শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার প্রতি ইমামুল মুসলিমীন, হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চূড়ান্ত আদবের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন
, ০৯ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৮ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ইলমে তাছাউফ
ইমামুল মুসলিমীন, ইমামে আ’যম, হযরত আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুস সাদিস, সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবতের সওগাত হাছিলের জন্য উনার দরবার শরীফে যেতেন এবং উনার নছীহত মুবারক খাছভাবে গ্রহণ করতেন। এ প্রসঙ্গে হযরত আমর ইবনে জামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- একবার আমি, হযরত ইবনে আবী লাইলা রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সিবরামাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার দরবার শরীফে গেলাম।
হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ইবনে আবী লাইলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে লক্ষ্য করে বললেন- আপনার সাথে আগত এই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি কি জানেন? তিনি বললেন- তিনি এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও সম্মানিত দ্বীনের হুকুম-আহকামের ব্যাপারে অত্যন্ত অভিজ্ঞ। ফিরাসাত বা অন্তদর্ৃৃষ্টি সম্পন্ন খাছ ইলমে লাদুন্নী (যে ইলিম মহান আল্লাহ পাক তিনি বিনা মধ্যস্থতায় সরাসরি হাদিয়া করেন) প্রাপ্ত অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান। হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি একথা শুনে বললেন, তিনি কি সম্মানিত দ্বীন উনার হুকুম-আহকামের ক্ষেত্রে কিয়াস করে থাকেন? হযরত আমর ইবনে জামী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, হ্যাঁ, তিনি সেরূপ কিয়াসই করে থাকেন যেরূপ কিয়াস করেছিলেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা।
স্মর্তব্য, ইমামে আ’যম, হযরত আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিরুদ্ধবাদীরা উনার সম্পর্কে অত্যন্ত খারাপ ধারণা পোষণ করতো। নাউযুবিল্লাহ! এমনকি তা উনার সম্মানিত শায়েখ হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকেও অবহিত করেছিলো। সে বিষয়টি মুসলিম উম্মাহ্র কাছে সুস্পষ্ট-পরিষ্কার করার জন্য হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। যার ফলে বিরুদ্ধবাদীদের মুখ থুবড়ে যায়। আর মুসলিম উম্মাহ তাদের দুরভিসন্ধি বুঝতে পারে।
বর্ণনাকারী বলেন, হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি তখন ইমামে আ’যম, হযরত আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন- আপনার নাম কি? তিনি বললেন- নু’মান। হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি বললেন- হে নু’মান! আপনার মাথা মুবারক সম্পর্কে আপনি কি কিয়াস করবেন?
আপনি কি জানেন, কানের ভিতরে তিতা তৈলাক্ততা থাকে কেন? চোখের পানি লবণাক্ত কেন? নাকের ভিতর থেকে গরম বাতাস বের হয় কেন? দুই ঠোঁটের মাঝে মিষ্টতা অনুভব হয় কেন? ইমামে আ’যম, হযরত আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, সম্মানিত শায়েখ আলাইহিস সালাম! না, তা আমার জানা নেই। হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনি কি জানেন, এমন কোন্ কালিমা আছে, যার প্রথম অংশ কুফরী আর শেষাংশ ঈমান? ইমামে আ’যম, হযরত আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কোন কথা বলার পূর্বেই হযরত ইবনে আবী লাইলা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন- হে আহলে বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি দয়া করে যে সকল প্রশ্ন করলেন তার উত্তর কি হতে পারে তা আমাদেরকে জানান।
হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমার পিতা আমার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, মহান আল্লাহ পাক আদম সন্তানের উপর ফযল-করম ও অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের চক্ষুদ্বয়ের পানিকে লবনাক্ত করেছেন। তাদের চক্ষুদ্বয়ে রয়েছে দু’ টুকরা চর্বি। যদি সেই পানি লবনাক্ত না হতো তাহলে চক্ষুদ্বয় সুস্থ থাকতে পারতো না। মহান আল্লাহ পাক উনার রহম, করম, দয়া ও ইহসান যে, তিনি কানদ্বয়ের ভিতরে তিতা-তৈলাক্ততার সৃষ্টি করেছেন। যেটা কানের পর্দাস্বরূপ। তিতাযুক্ততার কারণে পোকা-মাকড় প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। যদি সেই তিক্ততার পর্দা না থাকতো তাহলে কানে কোন পোকা-মাকড় ঢুকলে তা মগজে প্রবেশ করতো। কাজেই, যখন কোন পোকা-মাকড় কানে প্রবেশ করে তখন সেই তিতা তৈলাক্ততার কারণে মগজে প্রবেশ করতে পারে না। তার কারণে ভিতরে অবস্থানও করতে পারে না। বাধ্য হয়ে বের হওয়ার পথ খুঁজতে থাকে। নাকে ছিদ্রদ্বয়ের দ্বারা গরম বাতাস প্রবাহিত করেছেন। যদি সেখান দিয়ে গরম বাতাস বের না হতো তাহলে মগজ ক্ষতিগ্রস্থ হতো। মহান আল্লাহ পাক তিনি খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণের জন্য দুই ঠোঁট দান করেছেন। তা দ্বারা মানুষ খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করে এবং তার স্বাধ আস্বাদন করে।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭২)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭১)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭০)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৯)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৬)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৮)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৭)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৬)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৫)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












