বিজ্ঞান
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৩)
, ১২ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৩ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিজ্ঞান মুসলমান উনাদেরই অবদান
১) ই-কোডের (E-Code) কথা:
নীচের লেখা থেকে ধারণা পাবেন কোন নাম্বার গুলো কি উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়।
E100-E199 (রং এর কাজে ব্যবহার হয়)
E200-E299 (প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহার হয়)
E300-E399 (এন্টিওক্সিডেন্ট এবং এসিডিটি রেগূলেটর হিসেবে ব্যবহার হয়)
E400-E499 (ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও ইমালসিফায়ার হিসেবে ব্যবহার হয়)
E500-E599 (এসিডিটি রেগূলেটর এবং এন্টি কেইকিং এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার হয়)
E600-E699 (সুগন্ধি দ্রব্য হিসেবে ব্যবহার হয়)
E700-E799 (এন্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহার হয়)
E900-E999 (চকলেট, মিষ্টির চকচকে ভাব আনার জন্য ব্যবহার হয়)
E1000-E1599 (বাড়তি উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়)
২) হালাল হারাম নিয়ে কথা:
২ (ক) হালাল প্রোডাক্ট এবং সুপারমার্কেট:
যখন কেউ আমাদের দেশের চেইন স্টোর বা বড় কোন শপিং মলে যান সেখান থেকে কেবল দেশী পণ্যই কেনেন না অনেকে বিদেশী প্রোডাক্ট কিনেও ঘরে ফেরেন। বর্তমানে সেখান থেকে হালাল প্রোডাক্ট চিনে নিয়ে ঘরে ফেরা আসলেই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, যে কোন খাবার এবং পানীয়তে যে সব উপাদান থাকে সেসব সম্পর্কে ধারণা না থাকা। আবার অনেক সময় দেখা যায় অনেক উপাদান ভেষজ উৎস থেকেও তৈরি করা যায় একইভাবে প্রাণীজ উৎস থেকে নেয়া যায়, সেক্ষেত্রে হালাল হারাম চিহ্নিত করা সত্যই কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইতোপূর্বে অনেকে প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ হারাম উপাদানের তালিকা প্রকাশ করেছেন কিন্তু আসলে সেটা অপ্রতুল কারণ বর্তমান ফুড প্রোডাক্ট ইন্ডাস্ট্রিজ যথেস্ট জটিল। উদাহরণ হিসেবে বলছি “ম্যাগনেসিয়াম স্টিয়ারেট” যার উৎস হচ্ছে স্টিয়ারিক এসিড, কিন্তু চর্বি থেকেও তৈরি করা যায়। আর চর্বি বলতে শুকোরের চর্বিই বেশী ব্যবহৃত হয়।
অনেক চুইংগামে লেখা থাকে “ÒMade of gum base”, চিনি, কর্ণ সিরাপ, ফ্লেভার ও সফটনেস। সেখানে প্রায় ৪০ টি উপাদানের মধ্য থেকে মাত্র কয়েকটিকে চেনা যায় বাকীগুলো চেনা যায় না আবার অনেক সময় অনেক উপাদানের নাম উল্লেখ থাকে না। সেখানে অনেক উপাদান থাকতে পারে যা প্রাণীজ উৎস থেকে নেয়া।
সয়া ফ্লাওয়ার এক ধরণের এনজাইমের সাথে বিক্রিয়া করানো হয় যা আলাদা করা হয় শুকরের পেট থেকে ((Stomach of a swine))। আবার অনেক সময় লেখা থাকে " Vegetable shortening ", এতে ধারণা হতে পারে সবটুকুই বোধ হয় হালাল। কিন্তু অনেক সময় অনেক ভেষজ উপাদান আবার অনেক Emulsifiers (ঘণকারক উপাদান) দ্বারা মেশানো থাকে যেগুলো আবার আসে প্রাণীজ উৎস থেকে।
তবে সাধারণভাবে যদি লেখা থাকে লারড (Lard) , এলকোহল, পোরক (Pork) পাঊডার, এলকোহল ডিনেট ইত্যাদি সবে সেগুলো খাওয়া এবং ব্যবহার করা হারাম।
কাফিরদের যেহেতু হালাল-হারাম জ্ঞান নেই তারা এই ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের উপাদান বানাতে গিয়ে একটি জটিল অবস্থার সৃষ্টি করেছে। আর সাধারণ মুসলমানদের হালাল-হারামের জ্ঞানের রয়েছে যথেষ্ট অভাব। তবে অনেক মুসলিম দেশে প্রস্তুতকৃত প্রোডাক্টে যদি “হালাল” লেখা থাকে তবে সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী তা গ্রহণ করা হালাল।
২ (খ) খোসার হলেই হালাল নয়:
খোসার হচ্ছে হিব্রু শব্দ এর অর্থ ইহুদীদের নিয়ম অনুসারে যা হালাল। ইহুদীরা শুকোরের গোশত খায় না ফলে যে প্রোডাক্টগুলো শুকরের গোশতমুক্ত সেখানে তারা কয়েকটি সিম্বল ব্যবহার করে যেমন U, K ইত্যাদি। ফলে সাধারণ মুসলমানগণ কোন খোসার সিম্বলযুক্ত প্রোডাক্ট দেখলে তারা সেটা হালাল মনে করে খেয়ে নেন কারণ তারা এই ভেবে নিশ্চিত হন যে কমপক্ষে তাতে শুকরের গোশত নেই। কিন্তু কেবল শুকরের গোশত থাকলেইতো হারাম হয় না।
খোসারের নিয়মের সাথে সম্মানিত শরীয়তের নিয়মের কোন মিল নেই। কারণ ইহুদীদের একেক রাবাই অনুযায়ী একেক রকম খোসারের ব্যখ্যা রয়েছে। ইহুদীদের প্রায় ৫৫ রকমের খোসার সার্টিফিকেট আছে। যেমন শুকর হারাম হলেও কোন প্রোডাক্টে শরাব বা এলকোহল থাকলে তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী সমস্যা নেই কিন্তু মুসলমানদের জন্য হারাম। তাছাড়া এই U বা K ক সিম্বল ব্যবহার করার কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই অর্থাৎ কোন প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষিত হবার পরে কেউ ব্যবহার করতে পারবে তা কিন্তু নয়। ফলে যে কেউ এটি ব্যবহার করতে পারে ফলে যারা দেশের বাইরে আছেন অথবা এদেশের বড় সুপার মার্কেট থেকে বিদেশী প্রোডাক্ট কেনার সময় K বা U সিম্বল দেখলেই হালাল মনে করে কিনে নিয়ে আসেন সেটা বড় ভুল হবে। এসব পণ্য বর্জন করা সকলের দায়িত্ব। (চলবে)
-ফার্মাসিস্ট এবিএম রুহুল হাসান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা (ধারাবাহিক) ৪. যমীন থেকে মেঘের দিকেঃ এটা বিরল প্রকৃতির।
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানরাই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: মহাকাশ বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৭)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৫)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিখ্যাত মুসলিম প্রকৌশলী রিদওয়ান আল-সাতীর আবিষ্কার করা উমাইয়া মসজিদের ঘড়ি
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সভ্যতার বিকাশে মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার উইন্ডমিল বা বায়ুকল
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (২)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও শল্যবিদ আবু মারওয়ান আবদুল মালিক ইবনে আবীল আলা ইবনে যুহর
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












