সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন এমনকী জানালার পর্দা চাইলো জামায়াত এমপি বিরোধী এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা, স্পিকার বললেন ‘আমি কোনোদিন কানাকড়িও পাইনি’
সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক।।
এমপিদের জন্য বরাদ্দ প্রদান সংবিধান পরিপন্থী সংসদে বসে সাংসদরাই সংবিধান বিরোধী কাজ তথা নিজস্ব ভোগ বিলাসে মত্ত (১ম পর্ব)
, ১লা ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৭ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়েদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার ঐচ্ছিক তহবিল থেকে আমাদের বিরোধী দলের সদস্যদের আসনগুলোতে, সিটি করপোরেশন বাদ দিয়ে, প্রায় ২০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছেন।’
বৈঠকে মির্জা ফখরুলের বিবৃতির পর বিরোধীদলীয় সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘৪০ বছর আমিও এই সংসদে কাটিয়েছি। বিরোধী দলেরও সদস্য ছিলাম। একটি কানাকড়িও কোনোদিন পাইনি। পাঁচবার গ্রেফতার হয়ে জেলে গিয়েছি, এটুকুই পেয়েছি।
এর আগে ১৭ই জুন বুধবার প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান এমপিদের ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলো। একই সঙ্গে তিনি ফ্ল্যাটের দরজা-জানালায় পর্দা লাগানোরও দাবি জানায়।
সংসদ অধিবেশনে এ প্রসঙ্গের সমালোচনা করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘কাল সংসদ থেকে যাওয়ার পরে আমি অনেক টেলিফোন পাই।’ একটি বেসরকারি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি জানান, “জামায়াত এমপি ডিমান্ডস ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ, অ্যান্ড কার্টেইনস ইন এমপিস ফ্ল্যাটস”-এটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয়। আমি মনে করি, এই পার্লামেন্টকেও অনেক লজ্জা দেয়।’
তিনি বলেন, ‘আমার ভাই যেহেতু মন্তব্য করেছেন উনি চান, আমি ওনাকে বিব্রত না করে...আগামীতে যদি ওনার পর্দা আর মাইক্রোওয়েভ লাগে, আমি আমার তরফ থেকে ওনাকে একটা মাইক্রোওয়েভ দিতে চাই। এবং আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে চাই, যেন ওয়াশিং মেশিনটা উনি দেন। হোম মিনিস্টার থাকলে আমি বলতাম, উনি যদি পর্দাটা কিনে দিয়ে ওনার সংসারটা আমরা গুছিয়ে দিতে পারতাম। তারপরও যদি পার্লামেন্টকে উনি ইমব্যারাস (বিব্রত) না করতেন।’
এর আগে পার্থ বলেছেন, ‘একজন সংসদ সদস্য এখানে দাঁড়িয়ে জনগণের কথা বলবে। যেখানে জনগণের বিভিন্ন দাবির কথা বলবে। সেখানে তিনি দাঁড়িয়ে ওয়াশিং মেশিন পেল না মাইক্রোওয়েভ পেল না কার্টেইন পেল সে ব্যাপারে কথা বলবেন!
প্রসঙ্গত, সংবিধান মোতাবেক প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়নের জন্য সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের অধিক্ষেত্র হচ্ছে সংসদ ভবন চত্বর। সংবিধান সংশোধন করে আইনী ভিত্তি তৈরী করা ছাড়া সংসদ সদস্যদেরকে সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত করা আইনসম্মত হবে না। আইন প্রণেতারা তো আইনী বিধান মেনেই তাঁদের দায়িত্ব প্রতিপালনে সচেষ্ট হবেন। রাষ্ট্রের কোথাও আইনী বিধান লংঘিত হলে তার বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যরা জোরালো প্রতিবাদ জানাবেন- সংসদে প্রতিবাদের ঝড় তুলবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সংসদ সদস্যরা নিজেরাই যদি আইন ভংগ করেন তাহলে এ দেশের শাসন ব্যবস্থা চলবে কি করে?
সংসদ সদস্যদেরকে সরকারের অনুগত করে রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এরূপ অন্যায্য উদ্যোগ গ্রহণ করাটা স্বাভাবিক। কিন্তু, সংসদ সদস্যরা সেরূপ টোপ গিলবেন কেন কিংবা সেরূপ পাতানো ফাঁদে পা ঢুকাবেন কেন?
