নারিকেল দ্বীপ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অস্তিত্বের সংকট
, ১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
বাংলাদেশের মানচিত্রে নারিকেল দ্বীপ (সেন্টমার্টিন)। হয়তো একটি ক্ষুদ্র বিন্দু, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তার গুরুত্ব অপরিসীম। শত বছরের নদী, পলি এবং মানুষের নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই ব-দ্বীপের প্রতিটি ইঞ্চি কেবল মাটি নয়; এটি সংগ্রাম, পরিচয়, সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের অস্তিত্বের এক জীবন্ত প্রতীক। তাই এই ব-দ্বীপের কোনো অংশের ভবিষ্যৎ প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং জাতীয় স্বার্থের গভীর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
কারণ পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর তথা বঙ্গোপসাগর এর সাথে দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলের যোগাযোগের কেন্দ্র এই দ্বীপ।
অভিযোগ উঠেছে যে, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, মার্কিন ডিপ টেস্টের এজেন্ট ইউনুস সরকার নারিকেল দ্বীপকে জনশূন্য করার যে পরিকল্পনা করে গিয়েছিল, সেই পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের পথে। জনশূন্য পর্যটনশূন্য করে সেটিকে মার্কিন ঘাঁটি বানানোর উদ্দেশ্যে কৌশলে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূখন্ড নারিকেল জিঞ্জিরা বা নারিকেল দ্বীপকে কৃত্রিমভাবে বিদ্যুৎহীন করে রাখা হচ্ছে। একই সাথে খাদ্য সংকট তৈরি করা, জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ করা, পর্যটন সীমিত করা এবং জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার মতো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর ফলে দ্বীপে দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা মানুষকে জীবিকার তাগিদে বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে শহরে ছুটতে বাধ্য করবে।
দ্বীপবাসী তায়েব উল্লাহ এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, গত ৫৫ ঘণ্টায় এক সেকেন্ডও বিদ্যুৎ আসেনি। তাই এভাবে সুপার পাওয়ার সেভিং মোডে মোবাইল ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিচ্ছু করার নাই।
তিনি আরও বলেন, পিডিপির আট একর জায়গা এবং অনেক ভবন ১৯৯১ সাল থেকে পড়ে থাকলেও, সদিচ্ছার অভাবে সরকারি বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ জানান এই বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, নারিকেল দ্বীপ একপর্যায়ে জনশূন্য হয়ে গেলে প্রথমে মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি দ্বীপটি দখল করতে পারে। সেই দখলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হবে। ঠিক তখনই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার নাম করে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে মার্কিন ঘাঁটি তৈরি হবে নারিকেল দ্বীপে। এরপর পুরো নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে চলে যাবে এবং একসময় স্থায়ীভাবে বাংলাদেশের ভূখ- নারিকেল দ্বীপ দখল করা হবে। এমনিতেই জনমানবহীন ও পর্যটকশূন্য এই দ্বীপে কুকুরের উপদ্রব তো আছেই।
এই দ্বীপকে ঘিরে বর্তমান নীতিগত অবস্থানের পেছনে কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের যুক্তিই নয়, বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণও কাজ করছে। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সময়ে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত এবং পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, পর্যটন, জাহাজ চলাচল ও দ্বীপের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে ধারাবাহিক বিধিনিষেধ এই দ্বীপকে ধীরে ধীরে জনশূন্য করার ঝুঁকি তৈরি করছে। এমনকি ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলেও প্রবাল সংরক্ষণের যুক্তি দেখিয়ে একই ধরনের সীমাবদ্ধতা বহাল থাকতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা। তবে সরকার বরাবরই বলে আসছে, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কেবল পরিবেশ ও প্রবালপ্রাচীর সংরক্ষণ।
আমেরিকা সাবেক উপদেষ্টা ইউনুস এবং রেজওয়ানাকে ব্যবহার করে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের নামে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে, যার ফলে বর্তমান সরকার নারিকেল দ্বীপ নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারেক রহমানের বিএনপি সরকার চাইলেও নারিকেল দ্বীপ নিয়ে কাজ করতে পারবে না; কোরালের অজুহাতে বিভিন্ন মহল তাদের আটকে দেবে। তবে মূল কথা হলো, এর পেছনে আমেরিকার চাপ রয়েছে। আমেরিকা ইউনুসকে দিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী চুক্তি করিয়ে অনেকটা সফল হওয়ার পথে।
এই সংকটকে ঘিরে আরও বড় ভূরাজনৈতিক আশঙ্কাও সামনে আনছেন সমালোচকদের একাংশ। তাদের মতে, যদি একসময় এই দ্বীপ কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়ে, তাহলে দ্বীপটির নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী পরিস্থিতি এবং আরাকান অঞ্চলের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সেখানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। সেই ধরনের কোনো সংকট তৈরি হলে আন্তর্জাতিক শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেও তাদের দাবি।
জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে এ ধরনের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও নেই। পর্যটন নিয়ন্ত্রণ, জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা এবং দ্বীপের অর্থনৈতিক কর্মকা- সংকুচিত হওয়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদে নারিকেল দ্বীপ জনশূন্য হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
তাই সরকারের উচিত দ্রুত নারিকেল দ্বীপ এর পর্যটন শিল্প ফিরিয়ে দেয়া। যাতে করে ব্যবসা বাণিজ্য পর্যটন শিল্প এবং দেশে অর্থনীতি চাঙ্গা থাকে।
-মুহম্মদ ইব্রাহীম খলিল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাঁটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম দেশগুলোর উচিৎ মক্কা চুক্তিকে আরো বিশুদ্ধ ও বিস্তৃত করা যাতে ভারতের গোস্বা এত বাড়ে যে তাদের গোস্বার অনলেই তারা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












