ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৩) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’জীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
, ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ইলমে তাছাউফ
“একবার আমিরুল মু’মিনীন, হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা লাঠি মুবারক রক্ষিত ছিলো। জাহাজাহ গিফারী নামের এক ব্যক্তি তার রানের উপর সে লাঠিটি রেখে ভেঙ্গে ফেলতে উদ্যত হলো। যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন উনারা একযোগে লোকটিকে এ অপকর্ম থেকে নিবৃত করলেন। অল্প কিছুদিন পরেই তার উরুদেশে দেখা গেলো একটা ফোঁড়া তারপর তা পঁচতে শুরু করলো। পঁচন থেকে অব্যাহতি পাওয়ার নিমিত্তে তার পা কেটে ফেলতে হলো। এভাবে অপদস্ত, অপমানিত হয়ে সে মৃত্যুমুখে পতিত হলো।” (মাদারিজুন্ নুবুওওয়াত)
উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার সম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মা’রিফাত ও সীমাহীন মুহব্বতের একমাত্র সেতুবন্ধন হচ্ছেন কামিল শায়েখ, উলিল আমর তথা হক্কানী-রব্বানী, আলিম-ওলীআল্লাহগণ। সেক্ষেত্রে উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মত মুহব্বত ও তা’যীম-তাকরীম করা আবশ্যক। উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়কে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মতই তা’যীম-তাকরীম করা, তাবারুক বা বরকতময় মনে করা অপরিহার্য।
উল্লেখ্য যে, কোন বিষয় হতে পরিপূর্ণ ফায়দা হাছিলের ক্ষেত্রে সে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে সম্পাদন করা পূর্বশর্ত।
গুরুত্ব, মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম ব্যতীত যত আমলই করা হোক না কেন তা দ্বারা পূর্ণরূপে ফায়দা হাছিল করা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ পাক উনার বারগাহে ইখলাছ ও গুরুত্ব সহকারে আমল করা না হলে তা কবুল বা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয় না।
কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব:
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
كَمْ مِنْ صَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ صِيَامِهِ إِلاَّ الظَّمَأُ وَكَمْ مِنْ قَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ قِيَامِهِ إِلاَّ السَّهَرُ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, অনেক রোযাদার আছে যারা রোযার প্রতিদানে ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ব্যতীত কিছুই লাভ করতে পারে না। আবার অনেক রাত জাগরণকারী আছে যারা রাত জাগরণের কষ্ট ব্যতীত আর কিছুই লাভ করতে পারে না।” (দারেমী শরীফ ও মিশকাত শরীফ/১৭৭)
রাত জাগরণ ও নিয়মিত নফল রোযা রাখার মত কষ্ট সাধ্য-ইবাদত করার পরেও যদি ইখলাছ না থাকার কারণে তা নিস্ফল হয়ে যায় সেক্ষেত্রে কামিল শায়েখ উনার ছোহবতে গিয়ে উনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির প্রতি মুহব্বত যদি অন্তরে বদ্ধমূল না হয় তা’যীম-তাকরীম করতে না পারে, তাহলে আসা-যাওয়ায় পরিশ্রম ভিন্ন পূর্ণ ফায়দা লাভ করা কিংবা কাঙ্খিত সফলতা লাভ করা যে কঠিন তা বলাই বাহুল্য।
মাহবুবে ইলাহী, হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফে একবার “বল্খ” হতে দু’জন ব্যক্তি আসলো। তারা মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফাত-মুহব্বত প্রার্থী। তারা তাদের এ সৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে সুদীর্ঘ ছয় মাসের পথ পাড়ি দিয়ে হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফে উপস্থিত হলো। দরবার শরীফে হাজির হয়ে সম্মানিত শায়েখ উনার মোলাকাত লাভের পূর্বে দরবার শরীফস্থ অনেক চেনা-অচেনা জিনিস অবলোকন করলো।
মাহবুবে ইলাহী, হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হুজরা শরীফ সম্মুখস্থ একটি চৌবাচ্চাও আগত দু’ব্যক্তির দৃষ্টি গোচর হলো। এক পর্যায়ে তারা চৌবাচ্চার গভীরতা ও প্রশস্থতা নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলো। একজন বলছিলো, এ চৌবাচ্চাটি আমাদের এলাকার অমুক চৌবাচ্চাটি হতে অনেক ছোট এবং গভীরতাও কম বলে মনে হচ্ছে। অপর ব্যক্তি তার কথায় প্রতিবাদী হয়ে বললো, তোমার কথা শুদ্ধ হয়নি। বরং এ চৌবাচ্চাটি তোমার কথিত চৌবাচ্চাটির চেয়ে ভালো এবং বড়। তাদের বাদানুবাদের বিষয়টি হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি পর্যন্ত পৌঁছলো। আর পৌঁছাই স্বাভাবিক।
কেননা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়, একান্ত মনোনীত আশিক বান্দাদের অন্তরে এমন বিশেষ নূর স্থাপন করেন, যার নূরের আলোতে উনাদের অন্তর থাকে সর্বদা নূরান্বিত। ফলে পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত, আসমান হতে জমীন পর্যন্ত কোন কিছুই উনাদের নিকট গোপন থাকে না। আরো কত শত রহস্যাবলী উনাদের সীনা মুবারকে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমানত রেখেছেন তা সাধারণ মানুষতো দূরের কথা জাহিরী ইলিমের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ পর্যন্ত তার কোন কল্পনাও করতে পারে না। আর এরূপ অবস্থা একজন মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফাত-মুহব্বতের পথ নির্দেশকারী, ইসলামের হাকীকী ধারক-বাহকের জন্য আবশ্যক।
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭২)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭১)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭০)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৯)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৬)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৮)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৭)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৬)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৫)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












