কেন দাঁড়িয়ে যায় শরীরের লোম?
, ১লা ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৭ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পাঁচ মিশালী
প্রচণ্ড শীত, হঠাৎ ভয় কিংবা কোনো আবেগঘন মুহূর্ত-এসব পরিস্থিতিতে অনেকেরই শরীরে শিহরণ জাগে, মুহূর্তেই দাঁড়িয়ে যায় গায়ের লোম। আমরা একে সাধারণভাবে ‘গায়ে কাঁটা দেওয়া’ বলি। কিন্তু এই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার পেছনে রয়েছে শরীরের জটিল স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোনের সূক্ষ সমন্বয়।
শরীরে যদি শিহরণ জাগে, তাহলে রোমগ্রন্থিগুলোও সক্রিয় হয়ে ওঠে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় ‘পাইলোইরেকশন’। ব্যাপারটা আসলে কী? কেনই বা দাঁড়িয়ে যায় শরীরের লোম?
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এটি মূলত স্নায়ুতন্ত্র ও স্টেম কোষের যৌথ কার্যক্রমের ফল। দুইটি মিলেই রোমগ্রন্থিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। ত্বকের কোষ থেকে সংকেত পৌঁছায় স্নায়ুতে এবং স্নায়ু থেকে তা সরাসরি গিয়ে পৌঁছে যায় মস্তিষ্কে। কোনো কারণে উত্তেজনা তৈরি হলে বা পরিবেশ-আবহাওয়ার আচমকা বদল হলে তার রেশ পড়ে ত্বকের নীচে থাকা কোষগুলোতে। এই পরিবর্তনের সংকেত কোষ থেকে স্নায়ুবাহিত হয়ে গিয়ে পৌঁছায় মস্তিষ্কে। ত্বকের নীচে অসংখ্য কোষ রয়েছে।
গবেষকরা জানাচ্ছে, তিন রকমের কোষ থাকে-এপিথেলিয়াম, মেসেনকাইম ও স্নায়ুকোষ।
উত্তেজনা, শিহরণ ইত্যাদি এই সব কোষ থেকে যে স্নায়ুতে যায় তার নাম সিমপ্যাথেটিক স্নায়ু। এই সিমপ্যাথেটিক স্নায়ু হলো স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ। সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুই ত্বকের কোষ ও পেশির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এই স্নায়ুতে উদ্দীপনা জাগলে তখন লোম খাড়া হয়ে ওঠে।
আরও কিছু ঘটনা ঘটে ত্বকে। ত্বকের নীচে থাকা প্রতিটি লোমকূপ বা হেয়ার ফলিকলের গোড়ায় ‘অ্যারেক্টর পিলি’ নামে এক ধরনের অত্যন্ত ক্ষুদ্র পেশি থাকে। শরীরে উদ্দীপনা তৈরি হলে এই পেশিগুলো সংকুচিত হয়। তখন লোমগুলো একসঙ্গে খাড়া হয়ে ওঠে এবং সেই লোমকূপের আশপাশে থাকা ত্বকও ফুলে ওঠে। দেখলে মনে হয়, সারা গায়ে ছোট ছোট দানাদার গুটি তৈরি হয়েছে।
কখন গায়ে কাঁটা দেয়?
অনেক কারণ আছে। আবহাওয়ার বদল একটি বড় কারণ। বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গেলে শরীর তার ভিতরের তাপমাত্রা ধরে রাখার চেষ্টা করে। লোম খাড়া হলে ত্বকের ঠিক উপরেই একটি স্তর তৈরি হয়, যা ভিতরের তাপকে বাইরে বেরিয়ে যেতে বাধা দেয়। অর্থাৎ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করাও এর একটি কাজ।
হঠাৎ প্রচ- ভয় পেলে, রেগে গেলে অথবা অধিক উত্তেজিত হলে শরীর নিমেষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তখন লোম খাড়া হয়ে ওঠে। পশুদের ক্ষেত্রেও তা দেখা যায়। যেমন বিড়াল ভয় পেলে লেজ ও গায়ের লোম ফুলিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে।
ভয় বা আতঙ্ক কেবল নয়, পছন্দের বা আবেগঘন কোনো মুহূর্তেও গায়ের লোম খাড়া হতে দেখা যায়। আসলে কোনো কারণে উত্তেজনা তৈরি হলে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই হরমোন ত্বকের নীচে থাকা পেশিগুলোর সংকোচন ঘটায়। ফলে লোম খাড়া হয়ে ওঠে এবং নিমেষে মসৃণ ত্বকও দানাদার ও খসখসে হয়ে ওঠে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
১০ মিনিটেই হবে ৮০ শতাংশ চার্জ
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ডিমের কুসুমের সঙ্গে থাকা সাদা অংশটি খাওয়া কি নিরাপদ!
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ধানখেতে জালে আটকা পড়লো ১০ ফুট অজগর
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাকাশ থেকে রহস্যময় ধাতব এসে পড়লো সমুদ্রসৈকতে
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেতিয়ান-বান জিওক সীমান্ত
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ভালো ঘুম আর ওজন কমাতে ম্যাগনেসিয়ামের ভূমিকা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বরফের ছোট চাঁদের চারপাশে বিশাল তরঙ্গের জাল আবিষ্কার
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
২৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে নাসার ক্যামেরায় তারার অপরূপ দৃশ্য
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
জুলাইয়ে রাতের আকাশ সাজবে নতুন রূপে
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দেশে প্রথম টাকার প্রচলন শুরু হয় যেদিন থেকে
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ভুলে লেন্স পরার সময় চোখ নষ্ট হয়
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশে প্রথম টাকার প্রচলন শুরু হয় যেদিন থেকে
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












