মন্তব্য কলাম
৭১ এ তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধীতার নামে। তবে তারা ২০২৬- এ আমেরিকার আধিপত্যবাদী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় নামছে না কেন?
, ২৩ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ মে, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
ভারত বাংলাদেশ চুক্তিকে তারা গোলামীর চুক্তি বলে কঠিন আওয়াজ তুলেছিলো?
আজ আমেরিকার প্রকাশ্য গোলামী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে তারা নীরব কেনো?
দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধীরাও বৈষম্য করছে। (১ম পর্ব)
জামাত সাধারণ সমর্থকও যে আয়াত শরীফের নামে প্রথমেই সম্পৃক্ত হয় তা হলো: “তোমার সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে”। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩/১১০)
তথাকথিত জামাতের শিবিরের কর্মী, রোকন, সদস্য থেকে নেতা এই আয়াত শরীফ কতবার আওড়িয়েছে, আওড়ায়। তথাকথিত জামাতের আমীর নিজেও কতবার উচ্চারণ করেছে সে সংখ্যা নিয়েও বিশেষ প্রশ্ন তোলা যায়?
প্রশ্ন হলো যে আয়াত শরীফের উচ্চারণ দেশ বিরোধী মুসলমান বিরোধী, ইসলাম বিরোধী, বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে নাই কেনো?
তথাকথিত জামাতীরা যে কত জোরে হুক্কা হুয়া করতে পারে তা সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন স্বদেশ-বিদেশে সবাই আশ্চর্য্যজনকভাবে দেখেছেন।
সেই উচ্ছৃঙ্খল শোরোগোলের জামাত বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে নীরব কেনো?
জামাত সদ্য সংসদ অধিবেশনে কুখ্যাত সংস্কারের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা আওয়াজ করেছে।
সংসদে এবং রাজপথে আন্দোলনের হুমকী দিয়েছে।
রাজপথে নেমেছে।
বিশাল সমাবেশ করেছে।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে বাণিজ্যচুক্তির বিরুদ্ধে তো নয়ই এমনকী বাণিজ্য চুক্তির বিষয়েও কোন আলোচনা সংসদে করেনি।
কেবলমাত্র স্বতন্ত্র মহিলা সংসদ সদস্য এ বিষয়ে উচ্চ কণ্ঠ হয়েছিলেন। কিন্তু স্পীকার ২ মিনিট পরেই তার মাইক বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
কিন্তু কেনো?
এর জবাব এখন অজানা নয়।
চুক্তির কুখ্যাত সমন্বয়কারী, যে ছিলো- সুদখোর, শুকরখোর, সমকামী প্রধান উপদেষ্টার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা- সে সমালোচনার ঝড়ে মুখ ফসকে প্রকৃত সত্য উচ্চারণ করে ফেলেছে।
সে এ চুক্তিতে গোপনীয়তার কথা অস্বীকার করে প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছে, বিএনপি-জামায়াত দু’দলই এ চুক্তির বিষয়টি অবহিত। তার এ দাবি যে সত্য, তার প্রমাণ দল দুটির কেউই এ বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়নি।
চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে। চুক্তির বিষয়াদির মধ্যে রয়েছে শুল্ক হ্রাস, অশুল্ক বাধা অপসারণ, ডিজিটাল বাণিজ্য, শ্রম অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা।
তা জানাজানি হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে।
এরপর চুক্তির অনুলিপি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। তখনও এ নিয়ে কথামালা আজকের পর্যায়ে আসেনি।
নির্বাচনের সময় বা নির্বাচনের পরও তেমন আলোচনায় আসেনি। বিপুল ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় বসার পরও নয়। কথার ধুম জমেছে গত ক’দিন। চুক্তিবিরোধী পক্ষের বয়ান অনেক। বলা হচ্ছে, এ চুক্তির বিষয়গুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সীমাহীন নিয়ন্ত্রণ।
