১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৯)
, ২৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১২ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
উনার কতিপয় কারামত মুবারক:
(৯)
“তাওয়ারিখে আযীবা” কিতাবের ২৪ পৃষ্ঠায় ও “কারামতে আহমদী” কিতাবের ৫৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, হিন্দুস্থানে যে সময় দুর্ভিক্ষের জন্য মানুষ নিজেদের সন্তানদেরকে বিক্রয় করতে বাধ্য হতো সেই সময় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে শতাধিক লোক প্রতিদিন সন্ধ্যায় খাবার খেতো। উনার খাদ্য ভান্ডারের জিম্মাদার মৌলভী মুহম্মদ ইউসুফ সাহেবের প্রতি তিনি আদেশ মুবারক করেছিলেন, সকল লোকের জন্য একই প্রকার খাদ্য প্রস্তুত হবে আর খাদ্য প্রস্তুত হলে বড় বড় ডেকচিতে রেখে চাদর দিয়ে যেন ঢেকে রাখা হয়। তারপর হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে খাদ্যবস্তুকে হাত দ্বারা স্পর্শ করে এই দোয়া পড়তেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! ইহা বৃদ্ধি করে দিন এবং এতে বরকত দান করুন।
অবশেষে দশ দশ কিংবা বিশ বিশ জনকে একত্রে বসিয়ে বড় বড় পাত্রে খাবার খাওয়ানো হতো। যদিও দুর্ভিক্ষের জন্য খাদ্য অল্প পরিমাণ প্রস্তুত করা হতো অথচ এতে এতো বরকত হতো যে, সমস্ত কাফেলার লোক তা ভক্ষণ করে তৃপ্তি লাভ করতো এমনকি কখনো কখনো কিছু খাদ্য বেশী হয়ে যেতো। সুবহানাল্লাহ!
(১০)
“তাওয়ারিখে আযীবা” কিতাবের ৫৪-৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, মৌলভি মুহম্মদ আলী রামপুরী সাহেব লিখেছেন যে, কলকাতায় গোলাম হুসাইন নামক একজন বড় অর্থশীল দালাল ছিলো। তার ৯০ লক্ষ টাকা ছিলো। কোটি টাকা পূর্ণ করার জন্য দিবা-রাত্রি তার আকাঙ্খা ছিলো। ঐ ব্যক্তি বড় মদখোর, বদকার ছিলো। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে তার অতিশয় শত্রুতার সৃষ্টি হয়েছিলো, যেহেতু তিনি নৃত্যাগীত, মদপান ইত্যাদি আমোদ-প্রমোদের বিষয়গুলো নিষেধ করতেন। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তার অবাধ্যতা অবগত হয়ে কিছুই বলতেন না। একদিন তিনি আছরের নামায পরে এক ময়দানে ভ্রমণ করছিলেন। সেই সময় তিনি হঠাৎ মাথা থেকে টুপি খুলে বললেন, গোলাম হুসাইন দালালের উপর এখনই মহান আল্লাহ পাক উনার গযব নাযিল হলো।
তারপরে তিনি শহরে পৌঁছে শুনলেন যে, উক্ত দালাল ঠিক সেই সময় উম্মাদ হয়ে গিয়েছে। যখন তার চৈতন্য লাভ হতো তখন সে চিৎকার করে বলতো যে, হয় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে আমার নিকট আনয়ণ করো, না হয় আমাকে উনার নিকট নিয়ে যাও। লোকেরা তাকে খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট নিয়ে গেলে সে একটু আরোগ্য লাভ করতো এবং সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করলে পুনরায় উম্মাদ হয়ে যেতো। অবশেষে ঐ অবস্থায় বিষয় সম্পত্তি ত্যাগ করে মারা যায়।
“তাওয়ারিখে আযীবা” কিতাবের ৫৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হজ্জে যাওয়ার সময় আদন বন্দরে উপস্থিত হলে তিনি কয়েকজন লোকসহ একটি নৌকায় উঠে বন্দরে নামলেন। শহরটি বন্দর হতে দূরে অবস্থিত। এদিকে সূর্যের এতো প্রচন্ড তাপ যে এক পা চলাও কঠিন। সেখানে উট ইত্যাদি কোন প্রকার যানবাহন ছিলো না। আবার কারো পায়ে জুতা ছিলো না। অনুসন্ধানে অবগত হওয়া গেলো যে, সামনের পাহাড়ে ভাড়ায় উট পাওয়া যায়। কিন্তু উক্ত প্রচন্ড সূর্যের তাপে পাহাড় পর্যন্ত গিয়ে উট নিয়ে আসা সাধ্যাতীত ছিলো।
তখন সঙ্গীরা নিরুপায় হয়ে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট আবেদন করলেন। এতে তিনি বললেন, তোমরা চিন্তা করো না, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের আবশ্যকীয় বিষয় আমাদের জন্য সংগ্রহ করে দিবেন। তারপর তিনি সকলকে সাত সাতবার পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পড়তে বললেন। তাদের উক্ত পবিত্র সূরা শরীফ পড়া শেষ হতে না হতেই পাহাড়ের দিক হতে কয়েকটি উট সোজাভাবে উনাদের নিকট এসে উপস্থিত হলো এবং উনাদেরকে উটের পরিচালকরা তাদের উটের উপর উঠিয়ে আদন শহরে পৌঁছে দিলো। শহরে পৌঁছে দেয়ার পরে উটগুলো ও তৎসমূদয়ের পরিচালকগণ অদৃশ্য হয়ে গেলো। ভাড়ার টাকা দেয়ার উদ্দেশ্যে তাদেরকে খোঁজা হলো কিন্তু তাদের সন্ধান পাওয়া গেলো না। শহরের কাজির নিকট উট পরিচালকগণের রূপ ও চেহারার কথা প্রকাশ করা হলো ও তার নিকট তাদের ভাড়ার টাকা জমা রাখার প্রস্তাব করা হলো। কিন্তু কাজী সাহেব বললেন, এরূপ চেহারার উট পরিচালকরা এখানে নাই। কোন গায়েবী সাহায্য আপনাদের নিকট পৌঁছেছিলো, যদি আপনারা এই প্রচন্ড তাপে উক্ত সাহায্য প্রাপ্ত না হতেন তবে আপনারা বিনষ্ট বা ধ্বংস হয়ে যেতেন।
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৮)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৯ম পর্ব)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৭)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৮ম পর্ব)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৭ম পর্ব)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬ষ্ঠ পর্ব)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রতিও বিশুদ্ধ আক্বীদা ও হুস্নে যন পোষণ করা অত্যাবশ্যকীয়
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫ম পর্ব)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৩য় পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












