বিজ্ঞান
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৭)
, ১৮ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিজ্ঞান মুসলমান উনাদেরই অবদান
২) হালাল হারাম নিয়ে কথা:
২ (ঞ) ভালো নিয়ত থাকলেই হারাম বিষয় হালাল হয়ে যায় না:
ভালো নিয়ত থাকলেই হারাম বিষয় হালাল হয়ে যায় না বরং হালাল ও হারাম পণ্য চিহ্নিত করার জন্য কিছু মূলনীতি জানা দরকার।
হালালের চিহ্ন থাকাই উক্ত বস্তু হালাল হবার নিদর্শন হতে পারে না। কারণ হালালের চিহ্ন দিয়ে হারাম পণ্যও বিক্রি করা হতে পারে। তাই উক্ত পণ্যটি কিভাবে তৈরী হয়েছে? কি দিয়ে তৈরী হয়েছে? সেটির উপর নির্ভরশীল উক্ত পণ্যটি হালাল ও হারাম হওয়া।
আর পণ্যের কোন নির্দিষ্ট সীমা পরিসীমা নেই তাই এর তালিকা প্রদান করা প্রায় অসম্ভব। তবে সময়মত বিভিন্ন উপাদানের সাথে আমরা পরিচয় করিয়ে দিবো ইনশাআল্লাহ!
তাই কয়েকটি আমরা মূলনীতি উল্লেখ করছি-
১) গোশত জাতীয় পণ্য হলে তা মুসলিমদের কাছে হালাল পণ্য কি না? তা দেখে নিতে হবে। অনেক সময় অনেক চিপস এবং সুপে চিকেন পাউডার দেয়া থাকে। চিকেনগুলো হালালভাবে যবেহ না হলে সেগুলো খাওয়া জায়িয হবে না এমনকি বিসমিল্লাহ শরীফ ও আল্লাহু আকবর রেকর্ড ছেড়ে মেশিনে যবেহ হলেও তা খাওয়া জায়িয নেই। কেউ কেউ মনে করেন সেগুলো বিসমিল্লাহ শরীফ বলে খেলেই হালাল হয়ে যাবে সেটি শুদ্ধ মত নয়।
২) অন্য পণ্যতে দেখতে হবে তাতে হারাম কোন বস্তু মিশ্রিত করা হয়েছে কি না? যদি মিশ্রিত করা হয়, তাহলে উক্ত হারাম পণ্যের মৌলিকত্ব বাকি আছে কি না? যদি বাকি থাকে, তাহলে উক্ত পণ্য ব্যবহার জায়েজ নয়। যেমন পাউডার ভ্যানিলিন ফ্লেভার তৈরি করতে এলকোহল (শরাব) লাগলেও পরে তার উপস্থিতি থাকে না। যদি হারামের মৌলিকত্ব বাকি না থাকে, তাহলে উক্ত পণ্য ব্যবহারে কোন সমস্যা নেই যেমন জিলাটিন। জিলাটিন প্রাণীর কোলাজেন থেকে তৈরি হলেও পরে সেখানে কোলাজেনের কোন অস্তিত্ব থাকে না। উদাহরণ হিসেবে বলা হয় লবণের খনিতে কোন প্রাণী পরে মারা গেলে পরে সেটিও লবণে পরিণত হয় যেখানে কোন প্রাণীর অস্তিত্ব থাকে না তখন সে লবণ খাওয়া জায়িয হয়।
৩) পণ্যটি কোন বিধর্মীদের ধর্মীয় সংস্কৃতি প্রকাশক কি না? যদি ধর্মীয় সংস্কৃতি বা কোন ফাসিকের অনুসরণীয় পণ্য হয়, যেমন খাবারের ক্ষেত্রে হিন্দুদের প্রসাদ, পোশাকের ক্ষেত্রে ধুতি, টাই ইত্যাদি। উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে কোন পণ্য হালাল আর কোন পণ্য হারাম তা নির্ণিত করে নিতে হবে। তবে কাফিরদের প্রস্তুতকৃত সকল খাবারই বর্জন করা উচিত।
৩) হালাল ও হারাম খাদ্য উপাদানের তালিকা:
কোন মুসলিম দেশ থেকে কোন খাবার আমদানি হয়ে আসলেই তা হালাল নয়। কারণ বিভিন্ন কাফেরের দেশ থেকে বিভিন্ন মুসলিম দেশে বিভিন্ন খাদ্য উপাদান যাচ্ছে যেগুলো ভালভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় না। ফলে খাবারের উপাদানগুলো সম্পর্কে কিছুটা হলেও তথ্য থাকা প্রয়োজন যদিও সকলের জন্য এ বিষয়ে অবগত হওয়া খুব কঠিন।