ট্রাম্প প্রশাসনের অনুগ্রহ পাওয়ার আশায় বাংলাদেশকে সরাসরি মার্কিন প্রভাব বলয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে আরো কতো কথা। কুখ্যাত পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরণের গোপন চুক্তি বা চুক্তির আওতায় জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নেওয়ার দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
বিদ্যমান সব চুক্তিই প্রকাশ করা হয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও এ চুক্তিটি সম্পর্কে অন্তর্বর্তী সরকার জাতিকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেনি।
এমনকি জাতীয় সংসদেও এ চুক্তির ওপর সরকারি বা বিরোধী দল কোনো কথা বলেনি। এ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সব মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেবে অর্থাৎ, কার্যত বাংলাদেশের বাজারে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেই প্রক্রিয়ায় গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছিল।
তখন আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তি জাতীয় সংসদে আলোচনা করার ব্যাপারে বিএনপি-জামায়াতসহ আলোচনায় অংশ নেওয়া দলগুলো একমত হয়েছিল।
এখন কী হবে? এ প্রশ্নের জবাবের অংশ হচ্ছে, ওই চুক্তি অনুযায়ী এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার আনুষ্ঠানিক ক্রয়চুক্তি বৃহস্পতিবার রাতে সই করলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
বিমানগুলো কিনতে খরচ হতে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সামনে কি হবে-তা বোঝা কঠিন নয়।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘দ্যা গ্রেট রিসেট’ ও নমরুদী মশার প্রতিশোধের এক চরম ইহুদী-নাসারায়ী নীলনকশা!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিদ্যুতের বিল বার বার বাড়ানো শোষক জমিদারি কায়দায় চক্র বৃদ্ধি হারে খাজনার চাবুক মারা অথচ বিদ্যুতে শুধু চুরি নয়, সব দিক থেকে সাগর চুরি হচ্ছে। সে চুরির ক্ষত পোষাতে জনগণের উপর খাজনা বৃদ্ধি করে চোরদের উৎসাহ ও প্রনোদনা এবং নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সে যুগেও হুসাইন আহমদকে ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের কংগ্রেসের পা চাটা- গোলাম প্রচারণা করা হলেও থানভী গংরা তা বুঝতে পারলো কৈ? আজকে পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার মসজিদ ভাঙ্গা ও লাখ লাখ মুসলমানদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদ গ্রহণে বাধ্য করার মত মহা জুলুমের মূলে হোসেন আহমদের সর্ব ভারতীয় জাতীয়বাদ।
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আকাশের অতন্দ্র প্রহরী: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (১ম পর্ব)
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কিন্তু গতকাল গুগল, ফেইসবুকে অসংখ্য আইডি থেকে প্রচারিত- ‘তারেক রমমান নারিকেল দ্বীপ (সেন্টমার্টিন দ্বীপ) আমেরিকাকে দিয়ে দিয়েছেন নারিকেল দ্বীপ এখন মার্কিন ঘাটি হবে’- ইত্যকার প্রচারণা দেশবাসীকে হতভম্ব করছে। সর্বপোরি সরকারের দলীয় বা প্রশাসনের তরফ থেকে এটাকে গুজব না বলায়- হতাশা চরম আকার ধারণ করেছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বর্বর আম্রিকা আর সন্ত্রাসী ইসরাইলের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কিন্তু মুসলিম দেশ ইয়েমেন থেকে শুরু করে সোমালিয়া-লিবিয়া হতে সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চালিয়ে রাখছে আরব-আমিরাত ভয়াবহ মানবেতর সংকটে সুদান, সহিংসতা-রোগ-দুর্ভিক্ষে দিশাহারা মানুষ সুদানের রক্তপাত বন্ধে মুসলিম বিশ্বকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে এক্ষুনি
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে এক শতাংশ ছাড়! এ কেমন কালোচুক্তি? প্রকৃতপক্ষে গোলামীর চুক্তি
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












