বিজ্ঞান
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৫)
, ২৬ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৭ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০২ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিজ্ঞান মুসলমান উনাদেরই অবদান
২) হালাল হারাম নিয়ে কথা:
২ (ঙ) হালালের বিরোধিতা করা এবং হারামের প্রচার করা কুফরী:
হালাল বিষয়ের বিরোধিতা করা আর হারামের প্রচার করা কুফরী এ বিষয়টিও প্রায় মানুষের জানা আছে কিন্তু সমস্যা হয় হালাল বিষয় আর হারাম বিষয় আলাদা করার মধ্যে। এ পর্যায়ে একটি উদাহরণ দিচ্ছি যদিও তা আজকের আলোচ্য বিষয় নয় তবু উপলব্ধির জন্যই বলা। বাল্যবিবাহ হালাল এবং সুন্নত কিন্তু সরকার আদা-পানি খেয়ে লেগেছে এর বিরোধিতায় (ঋণ দাতা দেশ এবং দাতা সংস্থাগুলোর চাপ রয়েছে)। যুক্তি হিসেবে দিচ্ছে নানান মেডিক্যাল সাইন্সের কথা কিন্তু যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দেখানো পথের বাইরে গিয়ে বিরোধিতা করা যে কুফরী তাতে কারো দৃষ্টি নেই। নাউযুবিল্লাহ!
আমরা হালাল-হারাম প্রোডাক্টের মধ্যেই ফিরে আসি। যে সব পণ্য হারাম তাদের বিজ্ঞাপন দেয়া প্রচার-প্রসার করাও হারাম। আমাদের দেশে পাওয়া যায় বিভিন্ন এনার্জি ড্রিংক যেগুলোর ফ্লেভারিং এজেন্টের মধ্যে রয়েছে এলকোহল ফলে সেগুলো খাওয়া যেরুপ হারাম তেমনি তাদের প্রচার-প্রসারও হারাম। উল্লেখ্য ফ্লেভারিং উপাদানসমূহ বাইরে থেকে আমদানি করা হয় বলে অনেকেরই এ তথ্য জানা নেই। একইভাবে বিভিন্ন প্রকার কোমল পানীয় যেমন কোকাকোলা, পেপসি এগুলোতেও রয়েছে ০.৪% এলকোহল।
আবার সকল পারফিউম, বডি স্প্রে এগুলোতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইথাইল এলকোহল বা শরাব। যদিও এই সব প্রোডাক্টে ব্যবহৃত শরাবগুলোকে টক্সিক উপাদান দ্বারা খাওয়ার অনুপযুক্ত করা হয় আর একে বলে ডিনেচারড এলকোহল (উবহধঃঁৎবফ অষপড়যড়ষ বা অষপড়যড়ষ উবহধঃ)। কিন্তু এগুলো কাপড়ে বা গায়ে লাগলে কাপড় বা শরীর নাপাক হবে যদিও পরে উড়ে গিয়ে শুকিয়ে যাক না কেন।
আবার আমরা ক্যাপসুল আকারে ওষুধ সেবন করি। ক্যাপসুলের শেল তৈরি হয় জিলাটিন থেকে আর জিলাটিনের অধিকাংশ উৎস হচ্ছে শুকরের চর্বি বা কোলাজেন (যা হাড্ডিতে থাকে) । কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় জিলাটিন তৈরি হয় তা শরীয়ত অনুযায়ী আর হারাম থাকে না। ফলে অকারনে জিলাটিন কে হারাম বলাও সঠিক নয়। উল্লেখ্য যেখানে হালাল উপাদান থেকে প্রস্তুতকৃত জিলাটিন পাওয়া যাবে সেখানে জানা থাকলে শুকরের জিলাটিন ব্যবহার করা হবে তাকওয়ার খিলাফ। ঢালাওভাবে জিলাটিন হারাম বললে মানুষের জন্য ক্যাপসুল গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়বে, অথচ দ্বীন হচ্ছে সহজ। জিলাটিন যে কারণের হালাল তার উসুল আমরা ব্যাখ্যা করবো। ইনশাআল্লাহ!
