বিজ্ঞান
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৬)
, ১১ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০১ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিজ্ঞান মুসলমান উনাদেরই অবদান
২) হালাল হারাম নিয়ে কথা:
২ (ছ) হারাম পরিহার করার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি অনেক উত্তম জিনিস দিয়ে হালালের ব্যবস্থা রেখেছেন:
হারাম খাদ্য বা উপাদান কয়েকটির মধ্যে সীমাবদ্ধ কিন্তু হালাল খাদ্য, উপাদান বা বিষয় রয়েছে অসংখ্য-অগণিত। মুসলমান মাত্রই হারাম থেকে বেঁচে চলে তবে অনেক সময় না জানার কারণে ভুল হয়ে যেতে পারে আর সে কারণেই আমাদের লেখার এই প্রচেষ্টা। কাফিররা মুসলমানদের চির-শত্রু এবং এদের যেহেতু হালাল-হারামের বোধ নেই, জ্ঞান নেই ফলে তারা ক্রমাগত মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে। অনেক হালাল খাবারের মধ্যেই মিশিয়ে দিচ্ছে এমন সব উপাদান যা মুসলমানদের জন্য আত্মিক-বাহ্যিক সবদিক থেকে ক্ষতিকর।
অধিকাংশ জিলাটিন প্রাণী থেকেই হয় আর প্রাণী বলতে শুকর আর গরুর হাড়ের মধ্যে যে কোলাজেন পাওয়া যায় সেখান থেকে। তবে আজকাল ভেষজ জিলাটিন হচ্ছে এবং তা দিয়ে ক্যাপসুল শেল, আইসক্রিমও তৈরি হচ্ছে। আমাদের দেশের ইগলু আইসক্রিম কোম্পানী ভেষজ জিলেটিন ব্যবহার করে থাকে বলে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে।
এক দশক আগেও ইনসুলিন তৈরি হতো শুকর এবং গরুর প্যানক্রিয়াস থেকে পরে তা পরিশোধন করে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে ব্যাক্টেরিয়া এবং ঈস্ট থেকে জবপড়সনরহধহঃ উঘঅ ঃবপযহড়ষড়মু প্রয়োগ করে সিনথেটিক ইনসুলিন তৈরি করা হয়।
অনেক খাবারের প্রোডাক্টে লিসিথিন (খবপরঃযরহ) ব্যবহার করা হয়। এই লিসিথিন প্রাণীজ উৎস থেকেও হয় আবার ভেষজ উৎস থেকেও হয় সেক্ষেত্রে সয়া-লিসিথিন লেখা থাকলে বোঝা যাবে তা ভেষজ ও হালাল এবং গ্রহণ করা যাবে।
বাজারে যে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট পাওয়া যায় সেখানে কিছু পাওয়া যায় ঙুংঃবৎ ঈধষপরঁস অর্থাৎ ঝিনুক থেকে নেয়া ক্যালসিয়াম যা মুসলমানদের জন্য হালাল নয়। অথচ মিনারেল ক্যালসিয়ামের অভাব নেই সেটাই গ্রহণ করা উচিত।
২ (জ) যা হারামের দিকে ধাবিত করে তাও হারাম:
শরাব খেয়ে নেশা করার কথা আমরা জানি কিন্তু আরও একটি এলকোহলিক উপাদান আছে যা খাওয়ার উপযুক্ত নয় কিন্তু তার মধ্যে শরাবের মত নেশার অবগুন রয়েছে অর্থাৎ সেটা খেলেও নেশা হবে এর মধ্যে একটি মিথানল বা মিথিলেটেড স্পিরিট। এটি পান করার কারণে অনেক মানুষ মারা গেছে। এখানে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করার ভিন্ন একটি কারণ আছে। তা হলো এ রকম শরাব যা হারাম তা নাপাকের অন্তর্ভুক্ত। এখন কেউ শরাব পান না করলেও, মিথানল পান না করলেও অনেক দ্রব্য সামগ্রী যেমন নেইল পলিশ রিমুভার, ডেটল, সেভনল ইত্যাদিতেও এলকোহল থাকে ফলে সেগুলো ব্যবহার করলে জায়গা ধুয়ে নিতে হয়।
ফেনসিডিল প্রথমে কাশির ওষুধ হিসেবে বাজারে আসে কিন্তু তার মধ্যে একটি উপাদান এফিড্রিন নেশা সৃষ্টি করে ফলে এখন সেটা খাওয়া হারাম। কিন্তু এখন বাজারে ভেষজ ওষুধের নামে, ভিটামিন সিরাপের নামে, বলবর্ধক ওষুধের নামে অনেক শরবত পাওয়া যায় যেগুলোতে রয়েছে যৌনশক্তি বর্ধক উপাদান। আজকাল সম্ভ্রমহরণের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পেছনে এই সব ওষুধেরও অনেক ভূমিকা রয়েছে কারণ কোম্পানীগুলো এই উপাদানের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে না। ফলে প্রয়োজন এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। অকারণে এসব শরবত পান করা মানুষকে হারামের দিকে ধাবিত করে। যদি মহিলাদের এইসব ইউনানী বা আয়ুর্বেদিক শরবত খাওয়ানো হয় তবে তাদের ইউটেরাইন ব্লিডিং হবার সম্ভাবনাও রয়েছে।
