ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৪) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
, ০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ইলমে তাছাউফ
কারণ যাদের উছিলায় মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাত পরিচালিত হয় উনাদের নিকট যদি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ভোরের আলোর মত পরিষ্কার ও স্পষ্ট না হয় এবং মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে গভীর নিসবত না থাকে তাহলে কায়িনাত পরিচালনা করা, মানবতার মুক্তির জন্য ছহীহ সিদ্ধান্ত দেয়া অসম্ভব। দ্বীন ইসলামকে সমুন্নত রাখার পথে নানাবিধ দুঃখ কষ্ট সহ্য করাও কঠিন।
হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আগন্তুক দুই ব্যক্তির মনের অবস্থা অবলোকন করে সাক্ষাত দান করলেন। তাদের কুশলাদী জিজ্ঞাসা করার পর জানতে চাইলেন তাদের অভিপ্রায় কি এবং কেনই বা ছয় মাসের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে উনার দরবার শরীফে তারা আগমণ করেছে? জাওয়াবে তারা দু’জনই বললো, ‘আমরা বাইয়াত হওয়ার জন্য এসেছি।’ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মা’রিফাত-মুহব্বত প্রাপ্তির নিমিত্তে নিজেকে নিবেদিত করার জন্য তারা আশাবাদী।
তখন মাহবুবে ইলাহী, হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “ঠিক আছে, বাইয়াত গ্রহণ তো করবে; তার পূর্বে তোমরা নিজ দেশে ফেরত যাও এবং তোমাদের সেই চৌবাচ্চাটি মেপে আসো।” উনার নির্দেশ মুতাবিক তারা নিজ দেশ অভিমুখে রওয়ানা করলো। বাড়িতে পৌঁছে তারা তাদের চৌবাচ্চাটি মাপতে লাগলো। দেখা গেলো, যে ব্যক্তিটি বলেছিলো- “এ চৌবাচ্চাটি (কুয়া) আমাদের এলাকার চৌবাচ্চার (কুয়ার) চেয়ে বড় এবং ভালো।” তার কথাই সত্য বলে প্রমাণিত হলো। অপর ব্যক্তির কথা ভুল প্রমাণিত হলো। চৌবাচ্চার মাপ শেষ করে তারা আবার হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফে রওয়ানা হলো। বহু ত্যাগ শিকার করে, দুঃখ-কষ্ট উপেক্ষা করে আবার দীর্ঘ ছয় মাসের পথ অতিক্রম করে তারা উনার দরবার শরীফে উপস্থিত হলো।
মাহবুবে ইলাহী, হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাদের দু’জনকেই জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের চৌবাচ্চাটি মেপে দেখেছো কি?” তারা লজ্জায় মাথা অবনত করলো। কোন জাওয়াব দেয়ার ভাষা তাদের ছিলো না। পরে তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বলেছিলো, “হুজরা শরীফ সংলগ্ন চৌবাচ্চাটি তাদের আলোচিত চৌবাচ্চাটির চেয়ে বড় এবং ভালো।” তার বাইয়াত কবুল করা হলো। হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেই ব্যক্তিকে উনার ছোহবতে থাকার অনুমতি দান করলেন। আর অপর ব্যক্তির বাইয়াত গ্রহণ করলেন না। বরং বললেন, ‘তুমি অন্য কোন শায়েখ বা মুর্শিদের নিকট যাও। আমার ছোহবতে থাকা তোমার জন্য ফলপ্রসু হবে না। কারণ তুমি বাইয়াত গ্রহণের পূর্বেই আমার সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীকে ছোট করে দেখেছো। অপর জিনিসের তুলনায় শ্রেষ্ঠ মনে করতে পারছো না, তাহলে বাইয়াতের যে হক্ব আছে তা কিভাবে তোমার দ্বারা সম্পাদনের আশা করা যেতে পারে? আর যার বাইয়াতের হক্ব আদায় করা সম্ভব হয় না তার কাছে বাইয়াত হওয়া বা তার ছোহবতে থাকলে কাঙ্খিত সফলতার আশা অনেক ক্ষেত্রে নিরাশায় পর্যবসিত হয়।’
পক্ষান্তরে যারা স্বীয় শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিকে সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান করতে পেরেছেন, সেগুলোর যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করেছেন, তারা যেমন শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলার খাছ সন্তুষ্টি পেয়েছেন তেমনি সফলতার শীর্ষ চূড়ায় উন্নীত হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য করা হয়, একবার একজন আবদাল বা দরবেশ শ্রেণীর লোক মাহবুবে ইলাহী, হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমতে এসে কিছু খাবার প্রার্থনা করলেন। ঘটনাক্রমে তখন উনার লঙ্গরখানায় তাকে দেয়ার মত কিছু ছিলো না। হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত দরবেশকে বললেন, ‘আজ কোন নজরানা (হাদিয়া) আসেনি। আগামীকাল আসো।’ কিন্তু পরের দিনও নজরানাস্বরূপ কিছুই আসলো না। সুতরাং হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি ওয়াদামত নিজ না’লাইন শরীফ (জুতা মুবারক) উক্ত দরবেশকে দান করে দিলেন।
সে সময় উনার বিশিষ্ট মুরীদ শামসুল মুহিব্বীন, হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বাদশাহর সাথে সফরে ছিলেন। পথিমধ্যে সেই দরবেশের সাথে উনার সাক্ষাত হলো। তিনি দরবেশের নিকট নিজ শায়েখ হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করলেন। দরবেশের সাথে কথা বলতে বলতেই হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি হঠাৎ বলে উঠলেন, “আমি যেন আপনার নিকট আমার শায়েখ উনার ঘ্রাণ পাচ্ছি। সম্ভবতঃ আপনার নিকট আমার সম্মানিত শায়েখ উনার কোন নিদর্শন আছে।” দরবেশ ব্যক্তি তা শুনে হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার না’লাইন মুবারক হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মুখে রেখে বললেন, “আপনার সম্মানিত শায়েখ, এই যামানার শ্রেষ্ঠ ওলীআল্লাহ, হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আমাকে ইহা দান করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৩) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’জীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫২) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫১) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৮) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৭)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ছোহবত মুবারক গ্রহণের ফাযায়িল-ফযীলত, গুরুত্ব-তাৎপর্য ও আবশ্যকতা:
০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৬)
৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