২ (চ) হারাম সবসময় মন্দ এবং ক্ষতিকর বিষয়ের সাথে জড়িত:
একটি সুস্বাদু খাবারের মধ্যে কোন হারাম উপাদান থাকলে আর সেটা জানার পরেও খেলে তার তাৎক্ষনিক ক্ষতিকর প্রভাব মানুষ দেখতে পায় না বলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু এই ক্ষতির প্রভাব পরে দুটি বিষয়ের উপর।
আত্মিক (রুহানি) ক্ষতি:
প্রথমত হারাম উপাদান চিহ্নিত হয়েছে কোন মনগড়া নিয়ম অনুযায়ী নয় বরং মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী। সেক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত কোন হারাম উপাদান গ্রহণ করার অর্থই হলো মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারকের বিরোধিতা করা যা কুফরীর দিকে ঠেলে দেয়।
দ্বিতীয়ত হারাম উপাদান খেলে আত্মিক বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়। রুহানী শক্তি নষ্ট হয়।
কমপক্ষে ৪০ দিন ইবাদত বন্দেগী কবুল হয় না।
দৈহিক ক্ষতি:
অনেক হারাম খাদ্য বা খাদ্যের উপাদান আছে যা খেলে মরণঘাতী রোগ হতে পারে। অনেকেই অনেক রোগের কারণ জানে না কিন্তু দেখা যায় নেপথ্যে থাকে হারাম খাদ্য ভক্ষণ।
যে উপাদানগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব আছে সেগুলো বর্জন করাও ফরয। যেমন সিগারেটের কথা সরাসরি কালামুল্লাহ শরীফে উল্লেখ নেই কিন্তু যেহেতু এটি সেবনে অর্থ, স্বাস্থ্য নষ্ট হয় এবং মানুষের এক ধরণের আসক্তি জন্মে ফলে এটি সেবন করা হারাম।
একইভাবে কিছু কোমল পানীয় আছে যেমন ফান্টা, মাউন্টেন- ডিউ, লেমন ডিউ, মিন্ট-ডিউ, গেটোরেড ইত্যাদি, এরকম সাইট্রাস জাতীয় (লেবু জাতীয়) প্রোডাক্টগুলোতে এলকোহলের উপস্থিতি ছাড়াও আছে ইৎড়সরহধঃবফ াবমবঃধনষব ড়রষ (ইঠঙ) একটি সিনথেটিক ক্যামিক্যাল । যা খেলে শরীরে আয়োডিনের অভাব হয় এবং থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে, টিউমার তৈরি করে, বিকলাঙ্গ শিশু, রি-প্রোডাক্টিভ সিস্টেম, নার্ভের ক্ষতি করে এবং তৃতীয় জেনারেশনে দেখা গেছে সন্তান জন্ম দেয়ার যোগ্যতা হারায়। এই উপাদানটি কার্পেটে যাতে আগুন না লাগে সেকারনেও ব্যবহার করা হয়। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া প্রায় ১০০ টি দেশে এই উপাদান ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইঁঃুষধঃবফ যুফৎড়ীুধহরংড়ষব (ইঐঅ) ধহফ ইঁঃুষধঃবফ যুফৎড়ীুঃড়ষঁবহব (ইঐঞ) এই দুটি উপাদান বিভিন্ন বেকারী প্রোডাক্ট যেমন চড়ংঃ, কবষষড়মং, ছঁধশবৎ নৎধহফ পবৎবধষং, উরধসড়হফ ঘঁঃং, ঈযবী গরী এবং চুইং গাম যেমন ডৎরমষবু'ং, ঞৎরফবহঃ, ইধুড়ড়শধ ধহফ ইঁননষব ণঁস. ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। এই উপাদান দুটি পেট্রোলিয়াম জাত দ্রব্য থেকে তৈরি হয় এবং ক্যান্সার তৈরি করতে পারে বলে যুক্তরাজ্য, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে এই উপাদান দুটি ব্যবহার করলে ১৫ বছরের জেল এবং ৫০০,০০০ ডলার পর্যন্ত ফাইন হতে পারে।
তাহলে কোন খাদ্য বা উপাদান যেগুলো নিষিদ্ধ এবং ক্ষতিকর সেগুলো থেকেও বেঁচে থাকা আমাদের জন্য ফরয কেননা হারাম সবসময় মন্দ এবং ক্ষতিকর বিষয়ের সাথে জড়িত। (চলবে)
-ফার্মাসিস্ট এবিএম রুহুল হাসান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা (ধারাবাহিক) ৪. যমীন থেকে মেঘের দিকেঃ এটা বিরল প্রকৃতির।
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানরাই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: মহাকাশ বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৭)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিখ্যাত মুসলিম প্রকৌশলী রিদওয়ান আল-সাতীর আবিষ্কার করা উমাইয়া মসজিদের ঘড়ি
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সভ্যতার বিকাশে মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার উইন্ডমিল বা বায়ুকল
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৩)
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (২)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও শল্যবিদ আবু মারওয়ান আবদুল মালিক ইবনে আবীল আলা ইবনে যুহর
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












