ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৬) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
, ০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ইলমে তাছাউফ
২২। কামিল শায়েখ উনার ব্যবহৃত খাছ কোন কিছুই ব্যবহার করবে না। উনার জায়নামায ও না’লাইন মুবারকের উপর পা রাখবে না। ওযূ-গোসলের স্থানে ওযূ-গোসল করবে না। ইস্তিঞ্জাখানার ক্ষেত্রেও একই হুকুম। (মাকতুবাত শরীফ)
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, কামিল শায়েখ উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল জিনিসই উনার মত সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। সুতরাং উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় বস্তুর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করা মুরীদের জন্য অতি আবশ্যক। অন্যথায় তার ইলিম ও আমলের বরকত উঠে যায়। আমলের শক্তি খর্ব হয়, অন্তর- নূরের অবসান ঘটে। সর্বোপরি তার অবমূল্যায়ণ দ্বারা হেদায়েতের পথ হতে বিচ্যূত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে প্রবলভাবে। এমনিভাবে বাহ্যিক ক্ষয়-ক্ষতি ও আকস্মিক বিপদ-আপদও এসে পড়ে অনেকাংশে। যা নিম্নলিখিত ঘটনায় পরিস্ফুটিত হয়েছে।
হযরত আব্দুল্লাহ আনছারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন যে, “একবার এক অপরাধের কারণে আমার পায়ে বেড়ী লাগিয়ে বলখের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো। সারা পথ আমি এ চিন্তা করতে লাগলাম যে, আমার পা নিশ্চয়ই কোন গুরুতর অপরাধ করেছে। যার ফলে আমাকে এভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে হয়েছে। বলখ নগরে উপস্থিত হওয়া মাত্রই দেখলাম লোকগণ আমাকে প্রস্তর বর্ষণ করার জন্য হাতে পাথর নিয়ে ভবনগুলির ছাদের উপর উঠে দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক এমনি সময় হঠাৎ আমার প্রতি ইলহাম হলো- হে ব্যক্তি! অমুক দিন সুলতানুল আরিফীন, হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জায়নামায বিছানোর সময় তাতে তোমার পা লেগে গিয়েছিলো। অদ্যকার এ বিপদ তারই সাজাস্বরূপ।”
তখন আমি সঙ্গে সঙ্গে তওবা করলাম এবং ভবিষ্যতে সতর্কতা রক্ষা করে চলবো বলে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম। ফলে প্রস্তর হাতে দন্ডায়মান লোকগণ আমার প্রতি প্রস্তর নিক্ষেপ করলো না। তাদের হাতগুলি যেন অবশ হয়ে গেলো এবং আমার পায়ের জিঞ্জির আপনা হতেই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলো। বলখের শাসকও আমাকে মুক্তি দান করলো। (তাজকিরাতুল আউলিয়া)
২৩। কামিল শায়েখ যদি কোন মাসয়ালা-মাসায়িল বা অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেন তবে তা জানা থাকলেও চুপ থাকবে এবং গভীর মনোযোগ সহকারে শুনতে থাকবে। কখনও নিজের ইলিম জাহির করার কোশেশ করবে না।
হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مِنَ الشَّجَرِ شَجَرَةً لاَ يَسْقُطُ وَرَقُهَا وَإِنَّهَا مَثَلُ الْمُسْلِمِ فَحَدِّثُونِي مَا هِيَ فَوَقَعَ النَّاسُ فِي شَجَرِ الْبَوَادِي قَالَ عَبْدُ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَوَقَعَ فِي نَفْسِي أَنَّهَا النَّخْلَةُ فَاسْتَحْيَيْتُ ثُمَّ قَالُوا حَدِّثْنَا مَا هِيَ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ هِيَ النَّخْلَةُ
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, এমন একটা গাছ আছে যার পাতা ঝরে পড়ে না। আর সেটা মুসলমানগণের দৃষ্টান্তস্বরূপ। আপনারা আমাকে বলুন তো সেটা কি? তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বনের বিভিন্ন গাছ-পালার কথা চিন্তা করতে লাগলেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমার মনে হলো- সেটা খেজুর গাছ। কিন্তু আমি বলতে লজ্জাবোধ করেছিলাম। (কেননা সে মজলিসে হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম, হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাদের মত বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উপস্থিত ছিলেন কিন্তু উনারা কোন কথা বলছেন না।) অবশেষে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আরজু করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! অনুগ্রহপূর্বক আপনিই বলে দিন, সেটা কি গাছ? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, সেটা খেজুর গাছ।” (বুখারী শরীফ/১৪, উমদাতুল কারী শরহে ছহীহ বুখারী-২/১৩)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৭) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার সাথে তায়াল্লুক-নিসবত ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক রাখার দাবি করা অবান্তর
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১১)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আদব রক্ষা করার গুরুত্ব
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৪) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৩) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’জীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫২) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫১) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












