পানিবদ্ধতা শুধু পানি দুর্ভোগই নয় এর ক্ষতি হরতালের চেয়েও বেশি
সব সরকারের আমলেই নেয়া পানিবদ্ধতা নিরসনের সব টাকা পানিতেই যায়।
এক্ষণি যথাযথ উদ্যোগ না নিলে সামনে অর্থনৈতিক ক্ষতি ভয়াবহ হবে
, ০১ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৭ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাজধানীর ড্রেন, বক্স কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়।
এরপর ২০২১ সালে ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে খাল ও স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর নতুন করে ড্রেন নির্মাণ, খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পাম্পিং স্টেশন উন্নয়ন এবং বর্জ্য অপসারণে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে গত এক দশকে পানিবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন সংস্থা অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে। অথচ দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতেই গোটা ঢাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
কাগজে-কলমে প্রকল্পের উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও বাস্তবে প্রতি বর্ষায় একই চিত্র দেখা যায়।
ঢাকায় অতিবৃষ্টি হলেও ‘১৫ মিনিটের মধ্যে’ পানি নেমে যাবে, আর ‘ পানিবদ্ধতা দেখা যাবে না’-এসব কথা শোনানো হয়েছিল নগরবাসীকে। বলেছিলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন (২০১৭ সালে) এবং ঢাকা দক্ষিণের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস (২০২৩ সালে) খরচ করা হয়েছিল হাজার কোটি টাকা। কিন্তু পানিজট নিরসন শুধু কথার ফুলঝুড়িতেই থেকে যায়।
প্রসঙ্গত পানিবদ্ধতায় শুধু নগরবাসীর যাতায়াত দুর্ভোগই নয় বরং এর আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হরতালের চেয়েও বেশি।
পানিবদ্ধতা ও ভারী বৃষ্টি থাকলে ঢাকায় দিনে দিনে ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার বিক্রি কমে যায়।
টানা বৃষ্টিতে ব্যবসায়ীদের যে ক্ষতি হয়েছে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘প্রভাব আরও এক থেকে দেড় মাস থাকবে। বৃষ্টির পানিতে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্কেটের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা যেমন ব্যবসা করতে পারেননি, তেমনি অনেকেই তাদের মালামালও রক্ষা করতে পারেননি।’
বৃষ্টির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীরা কাজে আসতে পারেননি। কোথাও কোথাও ৩০০ দোকানের মার্কেটে ৩০টির মতো দোকানই খোলেনি। সামগ্রিকভাবে সব মার্কেটেই একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে রাস্তার পাশের অনেক দোকানে বৃষ্টির পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে। মার্কেটের ভেতরের দোকানগুলোর তুলনায় রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে ক্ষতি বেশি হয়েছে।
পানিবদ্ধতার ক্ষতি শুধু পানিতে ভেসে যাওয়া কয়েকটি রাস্তা বা ডুবে যাওয়া কিছু দোকানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি রফতানি কমায়, উৎপাদন ব্যাহত করে, ব্যবসার ব্যয় বাড়ায়, শ্রমঘণ্টা নষ্ট করে, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে এবং সরকারের উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বর্ষায় একই চিত্র ফিরে আসবে-রাস্তা ডুববে, বন্দর থামবে, শিল্পে উৎপাদন কমবে, ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর শেষ পর্যন্ত তার মূল্য দিতে হবে পুরো দেশের অর্থনীতিকে।
পানিবদ্ধতা এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি অর্থনীতির জন্যও বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। এর কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শিল্পকারখানার উৎপাদন কমে যাচ্ছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকা-ে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে।
পানিবদ্ধতার মূল কারণগুলো বহু বছর ধরেই চিহ্নিত। রাজধানীর অধিকাংশ প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার দখল অথবা ভরাট হয়ে গেছে। যেসব খাল দিয়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে চলে যাওয়ার কথা, তার অনেকগুলোই সংকুচিত। ড্রেন নির্মাণ হলেও সেগুলোর সঙ্গে কার্যকর আউটফল বা নদী-খালের সংযোগ নেই। ফলে ড্রেনে জমা পানি শেষ পর্যন্ত বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না। ড্রেনের বড় অংশ কঠিন বর্জ্যে আটকে থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে পড়ে। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। এক সংস্থা রাস্তা নির্মাণ করছে, অন্য সংস্থা ড্রেন করছে, আবার অন্য সংস্থা পাইপলাইন বসাতে রাস্তা কেটে ফেলছে। এতে নতুন নির্মিত অবকাঠামোও অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ছে। দায়িত্ব বদল হলেও বদলায়নি বাস্তবতা।
এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর নগর পরিকল্পনা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ও পানিধার পুনরুদ্ধার এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে পানিবদ্ধতার অর্থনৈতিক ক্ষতি আগামী বছরগুলোতে আরও বৃদ্ধি পাবে।
এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হলে শহরের খালগুলো পুনরুদ্ধার করতে হবে, নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ ফিরিয়ে আনতে হবে। পানি যদি বাধাহীনভাবে নদীতে প্রবাহিত হতে পারে, তাহলে পানিবদ্ধতা অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে নগরীর পরিবেশও স্বাভাবিক হবে এবং শহর আরও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার বিরোধিতাকারীরা গুমরাহ ও উলামায়ে ‘সূ’র অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে পরিহার করা ফরয-ওয়াজিব।
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূল আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে শুধু পরকালীন শাফায়াত ই একমাত্র চাওয়া পাওয়া নয়;
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সংস্পর্শে নাগরিকদের সংশোধনের জন্য পাঠাতে হবে
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
“মুসলিম বিশ্ব যদি ডলারের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে ‘ইসলামী দিনার’ চালু করে, তবে তা পশ্চিমাদের জন্য পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর জুলাই সনদের ৮ নং অনুচ্ছেদ খএইঞছ এর পরিপূর্ণ প্রতিফলন। তারপরেও ঈমান বিক্রী করে, ইসলামের ধ্বংস ডেকে তথাকথিত ইসলামী দল কী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে? জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বি.এন.পির নির্বাচনী ইশতেহারে এর সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামী অনুভূতির প্রতি সহযোগী মনোভাবের চরম খেলাফ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমান মায়েরা কেন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে গাফলতি করবে?
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, শুধুমাত্র মধ্যস্বত্য ভোগী, তথা সিন্ডিকেট নির্মূলেই দ্রব্যমূল্য সুলভ করা সম্ভব।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বছরে সাশ্রয় করতে পারে ১ বিলিয়ন ডলার।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যাংক শোষণের কারণে শুধু একজন মালিকই নয় বা লাখ লাখ শ্রমিকই নয় বরং গোটা আর্থ-সামাজিক খাত হয় ক্ষত-বিক্ষত, বিপর্যস্ত, লা’নতগ্রস্ত, বেকারত্বে জর্জরিত।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












