প্রধানমন্ত্রীর রেল ভাবনায় সারাদেশ যুক্ত করতে হবে
রেলে যাত্রীসেবার সাথে সাথে পণ্য পরিবহণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা দিতে হবে।
সবার আগে দুর্নীতি দমন করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
, ১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
সরকার ঢাকা-সিলেট রুটে সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার কাজ শুরু করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সড়কপথের চেয়ে রেলপথের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তা যতই বাড়াতে থাকব, তত বেশি গাড়ি নামবে, যানজট বাড়বেই। এ ছাড়া রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে আবাদি জমিও নষ্ট হয়। মূলত রেলটাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।’
সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারব। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও কম খরচে মালামাল আনা-নেওয়া করতে পারবেন।’
অভিজ্ঞমহল আশঙ্কা করছেন প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য যেন অতীতের সরকারগুলোর মত শুধু কথার ফুলঝুড়ি না হয়। নিছক আশ্বাসের বেলুন না হয়। এবং কিছুদিন পর চুপসে না যায়।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট পণ্য পরিবহনের ৯৬ শতাংশ হচ্ছে সড়কপথে (রেলে মাত্র ৩ শতাংশ ও নৌপথে ১ শতাংশ)। মূলত ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হওয়া এবং জবাবদিহির অভাবের মতো নীতিগত মৌলিক সংকটে আজও লোকসান গুনছে সাশ্রয়ী এ যোগাযোগ ব্যবস্থাটি। বিগত কয়েক দশকের ভুল পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের মধ্যে থাকা দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণে আজ রেলওয়েতে ১০০ টাকা আয়ের বিপরীতে ২০৯ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এটিকে আপাতদৃষ্টিতে ব্যবসায়িক ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে কাঠামোগত দুর্বলতা বলে বিবেচনা করতে হবে।
আওয়ামী সরকারের ১৬ বছরে বাংলাদেশ রেলওয়েতে সোয়া লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ৮০ শতাংশ খরচ করা হয়েছে অবকাঠামো উন্নয়নে (রেলপথ, স্টেশন ইত্যাদি)। যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের মাধ্যমে আয় বাড়াতে রোলিং স্টক (ডেমু ট্রেন, ইঞ্জিন, কোচ, লাগেজ ভ্যান ইত্যাদি) কেনায় খরচ হয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ। কিন্তু সেবা বা আয়-দুটোর একটিও সেই অর্থে (ব্যয় বিচারে) বাড়েনি। বরং ১৬ বছরে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান গুনেছে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। সেটি অব্যাহত ছিল গেল অর্থবছরেও-প্রায় পৌনে ৩ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশে রেলওয়েকে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই জিইয়ে রাখা হয়। এজন্য লোকোমোটিভ ঘাটতির কথা বলা হয়। জানানো হয়, যাত্রীবাহী ট্রেন সচল রাখতে এবং বিভিন্ন উৎসব মৌসুমে মেরামতের উদ্দেশ্যে ট্রেনের ইঞ্জিন সরিয়ে রাখা হয়। ফলে কনটেইনার ট্রেনের জন্য ইঞ্চিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
মূলত: রেলের পরিকল্পনায় পণ্য পরিবহন কখনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়নি বলেই এ সংকট রয়ে গেছে। আবার শিল্প খাতসংশ্লিষ্ট অনেকে জানিয়েছেন, কনটেইনার যথাসময়ে গন্তব্যে না পৌঁছানোয় অনেক রফতানিকারক রেলপথ ছেড়ে সড়কপথ বেছে নিচ্ছেন। মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক সংকটের মাঝে যখন পোশাক খাতের মতো শিল্প ধুঁকছে, তখন মালিক বা ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনে ব্যয় কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। এক্ষেত্রে রেলওয়ে লজিস্টিক অনেক সাশ্রয়ী হওয়ার কথা।
রেলের সংকট সমাধানের বৈশ্বিক উদাহরণও আমাদের সামনে রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ‘ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর’ নির্মাণের মাধ্যমে এ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শিল্প বিপ্লবের অন্যতম মেরুদ-ে রূপ দিয়েছে। পণ্যবাহী ট্রেনের জন্য আলাদা করিডোর নির্মাণ, শিল্প-কারখানা ও বন্দরের সঙ্গে সরাসরি রেল সংযোগ এমনকি বাণিজ্যিক লজিস্টিক পার্ক নির্মাণ করে তারা রেল কাঠামোকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছে।
