শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার সাথে তায়াল্লুক-নিসবত ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক রাখার দাবি করা অবান্তর
, ১৭ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইলমে তাছাউফ
পবিত্র ইলমে তাছাউফ উনার মূল বিষয় হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার মত মুবারক অনুযায়ী হওয়া, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথ মুবারক অনুযায়ী হওয়া।
যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনাকে সরাসরি পাওয়া যাবে না, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেও সরাসরি পাওয়া যাবে না। সেহেতু যিনি নায়িবে নবী, ওয়ারিছে নবী-উলিল আমর উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে এবং উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক পালন করে রিদ্বায়ে মাওলা, রিদ্বায়ে রসূল, রিদ্বায়ে মুর্শিদ কিবলা উনাদের হাছিল করতে হবে।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে- বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। মুখতালিফ বর্ণনা- তিনি ২৫০ থেকে ৫০০ বৎসর হায়াত মুবারক পেয়েছিলেন। তবে কমপক্ষে ২৫০ বছর হায়াত মুবারক পেয়েছিলেন। তিনি আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হন এবং উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করেন। কারন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,“ মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে যে নিয়ামত দিয়েছেন উনার থেকে একজন উম্মত হিসেবে সর্বোচ্চ যতটুকু ধারণ করা সম্ভব তার পুরোটাই আমি হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছি।” সুবহানাল্লাহ!
এক্ষেত্রে আরো একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে, এই উপমহাদেশের বিশিষ্ট আলিম, হযরত শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার ওসীলায় পাক ভারত উপমহাদেশে পবিত্র হাদীছ শাস্ত্রের প্রচার-প্রসার হয়েছে, অনেক দ্বীনি খিদমত হয়েছে। উনার ছানা-ছিফত বলার অপেক্ষা রাখে না।
বর্ণিত রয়েছে, জীবনের একসময়ে যখন তিনি পবিত্র মদীনা শরীফে অবস্থান করেছিলেন, অহরহ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত মুবারক লাভ করেছিলেন। এক পর্যায়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নির্দেশ মুবারক দিলেন, “হে হযরত আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি হিন্দুস্থানে যান। সেটাই হবে আপনার হিদায়েতের ক্ষেত্র।” কিন্তু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রওযা শরীফ ছেড়ে আসতে কিছুতেই উনার মন চাচ্ছিলো না। অবশেষে তিনি আরজু করলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি এখান থেকে হিন্দুস্থান গেলে আপনার জুদায়ীর কারণে নির্ঘাত আমার মৃত্যু হবে। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, “ঠিক আছে, আপনাকে প্রতিদিনই আমার সাক্ষাৎ মুবারক দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ! এ রকমই ছিল উনার বুযুর্গী।
সেই বুযুর্গ উনার যামানার যিনি মূল খলীফা বা প্রতিনিধি, যিনি যামানার মুজাদ্দিদ, আফদ্বালুল আওলিয়া হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটি বক্তব্য; যা তিনি গাওছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সবচেয়ে বেশি কারামত প্রকাশিত হওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হয়ে বলেছিলেন, “পবিত্র ইলমে তরীক্বত বা পবিত্র তাছাউফ উনাদের একটি বিষয় হচ্ছে উরূজ এবং নুযূল। উরূজের শুরু হচ্ছে পবিত্র ক্বলব উনার মাক্বাম এবং নুযূলেরও শেষ হচ্ছে পবিত্র ক্বলব উনার মাক্বাম। উরূজ-নুযূল পূরা হলে সাধারণভাবে কারামত মুবারক প্রকাশিত হতে দেখা যায় না।
কিন্তু হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র ক্বলব উনার মাক্বামে নুযূল শেষ না হয়ে নুযূল শেষ হয়েছে পবিত্র রূহ উনার মাক্বাম পর্যন্ত। আর পবিত্র রূহ উনার মাক্বাম হচ্ছে সামান-আসবাবের উর্ধ্বে। যে কারণে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় উনার থেকে কারামত মুবারক বেশি প্রকাশিত হয়েছে।” হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এই বক্তব্যটি উনার বিরূদ্ধবাদীরা গ্রহণ করে ইতোপূর্বেই পবিত্র ক্বাদিরিয়া তরীক্বা উনার প্রসিদ্ধ বুযূর্গ হযরত শায়েখ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে উপস্থাপন করে এ বিষয়ে একখানা ফতওয়া তলব করে।
তিনি ফতওয়া লেখা আরম্ভ করে তা শেষও করলেন যে, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গাওছুল আ’যম, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মর্যাদা মুবারক ক্ষুন্ন করেছেন। যা কুফরী হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ! এরই মাঝে তিনি একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক যিয়ারতকালে বললেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কি করলে আমি আপনার আরো অধিক সন্তুষ্টি মুবারক পেতে পারি?’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, “আপনি শায়েখ আহমদ ফারূকী সিরহিন্দী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে গিয়ে বাইয়াত হলে আমার আরো অধিক সন্তুষ্টি মুবারক পাবেন।” সুবহানাল্লাহ! পরক্ষণেই তিনি হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিরুদ্ধে লিখিত ফতওয়াখানা যা তখনও প্রকাশ করা হয়নি তা ছিঁড়ে ফেললেন। অতঃপর কয়েকদিনের ভিতরে খোঁজখবর নিয়ে উনার পবিত্র দরবার শরীফ গিয়ে উনার কাছে বাইয়াত হয়ে মুরীদ হয়ে গেলেন এবং পরবর্তীতে উনার নিকট থেকে খিলাফত মুবারক লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৭) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১১)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৬) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আদব রক্ষা করার গুরুত্ব
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৪) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৩) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’জীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫২) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫১) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