২ (ঝ) যা প্রকাশ্য হারাম তাকে হালাল বলাও হারাম:
অনেকেই মনে করে- অ্যালকোহল সহযোগে কোনো ওষুধ বানালেই তা হালাল। সেটা এলোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক বা হারবাল ওষুধ যাই হোক না কেন। সম্মানিত শরীয়ত কিন্তু তা বলে না। আবার আজকাল অনেক এনার্জি ড্রিংকস পাওয়া যায়, যেখানে অ্যালকোহল ফ্রি লেখা থাকার পরেও সামান্য মাত্রার অ্যালকোহল থাকে। তাদের বক্তব্য- নেশার জন্য যে পরিমাণ অ্যালকোহল থাকার প্রয়োজন তা নেই, তবে প্রিজারভেটিভ হিসেবে আছে। আসলে সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী এক বিন্দু পরিমাণ অ্যালকোহল থাকলেও তা হারাম হিসেবে বিবেচিত হবে। এগুলোকে হারাম ভাবতে হবে; হালাল বলার সুযোগ নেই। কেবল বোতলজাত শরাব হারাম নয়, বরং শরাব মিশ্রিত সব কিছুই হারাম।
অনেক ওষুধ রয়েছে, যা অ্যালকোহল ছাড়াও প্রস্তুত করা সম্ভব, সেগুলো গ্রহণ করতে হবে। তবে যদি কোনো হারাম জিনিস ওষুধ হিসেবে গ্রহণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে সম্মানিত শরীয়ত একটি মাপকাঠি দিয়েছেন, সে আলোকে দেখে নিতে হবে। যেমন-
* কোনো দ্বীনদার পরহেযগার ডাক্তার ব্যবস্থাপত্র দেবেন।
* সেটি একমাত্র ওষুধ, যা ছাড়া আর কোনো ওষুধ নেই।
* সেটি একমাত্র ওষুধ, যা খেলে নিশ্চিত অসুখ ভালো হবে, না খেলে নির্ঘাত মৃত্যু হবে।
যারা বিদেশ থেকে আসা পনির খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য রয়েছে সাবধান বাণী। আমাদের বাংলাদেশে পনির বানাতে লেবুর রস বা ইস্ট ব্যবহার করলেও বিদেশে কিন্তু তা হয় না। ওরা ব্যবহার করে রেনেট (জবহহবঃ) রেনেট একটা এনজাইম, যা প্রাণীর পেটের মধ্য থেকে সংগ্রহ করা হয়। (সাধারণত জঁসরহধহঃং সধসসধষং অর্থাৎ যে প্রাণীগুলো তৃণ থেকে শরীরের চাহিদা পূরণ করে, যেমন- গরু, মহিষ, শূকর, হরিণ ইত্যাদি থেকে নেয়া হয়)। তবে রেনেট দিয়ে বানানো পনির নিয়ে অনেক বিতর্ক বা মত রয়েছে।
* কারো ধারণা- প্রাণী হালাল হলেই রেনেট হালাল হবে, যবেহ হালাল হওয়া শর্ত নয়।
* কারো ধারণা- প্রাণী হালাল হলে প্রাণীটি মৃত হলেও রেনেট হালাল, যবেহ হালাল হওয়া শর্ত নয়।
* কারো ধারণা- রেনেট যেখান থেকেই সংগ্রহ করে ব্যবহার করা হোক না কেন, পনির হালাল।
* আর কারো ধারণা- প্রাণী হালাল হওয়াই কেবল শর্ত নয়, যবেহ হালাল হওয়াও শর্ত। প্রকৃতপক্ষে এটিই বিশুদ্ধ মত।
কিন্তু বাস্তব কথা হচ্ছে- কাফির দেশ থেকে আসা পনিরের মধ্যে এত সব বিতর্ক/মত লেখা থাকে না, রেনেটের উৎস উল্লেখ থাকে না। ফলে সন্দেহজনক জিনিস থেকে দূরে থাকতে হবে। এটাই তাকওয়া। (চলবে)
-ফার্মাসিস্ট এবিএম রুহুল হাসান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বরফের ছোট চাঁদের চারপাশে বিশাল তরঙ্গের জাল আবিষ্কার
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা (ধারাবাহিক) ৪. যমীন থেকে মেঘের দিকেঃ এটা বিরল প্রকৃতির।
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানরাই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: মহাকাশ বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৭)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৫)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিখ্যাত মুসলিম প্রকৌশলী রিদওয়ান আল-সাতীর আবিষ্কার করা উমাইয়া মসজিদের ঘড়ি
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সভ্যতার বিকাশে মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার উইন্ডমিল বা বায়ুকল
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৩)
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (২)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












