বিজ্ঞান:
মুসলমানরাই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: মহাকাশ বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান
, ২১ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) বিজ্ঞান মুসলমান উনাদেরই অবদান
মহাকাশবিজ্ঞানের বিকাশের জন্য চালিকাশক্তিরূপে যা সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত করেছে তা হচ্ছে মুসলমানদের ইবাদতসমূহ। আর এই ইবাদত চন্দ্র মাস ও দিনের সময়ের সাথে সম্পর্কিত। তাই সময়সমূহের শর্তগুলো পূরনে গাণিতিক জ্যামিতিক জ্যোর্তিবিজ্ঞানের প্রয়োজন হতো, নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে তা হচ্ছে গোলকীয় তলের জ্যামিতি।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময়কাল থেকেই তিনি ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নতুন চাঁদ দেখে মাস গণনা করতেন। আর নামাযের ওয়াক্ত নির্ধারণ করতে সূর্যের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করতেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ
অর্থ: “তারা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, আপনি তাদের বলে দিন, এগুলো হচ্ছে মানবজাতির ও পবিত্র হজ্জ উনার জন্য সময় নির্দিষ্ট করার নিদর্শন” (পবিত্র সূরা আল বাকারা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ: ১৮৯)
হিজরী তাক্বউইম/ক্যালেন্ডার ও তারিখ লিখার প্রচলন: পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর যখন মুসলিম উম্মাহর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং বিভিন্ন দিকে দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত পৌঁছাতে থাকে এবং পরবর্তীতে হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সময়কালে মুসলিম বিশ্বের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটতে থাকে তখন মুসলমানদের দ্বীনি ও খিলাফতের কার্যাবলীর সুবিধার জন্য সাইয়্যিদুুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হিজরী ১৬তম বছরে চন্দ্র মাসের উপর ভিত্তি করে এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হিজরত মুবারক উনার বছরকে প্রথম বছর ধরে বর্ষপঞ্জি প্রনয়ণ করেন। এই বর্ষপঞ্জি ১২টি চন্দ্র মাস ছিলো এবং প্রতিটি মাস শুরু হতো নতুন চাঁদ দেখে। যেহেতু সৃষ্টির শুরু হতে গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা ১২টি এবং আরবী মাস চাঁদ দেখে মাস শুরু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আসমান-যমীনের সৃষ্টির শুরু হতে গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা ১২টি।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ: ৩৬)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاء وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذلِكَ إِلَّا بِالْحَقِّ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক যিনি বানিয়েছেন সূর্যকে উজ্জল আলোকময় করে আর চাঁদকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে। অতঃপর নির্ধারণ করেছেন এর জন্য মঞ্জিলসমূহ যাতে তোমরা চিনতে পারো বছর গুলোর সংখ্যা ও হিসাব।” (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ: ৫)
আর হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن أبي هريرة رضى الله تعالى عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صوموا لرءيته وافطروا لرؤيته
অর্থ: “হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা রোযা রাখো চাঁদ দেখে, ইফতারী করো চাঁদ দেখে।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
তখন থেকেই হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের কার্যাবলীর সুবিধার জন্য এই হিজরী বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করতে থাকেন। এছাড়া পত্র-পত্রাদি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের দিনগুলোকে চিহ্নিত করতে এ বর্ষপঞ্জির তারিখগুলো লিখার প্রচলনও উনারা করেছিলেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম যে ঘর মানব জাতির জন্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা তো ওই ঘর যা পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থিত। উহা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য পথপ্রদর্শক।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ: ৯৬)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেন-
وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ النُّجُومَ لِتَهْتَدُوا بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ أَقَلْ الَصِيْنَ فَصَيْتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রপুঞ্জ সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা যমীনে ও পানিতে অন্ধকারে পথ প্রাপ্ত হও। নিশ্চয়ই যারা জ্ঞানী তাদের জন্য আমি নিদর্শনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছি।” (পবিত্র সূরা আনআম শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ: ৯৭)
মুসলিম বিশ্বের সম্প্রসারণের সাথে সাথে কিছু কিছু নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়। মুসলিম বিশ্ব যখন আরবীয় উপদ্বীপ তথা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিস্তার লাভ করতে থাকে তখন নামায আদায়ের জন্য কিবলার দিক নির্ণয় ও আরবী মাস গণনার জন্য নতুন চাঁদ দেখা ও স্থানীয় ইসলামী বর্ষপঞ্জি প্রণয়নের প্রয়োজন দেখা দেয়। এসব বিষয়ের জন্য গণিতিক চর্চা, পৃথিবীর ভূ-মন্ডল ও নভোমন্ডলীয় বস্তুসমূহের উপর জ্ঞান অর্জন জরুরী হয়ে পড়ে। উমাইয়া যুগে (৪১-১৩৩ হিজরী; ৬৬১-৭৫০ খ্রিস্টাব্দ) কিছু কিছু চর্চা হলেও তা আব্বাসীয় সময়কালে (১৩৩-৬৫৬ হিজরী; ৭৫০-১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ) ব্যাপকতা পায়।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৭)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৫)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিখ্যাত মুসলিম প্রকৌশলী রিদওয়ান আল-সাতীর আবিষ্কার করা উমাইয়া মসজিদের ঘড়ি
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সভ্যতার বিকাশে মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার উইন্ডমিল বা বায়ুকল
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৩)
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (২)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও শল্যবিদ আবু মারওয়ান আবদুল মালিক ইবনে আবীল আলা ইবনে যুহর
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানরা আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: কৃষিতে মুসলমানদের অবদান
২৭ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