নীচে কয়েকটি উপাদানের নাম ও তথ্য প্রদান করা হলো যেগুলো নিয়ে বেশী সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বেকন (Bacon): শুকরের গোস্তের একটি অংশ। হারাম
কোলেস্টেরল: এক ধরণের ফ্যাট এবং সবসময় প্রাণীজ উৎস থেকেই হয়। কেবল হালালভাবে যবেহকৃত প্রাণীর হলে খাওয়ার উপযুক্ত হবে। সাধারণভাবে হারাম।
ডাইগ্লিসারাইড (Diglyceride): এক ধরণের ইমালসিফায়ার। প্রাণীজ উৎস হলে নিশ্চিত হওয়া দরকার। সাধারণভাবে হারাম।
জিলাটিন (Gelatin, Jello Gelatin): অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাণীজ উৎস এবং শুকর। কোলাজেন থেকে তৈরি হলেও জিলাটিনের মধ্যে মূল বৈশিষ্ট্য উপস্থিত থাকে না বলে হালাল তবে নিশ্চিত শুকরের উৎস হলে গ্রহণ করা তাকওয়ার খেলাফ। যবেহকৃত হালাল প্রাণীর উৎস হলে নিশ্চিতভাবে হালাল।
গ্লিসারল (Glycerol, Glycerine): এটি প্রাণীর থেকেও হয় ভেষজ থেকেও হয়। প্রাণীর উৎসগুলো যথেষ্ট সন্দেহজনক এবং ব্যবহার করা তাকওয়ার খেলাফ। তবে ভেষজ উৎসের গ্লিসারিন বাজারে পাওয়া যায়।
হরমোন (Hormones): সাধারণত যে হরমোনগুলো মানুষ ওষুধ হিসেবে গ্রহণ করে তা সংগ্রহিত হয় প্রাণী থেকে। হরমোন সয়া (ঝড়ুধ) এবং মেটে আলু বা গাছ আলু (Yam) থেকেও সংগ্রহ করা হয় তবে প্রাকৃতিক উৎস হলেই তা সবসময় নিরাপদ নয়। আবার সিনথেটিক হরমোনও তৈরি করা হয়। হালাল আর নিরাপদের বিবেচনায় এখন পর্যন্ত সিনথেটিক হরমোনে ভাল ফল পাওয়া গেছে। তবে এটি চেনা খুব দুরূহ কোনটি হালাল উৎসের আর কোনটি হারাম উৎসের। এ নিয়ে বিস্তারিত লেখা প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ। লারড (Lard): লারড এক ধরণের ফ্যাট যা শুকরের পাকস্থলীতে পাওয়া যায়। মুসলমানদের জন্য হারাম।
(চলবে)
-ফার্মাসিস্ট এবিএম রুহুল হাসান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা (ধারাবাহিক) ৪. যমীন থেকে মেঘের দিকেঃ এটা বিরল প্রকৃতির।
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানরাই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: মহাকাশ বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৫)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিখ্যাত মুসলিম প্রকৌশলী রিদওয়ান আল-সাতীর আবিষ্কার করা উমাইয়া মসজিদের ঘড়ি
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সভ্যতার বিকাশে মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার উইন্ডমিল বা বায়ুকল
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৩)
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (২)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও শল্যবিদ আবু মারওয়ান আবদুল মালিক ইবনে আবীল আলা ইবনে যুহর
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












