিন সালাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি পূর্বে ইহুদী ধর্মের অনুসারী ছিলেন। ইহুদীরা উটের গোশত খায় না। সে কারণে আব্দুল্লাহ বিন সালাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনিও কখনো উটের গোশত খান নাই। যেহেতু তিনি উটের গোশত কখনো খান নাই সেহেতু ঈমান এনে মুসলমান হওয়ার পর উটের গোশত খাওয়া উনার জন্য বিব্রতকর ছিলো। তিনি একদিন বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমিতো কখনো উটের গোশত খাই নাই, আমাকে উটের গোস্ত না খাওয়ার অনুমতি দিন। এসময় আল্লাহ পাক ওহী নাজিল করলেন- “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণ ভাবে প্রবেশ কর। শয়তানকে অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।" (সূরা বাক্বারা শরীফ : ২০৮)
অর্থাৎ যদিও উটের গোশত খাওয়া ফরজ নয়, কিন্তু এ আয়াত শরীফ অনুসারে, ইহুদী ধর্মের বিষয়টি যখন সামনে আসছে, তখন উটের গোশত একজন মুসলমানের জন্য ফরজ হয়ে গেছে, ঈমানের অঙ্গ হয়ে গেছে। তেমনি গরুর গোশত খাওয়া ফরজ নয়। ঠিক তেমনি হিন্দু ধর্মের আকিদার বিষয়টি যখন আসে, তখন মুসলমানদের জন্য গরুর গোশত খাওয়া ফরজ হয়ে যায়, ঈমান ও কুফরের পার্থক্যকীকরণ হয়ে যায়।
অতএব, “গরু খাওয়া মুসলমান”- এ ধরনের তাচ্ছিল্যসূচক বাক্য ব্যবহার কখনোই শরীয়তসম্মত নয়; বরং এটি পবিত্র ঈমান-আকীদার বিষয়কে হেয় প্রতিপন্ন করার নামান্তর, যা কুফরীর সামিল। নাউযুবিল্লাহ।
মহান আল্লাহ পাক সবাইকে এ ধরনের কুফরী বাক্য ব্যবহার করা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
-আমীমুল ইসলাম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রির আগে যে কাজ না করলে বিপদ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পেগাসাসের জাল বিস্তার বাংলাদেশেও। সবাই সাবধান।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষের বাহিনী ও ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রের মহাপ্রস্তুতি (পর্ব-৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিজিবির দায়িত্ব সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক আইনের বিজয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাতক্ষীরায় মসজিদ ভাঙার ধৃষ্টতা এবং আইনের শাসনের জরুরি প্রয়োজনীয়তা
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বঙ্গোপসাগরে সাম্রাজ্যবাদী নব্য-ক্রুসেডারদের সামরিক আগ্রাসনের এক পৈশাচিক ফাঁদ
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৭)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের কৌশলগত নিরপেক্ষতার সামনে নতুন ভূরাজনৈতিক ফিৎনা
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করতে হবে
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
৫১ কোটির জনসংখ্যার জন্য ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনী প্রয়োজন সাইবর্গ পদাতিক: এক্সোস্কেলিটন প্রযুক্তিতে মুসলিম বিশে^র যুগলবন্দি (পর্ব-২)
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৫১ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ৫০ লক্ষাধিক নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত অপরিহার্যতা ও সামরিক রূপরেখা (পর্ব-১)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












