বিজ্ঞান
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (২)
, ০৬ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৮ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১২ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) বিজ্ঞান মুসলমান উনাদেরই অবদান
আমরা এখানে কেবল হালাল ও হারাম খাদ্য নিয়েই আলোচনা করবো। বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে বিভিন্ন প্রাণীজ এবং ভেষজ উপকরণ থেকে বিভিন্ন উপাদান তৈরি করে তা মেশানো হচ্ছে বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্যে। সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা নির্ণয় করা খুবই কঠিন- যে কোনটি হালাল আর কোনটি হারাম। বিশেষ করে যে সকল মুসলমান কাফিরদের দেশে অবস্থান করছে এবং যারা বিধর্মীদের তৈরি খাদ্য উপাদান আমদানি করে এবং সেগুলো সহযোগে বিভিন্ন খাদ্য-দ্রব্যের প্রোডাক্ট তৈরি করছে, সেখানেও থেকে যাচ্ছে নানান সন্দেহ। ফলে আমরা পর্যায়ক্রমে একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। ইনশাআল্লাহ!
যাতে সধারণ মানুষ সহজেই বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে যে- কোন উপাদান থাকলে প্রোডাকক্টি হালাল হবে আর কোনটি হবে হারাম।
পর্যায়ক্রমে আমরা নীচের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ!
১) ই-কোডের (E-Code) কথা।
২) হালাল হারাম নিয়ে কথা।
৩) হালাল ও হারাম খাদ্য উপাদানের তালিকা।
৪) খাদ্য ও পণ্যদ্রব্যে ভেজাল ও বিষক্রিয়াঃ একটি বহুমাত্রিক জটিল সমস্যা।
৫) হারাম ও সন্দেহজনক উপাদানের বিশেষ তালিকা।
৬) যেসব উপাদান প্রাণীর উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয় তার তালিকা।
৭) ই-কোডের বিশদ আলোচনা।
১) ই-কোডের (E-Code) কথা:
ইউরোপসহ পাশ্চাত্যের সব দেশে গোশতের প্রধান উৎস হচ্ছে শূকর। এই প্রাণীর প্রজন্মের জন্য রয়েছে অনেক ফার্ম। কেবল ফ্রান্সেই আছে ৪২০০০ ফার্ম। এই প্রাণীটির গায়ে থাকে প্রচুর পরিমাণ চর্বি। কিন্তু বেশী চর্বি শরীরের জন্য ভাল নয় বলে ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকানরা এই চর্বি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে।
কিন্তু এই চর্বি কোথায় যাবে? এই প্রাণীগুলো আবার সরকারের নিয়ন্ত্রণেই মারা হয়। ফলে সরকারের জন্য এই চর্বি ফেলে দেয়া এক মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় ৬০ বছর আগে এসব চর্বি পুড়িয়ে ফেলা হতো পরে এগুলো সাবান বানানোতে ব্যবহার হতে থাকে।
পরবর্তীতে ব্যবসার নতুন এক ক্ষেত্র উম্মোচিত হয়। এই চর্বিগুলো রাসায়নিক উপাদান দ্বারা প্রক্রিয়াজাত করে, প্যাকেটে ভরে বিপণনের ব্যবস্থা করা হয়। অন্য এক কোম্পানী কিনে নিয়ে বিক্রি করা শুরু করে।
এরই মধ্যে ইউরোপে নতুন আইন চালু হয় যেন সকল খাদ্য, ওষুধ, ব্যক্তিগত ব্যবহারের সকল প্রোডাক্টের মোড়কে সব উপাদানের নাম উল্লেখ করা থাকে। ফলে লেখা হতে থাকে "চরম ঋধঃ" বা শূয়রের চর্বি। চল্লিশ বছর আগে যারা ইউরোপ গিয়েছেন তাদের এই বিষয়টি জানা আছে। কিন্তু সকল মুসলিম দেশ তখন এ সকল প্রোডাক্টের ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। ফলে দেখা দেয় ব্যবসার মধ্যে মন্দা।
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের কথা আমাদের জানা আছে। তখন রাইফেলের বুলেট তৈরি হতো ইউরোপে আর সমুদ্র পথে তা ভারতবর্ষে আসতো। কিন্তু সাগর পথে বুলেট আসতে মাসের পর মাস সময় লাগতো তাছাড়া বন্দুকের বারুদ সমুদ্রের আবহাওয়াতে নষ্ট হয়ে যেতো বলে এই প্রাণীর চর্বি দিয়ে প্রলেপ দেয়া হতো। কিন্তু বুলেট ব্যবহারের পূর্বে দাঁত দিয়ে কামড়ে এই চর্বির আবরণ ছিঁড়ে ফেলতে হতো। যখন এ কথা প্রচার হয়ে যায় তখন মুসলমান সৈনিকগণের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়, যা পরিনামে গৃহযুদ্ধ ডেকে নিয়ে আসে। ইউরোপিয়ানদের এই ইতিহাস জানা আছে। তাই তারা "চরম ঋধঃ" লেখা বন্ধ করে দিয়ে "অহরসধষ ঋধঃ" বা প্রাণীর চর্বি লেখা শুরু করলো। পরবর্তীতে তাদের যখন প্রশ্ন করা হতো কোন প্রাণীর চর্বি তখন বলা শুরু করলো গরু, ভেড়া ইত্যাদি। তখন মুসলমানরা হালাল উপায়ে যবেহ না বলে আবারো ইউরোপিয়ানদের পণ্যের ব্যবহার বন্ধ করে দিলে কাফিররা নতুন ষড়যন্ত্র আঁটে। কারণ মুসলিম দেশ থেকে তাদের আয়ের প্রায় ৭৫ ভাগ আসতো।
তারপর থেকে সরাসরি উপাদানের নাম না লিখে ই-কোড ব্যবহার শুরু হয়। টুথপেস্ট, চকলেট, ক্যন্ডি, চুইং গাম, মিষ্টি, বিস্কিট, কর্ণ ফ্লেক্স, টফি, ক্যান জাতীয় দ্রব্য, ইত্তাদিতে ই-কোড লেখা হতে থাকে। তাহলে আমাদের এই ই-কোড সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন ইউরোপীয়রা উপাদান লিখতে ই-কোড ব্যবহার করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখনও উপাদানের নাম লেখা হয়।
-ফার্মাসিস্ট এবিএম রুহুল হাসান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কায়রোর ‘দারুল হিকমাহ’
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান:
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
একাডেমিক লাইব্রেরি
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলিম স্বর্ণালী যুগের লাইব্রেরির ধরণ ও পরিচালনা
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম স্বর্ণালী যুগের লাইব্রেরির ধরণ ও পরিচালনা
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
৩০০ কোটি মাইল দূরে ‘ধূমকেতুর জন্ম’ দেখছে বিজ্ঞানীরা
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ আল ইদরিসী আল কুরতুবী আল হাসানী আস সাবতী
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বরফের ছোট চাঁদের চারপাশে বিশাল তরঙ্গের জাল আবিষ্কার
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা (ধারাবাহিক) ৪. যমীন থেকে মেঘের দিকেঃ এটা বিরল প্রকৃতির।
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানরাই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: মহাকাশ বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












