১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১২)
, ০৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২১ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
বালাকোটের জিহাদ ও মুজাহিদে মিল্লাত, আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শাহাদাত মুবারক:
আলামুল হুদা, মুজাহিদে আ’যম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শাহাদাত লাভ ও বালাকোটের জিহাদের আলোচনা করার আগে উনার আরো একটি আশ্চর্য ও বিস্ময়কর বড় কারামতের আলোচনা করা প্রয়োজন। আর তা হচ্ছে-
একবার উনার কিছু খাছ খলীফা ও মুরীদান উনাকে অত্যন্ত আদবের সহিত জিজ্ঞাসা করলো, হুযূর! এই ভারত বর্ষের লোকেরা হচ্ছে, পীর ও মাযার ভক্ত। এদেশে এমন বহু অশিক্ষিত, আনপড়, বিদ্য়াতী, ভন্ড, ফকীর আছে যারা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও সম্মানিত শরীয়তের কোন জ্ঞানই রাখেনা। তারা গাইরুল্লাহর নামে মানত করে থাকে। পবিত্র মাযার শরীফ যিয়ারতের নামে পুরুষ-মহিলা একত্রে বেপর্দা হয়ে সম্মানিত শরীয়তের সীমা লঙ্ঘন করে। তাদের ধারণা সর্বক্ষণ তারা মাযারে শায়িত বুযূর্গ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পাশে এভাবে থাকতে পারলে তাদের দয়া ও নেক দৃষ্টি লাভ করতে পারবে।
এছাড়া আমাদের সমাজে আরো বহু নামধারী পীর, ফকির আছে যারা সম্মানিত শরীয়তের কোনই তোয়াক্কা করে না, সর্বক্ষণই পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের খেলাফ চলে এবং মানুষকে সম্মানিত দ্বীন থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তাদের দরবারেও বহু মানুষের আনাগোনা রয়েছে। আর আপনি হচ্ছেন এই ভারত বর্ষের হক্কানী-রব্বানী বুযূর্গ পীর সাহেবদের পীর-মুর্শিদ।
আপনি যদি ইন্তিকাল করেন তবে তো আপনার কামালত বেলায়েতের সম্মানের দিকে লক্ষ্য করে মানুষ আপনার জিসিম মুবারক মাটিতে না রেখে মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াবে। মুরীদানদের এই প্রশ্নের জবাবে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তোমরা নিশ্চিত থাকো, মহান আল্লাহ পাক আমাকে তিনটি ওয়াদা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে তিনটি ওয়াদা দিয়েছেন অর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার সাথে আমার তিনটি চুক্তি হয়েছে।
প্রথমতঃ মহান আল্লাহ পাক আমাকে ওয়াদা দিয়েছেন, আমি ও আমার সাথীরা অর্থাৎ মুজাহিদ বাহিনীরা যেখানেই থাকি না কেন তিনি সেখানেই কুদরতীভাবে রিযিক পৌঁছাবেন। দ্বিতীয়তঃ আমাকে কোন যাদু-টোনা, বান, বিষপান ইত্যাদি করা হলে সেটার কোন ক্রিয়া করবে না। আর তৃতীয়তঃ আমার ইন্তেকালের পরে কেউ আমার জিসিম মুবারক (দেহ মুবারক) খুঁজে পাবে না।
হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এই তিনটি কথাই পরবর্তীতে হুবহু সত্য পরিণত হয়েছিলো। যেমন, রিযিকের ব্যাপারে হযরত মুজাহিদে আ’যম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও উনার মুজাহিদ বাহিনীদের দেখা গেছে, উনারা এমন এক জনমানবহীন প্রান্তরে অথবা জঙ্গলে মোরাকাবায় মুশাহাদায় মশগুল আছেন অথবা তিনি উনার মুজাহিদ বাহিনীদের যুদ্ধ বিদ্যার প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখা গেলো কোথা থেকে অচেনা, অজানা অপরিচিত লোক তাদের সামনে উপাদেয় খাদ্য ভরা পাত্র রেখে চলে গেছেন। এই ধরণের ঘটনা কেবলমাত্র উনার জীবনে একবার নয় বরং অসংখ্য ও বহুবার দেখা গিয়েছে।
সিধুর যুদ্ধে মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রে উনার খাদ্যের মধ্যে বিষ মিশ্রিত করা হয়েছিলো। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ মেহেরবানী ও রহমত মুবারকের কারণে তিনি সেই বিষ মিশ্রিত খাদ্যভক্ষণ করেও সুস্থতা লাভ করেছেন।
১৮৩১ সালে শিখদের সাথে বালাকোটের প্রান্তরে যুদ্ধ করতে গিয়ে তিনি শহীদ হয়েছেন। বড় আশ্চর্য ও বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে- ১৮৩১ সালের পর থেকে আজ ২০০০ সালের মধ্যেও অর্থাৎ এই দীর্ঘ প্রায় দু’শ বছরের ব্যবধানে আজ পর্যন্ত কেউ উনার মাযার শরীফের সন্ধান দিতে পারেনি। এমনকি বালাকোট ফেরত উনার বহু মুরীদ, খলীফা, মুজাহিদগণ পর্যন্ত যুদ্ধের ময়দানে শাহাদাতের পর উনার হুবহু শরীর মুবারক দেখেছেন একথারও কোন প্রমাণ বা স্বাক্ষ্য কোন কিতাবে মিলে না। সুবহানাল্লাহ!
এ থেকেই প্রমাণিত হয় যে, মুজাদ্দিদে যামান, আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কত বড় মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী ছিলেন। এ ঘটনা আল্লামা নবাব ওয়াজীরুদ্ দৌল্লা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার “ওয়াসীলে ওয়াজীর আলা তরীকুল বাশীর ওয়ান নাজীর” কিতাবে, আল্লামা গোলাম রসূল মেহের তার বিশ্ব বিখ্যাত “সাওয়ানে আহমদী” কিতাবে এবং শাইখুল হিন্দ, হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ আবুল হাসান নদভী উনার সাড়া জাগানো সীরাত গ্রন্থ “সীরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ” কিতাবে বর্ণনা করেছেন।
হযরত আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জিহাদী আন্দোলনের দু’টি গতিধারা লক্ষ্য করা যায়। প্রথমতঃ ভারতভূমি হতে চিরতরে ইংরেজ শক্তির মূলোৎপাটন করা। দ্বিতীয়তঃ পাঞ্জাবের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো হতে শিখ ও পাঠান মুনাফিক মুসলমান সর্দারদের অস্তিত্ব মিটিয়ে দেয়া।
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১১)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১০)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৯)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৮)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৯ম পর্ব)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৭)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৮ম পর্ব)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৭ম পর্ব)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬ষ্ঠ পর্ব)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রতিও বিশুদ্ধ আক্বীদা ও হুস্নে যন পোষণ করা অত্যাবশ্যকীয়
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












