সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩২৪)
, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) বরকতময় জিবনী মুবারক
কুরাইশ কাফির মুশরিকরা মধ্যস্ততাকারী প্রেরণ:
আলোচনায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকেও সে সব কথাই বললেন, যা তিনি হযরত বুদাইল বিন ওয়ারাকা খুযায়ী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে এবং পরবর্তীতে কুরাইশ কাফির-মুশরিকদের পক্ষ থেকে প্রেরিত মিকরায বিন হাফেস্কে বলেছিলেন। প্রত্যুত্তরে উরওয়া বললো, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি আপনি নিজ জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেন, তবে কি আপনার পূর্বের কোন আরব সম্পর্কে শুনেছেন যে, সে নিজ জাতিকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে? আর যদি দ্বিতীয় অবস্থা ঘটে যায় তবে মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আপনাকে ছেড়ে পলায়ন করবেন। নাউযুবিল্লাহ!
এ কথা শুনে আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি অত্যন্ত শক্তভাবে বললেন, “লাতের ঝুলন্ত চর্ম চুষতে থাক, আমরা উনাকে ছেড়ে পলায়ন করবো? উরওয়া বললো, “এ ব্যক্তি কে? উপস্থিত যারা ছিলেন উনারা বললেন, তিনি হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম।
উরওয়া বিন মাসউদ সাক্বাফী সে হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে সম্বোধন করে বললো, ‘দেখেন, সেই সত্তার কসম! যাঁর কুদরতী হাত মুবারকে আমার জীবন রয়েছে। যদি এমন ব্যাপার না হতো যে, আপনি আমার একটি উপকার করেছিলেন এবং আমি তার প্রতিদান দিতে পারিনি, তবে অবশ্যই এর জবাব আমি দিয়ে দিতাম।’
এরপর উরওয়া পুনরায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে কথোপকথন শুরু করলো এবং আলাপ-আলোচনা চলা অবস্থায় বার বার সে বেয়াদবীমূলক করতে চাচ্ছিলো তখন হযরত মুগীরা বিন শো’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পার্শ্বে দাঁড়িয়েছিলেন। হযরত মুগীরা বিন শো’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাত মুবারকে ছিলো একটি তরবারী মুবারক।
আলোচনার সময় উরওয়া যখন বেয়াদবীমূলক আচরণ করার জন্য হাত বাড়ানোর মত দুঃসাহস করতো তখন হযরত মুগীরা বিন শো’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তরবারীর হাতল দ্বারা এই বেয়াদবের হাতে আঘাত করতেন এবং বলতেন, “হে বেয়াদব! হাত দূরে রাখো।” অবশেষে উরওয়া নিজ মস্তক উত্তোলন করে বললো, ‘এ ব্যক্তি কে?’ উপস্থিত লোকজন বললেন, তিনি হচ্ছেন হযরত মুগীরা বিন শো’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। সে বললো, “অঙ্গীকার ভঙ্গকারী! আমি কি আপনার অঙ্গীকার ভঙ্গের ব্যাপারে দৌঁড় ঝাঁপ করছি না?”
প্রকৃত ঘটনাটি হচ্ছে, জাহেলী যুগে হযরত মুগীরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কিছু সংখ্যক লোকের সঙ্গে ছিলেন। কোন এক অবস্থায় তিনি সঙ্গী সাথীদের হত্যা করেন এবং তাদের ধন সম্পদ নিয়ে আসেন। অতঃপর তিনি পরবর্তীতে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। উরওয়া দৌঁড়-ঝাঁপ করার কারণ ছিলো, হযরত মুগীরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন তার ভ্রাতুষ্পুত্র।’ এরপর উরওয়া নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে গভীর মুহব্বত ও সম্পর্ক প্রত্যক্ষ করতে থাকলো। অতঃপর স্বগোত্রীয় লোকজনদের নিকট ফিরে এসে সে বললো, ‘হে গোত্রীয় ভ্রাতৃবর্গ! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি কায়সার ও কিসরা এবং নাজ্জাসীদের শাসকের দরবারে গিয়েছি, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি কোন শাসককে দেখিনি যে, তার অনুসারী বা সঙ্গী সাথীগণ সেই শাসককে এতটুকু সম্মান প্রদর্শন করছে, যতটুকু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যত বেশী সম্মান ও মুহব্বত করেন।
মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন নূরুল বারাকাত মুবারক (থুথু মুবারক) রেখেছেন তখন যে কেউ উহা হাতে নিয়ে আপন মুখমন্ডলে কিংবা শরীরে মেখে নেন। যখনই তিনি কোন কাজের নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন, তখনই তা বাস্তবায়নের জন্য সকলের মধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। যখন তিনি ওযূ মুবারক করেন তখন মনে হচ্ছে যেন উনার ব্যবহৃত পানি মুবারকের জন্য লোকেরা যুদ্ধ শুরু করে দিবেন। যখন তিনি কোন কথা মুবারক বলেন তখন সকলের কণ্ঠস্বর নীচু হয়ে যায়। উনার সম্মানের খাতিরে ছাহাবী উনারা কখনই উনার প্রতি পূর্ণভাবে দৃষ্টিপাত করেন না।
নিশ্চয়ই যতটুকু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে এমন গুণাবলী মুবারকের সমাবেশ ঘটেছে যার ফলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এতটা মুহব্বত মুবারক এবং তা’যীম তাকরীম মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি তোমাদের জন্য একটি উত্তম প্রস্তাব দিয়েছেন। তোমাদের উচিত তা গ্রহণ করে নেয়া।’
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩২৩)
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩২২)
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩২১)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩২০)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩১৮)
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩১৭)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩১৫)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩১৪)
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩১৩)
১৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩১২)
০৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩১১)
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩১০)
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