এর পাশাপাশি নিজ নিজ সংসদীয় আসনের রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ রাখা হবে সংসদ সদস্যদের জন্য। প্রতিবছর ১০ কোটি টাকা করে পাঁচ বছর এই টাকা দিয়ে সংসদ সদস্যরা নিজেদের পছন্দমতো অবকাঠামো উন্নয়ন করতে পারবেন।
নতুন সংসদ সদস্যদের জন্য এই বরাদ্দ দিতে প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন (বিভাগওয়ারি) নামের প্রকল্প তৈরি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।
এ অর্থ কোথায় কোন কাজে ব্যবহার করা হবে, সংশ্লিষ্ট এমপি সেটির তালিকা তৈরি করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এলজিইডি) দিলে এলজিইডি সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ কাজগুলো আদৌ এমপিদের এখতিয়ারাধীন বিষয় কি না? সংবিধানের ৫৯(২) (গ) অনুচ্ছেদে স্পষ্টত বলা আছে, স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, ‘জনসাধারণের কার্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’।
কিন্তু যে কাজগুলো করার জন্য এমপিদের ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, সংবিধানের ওই বর্ণনা অনুযায়ী, সে কাজগুলো তাঁদের দায়িত্ব-পরিধির মধ্যে পড়ে না। তা সত্ত্বেও তাঁরা যদি তা করেন বা তা করার জন্য সরকার যদি তাঁদের বরাদ্দ ও অনুমোদন দেয়, তাহলে সেটি হবে সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের বরাদ্দ ও অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার রাষ্ট্রের সংবিধান সরকারকে দেয়নি। অন্যদিকে সংবিধানের ৬৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে’। অর্থাৎ এমপিদের কাজ হচ্ছে শুধু আইন প্রণয়ন করা। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বস্তুত ৫৯(২) (গ) অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকারকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পুনর্নিশ্চিত করা হলো।
আর এসব কাজ স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে সম্পাদনের বিষয়ে সংবিধান এতটাই তাগিদ বোধ করেছে যে এটি বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণের জন্য ৬০ নম্বর অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘৫৯ অনুচ্ছেদের বিধানাবলীকে পূর্ণ কার্যকারতাদানের উদ্দেশ্যে সংসদ আইনের দ্বারা উক্ত অনুচ্ছেদে উল্লিখিত স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্থানীয় প্রয়োজনে কর আরোপ করিবার ক্ষমতাসহ বাজেট প্রস্তুতকরণ ও নিজস্ব তহবিল সংরক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করিবেন।’ এমনি পরিস্থিতিতে সংবিধানের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা থাকলে এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ ও আন্তরিক হলে এমপিদের ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা থেকে অবিলম্বে সরে এসে এসব কাজ স্থানীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত করা উচিত। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার প্রধান কারণ ‘মাফিয়া তান্ত্রিক’ সিন্ডিকেট ব্যবস্থা।
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারত বাংলাদেশ চুক্তিকে তারা গোলামীর চুক্তি বলে কঠিন আওয়াজ তুলেছিলো! আজ আমেরিকার প্রকাশ্য গোলামী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে তারা নীরব কেনো? দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধীরাও নিস্ক্রিয় থেকে কঠিন বৈষম্য করছে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর জন্য ড্রোন, কাউন্টার ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কৌশলগত রোডম্যাপ (পর্ব-১২ : ২য় অংশ)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আম রফতানীর বাধা দূর এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় গুরুত্ব দিন
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর জন্য ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কৌশলগত রোডম্যাপ (পর্ব-১২ : ১ম অংশ)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বর্তমানে সন্ত্রাসী দখলদার ইহুদীদের দ্বারা ফিলিস্তীনীদের উপরে চরম যুদ্ধাপরাধ করার পরও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করার পরও কী এদেশের মুসলমানরা আর্জেন্টিনা উন্মাদনায় উন্মত্ত থাকবে? গ্যালারীতে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা, মুসলমান বলে মিশরীয় সমর্থকদের উপর মদ ছিটিয়ে ঘৃণা প্রকাশ করেছে।
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নারিকেল দ্বীপ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অস্তিত্বের সংকট
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
রেলে যাত্রীসেবার সাথে সাথে পণ্য পরিবহণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা দিতে হবে।
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সচেতনতা বনাম আইনি ও সাংবিধানিক বাস্তবতা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রথম কালো এবং তার সহযোগী তথাকথিত পরিবেশবাদী এবং ‘দালাল- এ ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা’- পদ্মা ব্যারাজের বিরোধীতায় নেমেছে।
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কৌশলগত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা: সচেতনতা বনাম আইনি ও সাংবিধানিক বাস্তবতা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যা কিছু ‘কালো’ তার সাথে ‘প্রথম কালো’ প্রথম কালো এবং তার সহযোগী তথাকথিত পরিবেশবাদী এবং ‘দালাল- এ ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা’- পদ্মা ব্যারাজের বিরোধীতায় নেমেছে।
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












