সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩১০)
, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) বরকতময় জিবনী মুবারক
ইহুদী যুবাইর ইবনে বাতা কুরাইযী:
এবার যুবাইর বললো, ‘হিজায ভূমিতে একটা পরিবার বাস করবে, আর তাদের কোন সম্পত্তি থাকবে না, তাহলে তারা বাঁচবে কি করে?’ হযরত ছাবিত ইবনে কাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে গিয়ে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ‘তার সহায়-সম্পত্তি?’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘তাও আপনার।’ হযরত ছাবিত ইবনে কাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যুবাইরের কাছে গিয়ে বললেন, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমার সহায়-সম্পত্তিও আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। এখন তাও তোমার।’
ইহুদী যুবাইর বললো, ‘হে হযরত ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! সেই যে চীনা আয়নার মত যার চেহারা, গোত্রের কুমারীরা যাতে নিজেদের চেহারা দেখার জন্য ভীড় করতো সেই ইহুদী কা’ব ইবনে আসাদের কি অবস্থা?’ হযরত ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘তাকে হত্যা করা হয়েছে।’ এরপর যুবাইর জিজ্ঞাসা করলো। ‘আচ্ছা, সর্বজনবিদিত নেতা হুয়াই ইবনে আখতাবের খবর কি?’ হযরত ছাবিত ইবনে কাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি জবাবে বললেন, ‘তাকেও হত্যা করা হয়েছে।’ এরপর যুবাইর বললো, ‘আযযাল ইবনে সামাইলের কি খবর? সে থাকতো আমাদের অগ্রবাহিনীর অধিনায়ক, যখন আমরা আক্রমণ করতাম, আর যখন আমরা পালাতাম, তখন সে পশ্চাতে থেকে আমাদের পাহারা দিতো।’
হযরত ছাবিত ইবনে কাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘তাকেও হত্যা করা হয়েছে।’ তখন যুবাইর বললো, ‘বলেনতো দুই জোটের কি অবস্থা? অর্থাৎ বনূ কা’ব ইবনে কুরাইজা ও বনূ আমর ইবনে কুরাইজা।’
হযরত ছাবিত ইবনে কাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘তারা সকলেই নিহত হয়েছে।’ যুবাইর বললো, ‘তাহলে হে হযরত ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনার প্রতি আমার উপকারের বদলে আমি আপনার কাছে একটাই ভিক্ষা চাই। আপনি আমাকেও তাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! তাদের পরে বেঁচে থাকার কোন সার্থকতা নেই।’ সে আরো বললো, ‘ক্বসম! আমার প্রিয়জনদের সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের বিচ্ছেদ এতটুকু সময়ও সইতে পারবো না, যে সময় একটি বালতির পানি পাত্রে ঢালতে ব্যয় হয়।’ যুবাইরের একথা শুনে হযরত ছাবিত ইবনে কাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তার দিকে অগ্রসর হলেন এবং তার গর্দান উড়িয়ে দিয়ে তাকে (জাহান্নামে তাদের কাছে) পৌঁছিয়ে দিলেন।’
এই ইহুদী যুবাইর তার প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হওয়ার এ আকুলতার কথা শুনে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন-
يَلْقَاهُمْ وَاَللّهِ فِي نَارِ جَهَنّمَ خَالِدًا مُخَلّدًا.
অর্থ: ‘হ্যাঁ, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! সে জাহান্নামে আগুনে তাদের সাথে স্থায়ীভাবে মিলিত হবে।’ (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহতুল্লাহি আলাইহি, আর রউদুল উন্ফ)
ইহুদী আতিয়া কুরাইযী ও রিফা’য়া ইবনে সামাইলের হত্যা:
তারীখ ও সীরত গ্রন্থে উল্লেখ আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সকল প্রাপ্ত বয়স্ককে হত্যা করার নির্দেশ দেন। আমার নিকট শুবা ইবনে হাজ্জাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সূত্রে আতিয়া কুরাইযী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনূ কুরাইজার সকল প্রাপ্ত বয়স্ককেই হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি ছিলাম অপরিণত বয়সের। তাই আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বনূ ‘আদী ইবনে নাজ্জার গোত্রের আইউব ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবূ সা’সাআ আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, মুনযিরের মাতা ও সালীত ইবনে কাইসের বোন সালমা বিনত কাইস ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন খালা। তিনি উভয় কিবলার দিকেই ফিরে সলাত আদায় করেছেন এবং তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট নারীদের বাইয়াতে শরীক ছিলেন। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হতে রিফাআ ইবনে সামাইল কুরাযীকে চেয়ে নিয়েছিলেন। রিফাআ ছিলো প্রাপ্ত বয়স্ক। সে সালামার আশ্রয় নিয়েছিলো এবং তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। আপনি মেহেরবানী করে রিফাআকে আমাকে দিয়ে দিন। সে বলছে, শীঘ্রই সে সলাত আদায় করবে এবং উটের গোশত খাবে। রাবী বলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে সালমার হাতে অর্পণ করলেন। এভাবে সালমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি প্রাণ রক্ষা করলেন।
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩০৯)
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩০৮)
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩০৭)
৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩০৬)
২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২২৯৭)
১০ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২২৯৬)
০৩ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২২৯৫)
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২২৯৪)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২২৯৩)
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২২৯২)
২২ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২২৯১)
১৫ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২২৯০)
০৮ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