পাকিস্তানের মতো আর্থিক সংকটে থাকা দেশও রেলের আয়-ব্যয়ের মধ্যে তুলনামূলক ভারসাম্য রাখতে সক্ষম হয়েছে, কারণ সেখানে পণ্য পরিবহনকে কৌশলগত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে রেল মূলত একটি ব্যক্তি খাতনির্ভর শিল্প। ওখানে মালবাহী পরিষেবাই প্রধান। চীন যাত্রীবাহী হাই-স্পিড রেল ও মালবাহী করিডোরকে পৃথক রেখেছে এবং উভয় ক্ষেত্রেই বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছে। জার্মানি স্টেশনের ভূমি ব্যবহার করে কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স নির্মাণের মাধ্যমে রেলের বাইরেও রাজস্ব আহরণ করছে। এসব অভিজ্ঞতাই বলছে, রেলকে শুধু ‘সেবা দানকারী’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করা যায় না। এটিকে বাণিজ্যিক লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে পরিকল্পনা নিতে হয়।
দেশে রেল ব্যবস্থাকে টেকসই করার জন্য প্রথমে স্বীকার করতে হবে, সমস্যাটি কারিগরি নয়, বরং কৌশলগত। পণ্য পরিবহনকে রেলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। দেশে যে রেল অবকাঠামো এখন আছে, সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। কনটেইনার ট্রেনকে নির্ধারিত ‘প্রায়োরিটি স্লট’ দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনের জন্য আলাদা সময়সূচি নিশ্চিত করতে হবে। বন্দর ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) সঙ্গে সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপন করতে হবে। পণ্য পরিবহনে ‘সার্ভিস লেভেল অ্যাগ্রিমেন্ট’ চালু করতে হবে।
পর্যায়ক্রমে এক ঘন্টার মধ্যে রাজধানী ঢাকাকে প্রধান আঞ্চলিক শহরগুলোর সাথে যুক্ত করার লক্ষ্যে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক (বুলেট ট্রেন) সংযোগ গড়ে তোলা হবে বলে নির্বাচনী ইশতিহারে ঘোষণা করেছে বিএনপি।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর রেল উন্নয়ন যোগে শুধু প্রধান আঞ্চলিক শহরগুলোর মধ্যেই যেনো সীমাবদ্ধ না থাকে।
ছোট আয়তনের দেশ হওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৫৫ বৎসরেও এখনো ৬৪ জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হয়নি। ঢাকার সঙ্গে যদি সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়, বিশেষ করে ব্রডগেজে যদি সারা দেশ মুড়ে দেয়া যায় তবেই দেশে রেলের উন্নয়নে বিপ্লব হবে। অর্থনীতির চাকাও অব্যক্ত গতিশীল হবে। জনগণও সমৃদ্ধ ও সুখী হবে ইনশাআল্লাহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নারিকেল দ্বীপ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অস্তিত্বের সংকট
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সচেতনতা বনাম আইনি ও সাংবিধানিক বাস্তবতা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রথম কালো এবং তার সহযোগী তথাকথিত পরিবেশবাদী এবং ‘দালাল- এ ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা’- পদ্মা ব্যারাজের বিরোধীতায় নেমেছে।
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কৌশলগত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা: সচেতনতা বনাম আইনি ও সাংবিধানিক বাস্তবতা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যা কিছু ‘কালো’ তার সাথে ‘প্রথম কালো’ প্রথম কালো এবং তার সহযোগী তথাকথিত পরিবেশবাদী এবং ‘দালাল- এ ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা’- পদ্মা ব্যারাজের বিরোধীতায় নেমেছে।
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে "যুদ্ধের ট্রফি" হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (৩)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে “যুদ্ধের ট্রফি” হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জানে না, অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানে না- অথচ ভারত সরকারী-বেসরকারীভাবে জানে- ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে “যুদ্ধের ট্রফি” হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (১)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দুই শক্তির পথচলা এক। গুঞ্জন চলছে আমেরিাকা জামাতকে ক্ষমতায় এনে বাংলাদেশকে লিবিয়া, সিরিয়া, ইরাকের মত করতে চায়
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতা ও বহুমাত্রিক সার্ভে প্রযুক্তি: তুরস্ক, ইরান এবং পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতার রোডম্যাপ (পর্ব-১১)
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












