ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
, ২২ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইলমে তাছাউফ
পবিত্র ইবাদতে যাহিরাহ ও পবিত্র ইবাদতে বাতিনাহ উভয়টি সঠিক ও পরিপূর্ণভাবে পালন করার জন্য পবিত্র ইলিম অর্জন করা ফরয।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَليْهِ وَسَلَّمَ: طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيْضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
অর্থ: “হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা উনাদের জন্য পবিত্র ইলিম অর্জন করা ফরয।” (মুসলিম শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, বায়হাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মাছাবীহুস সুন্নাহ শরীফ)
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, পবিত্র ইবাদত যেহেতু দু’প্রকার অর্থাৎ পবিত্র ইবাদতে যাহিরাহ ও পবিত্র ইবাদতে বাতিনাহ সেহেতু তৎসম্পর্কিত পবিত্র ইলিমও দু’প্রকার- পবিত্র ইলমে যাহির ও পবিত্র ইলমে বাতিন তথা পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ ও পবিত্র ইলমে তাছাওউফ।
পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ হাছিল করার মাধ্যমে বান্দা সঠিক ও পরিপূর্ণভাবে পবিত্র ইবাদতে যাহিরাহ অর্থাৎ নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, মুআমালাত, মুআশারাত ইত্যাদি বাহ্যিক ইবাদতসমূহ পালন করতে পারবে।
আর পবিত্র ইলমে তাছাওউফ হাছিল করার মাধ্যমে বান্দা ইবাদতে বাতিনাহ অর্থাৎ নিজ অন্তরসমূহকে ইবাদতে যাহিরাহ বিনষ্টকারী কুস্বভাব বা বদ খাছলত থেকে বেঁচে ইখলাছের সাথে ইবাদতে যাহিরাহ পালন করে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাক্বীক্বী মা’রিফাত ও মুহব্বত মুবারক হাছিল করতে পারবে।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتِ الْـحَسَنِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ اَلْعِلْمُ عِلْمَانِ فَعِلْمٌ فِي الْقَلْبِ فَذَلِكَ الْعِلْمُ النَّافِعُ وَعِلْمٌ عَلَى اللِّسَانِ فَذَلِكَ حُجَّةُ اللهِ عَلَى ابْنِ آدَمَ
অর্থ: “হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, পবিত্র ইলিম দু’প্রকার। একটি হচ্ছে ক্বলবী ইলিম মুবারক অর্থাৎ পবিত্র ইলমে তাছাওউফ আর এটিই মূলত উপকারী ইলিম। অপরটি হচ্ছে যবানী ইলিম মুবারক অর্থাৎ পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ, যা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে বান্দাদের জন্য দলীল স্বরূপ।” (দারিমী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত ইত্যাদি)
মিশকাত শরীফ উনার বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার রঈসুল মুহাদ্দিছীন হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “মিরকাত শরীফ” উনার মধ্যে উল্লেখ করেন, মালিকী মাযহাব উনার ইমাম, ইমামুল আইম্মাহ হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
مَنْ تَفَقَّهَ وَلَمْ يَتَصَوَّفْ فَقَدْ تَفَسَّقَ، وَمَنْ تَصَوَّفَ وَلَمْ يَتَفَقَّهْ فَقَدْ تَزَنْدَقَ، وَمَنْ جَمَعَ بَيْنَهُمَا فَقَدْ تَحَقَّقَ
অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো অথচ পবিত্র ইলমে তাছাওউফ শিক্ষা করলো না, সে ব্যক্তি ফাসিক। আর যে ব্যক্তি পবিত্র ইলমে তাছাওউফ শিক্ষা করলো অথচ পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো না, সে যিন্দিক (কাফির)। আর যে ব্যক্তি উভয়টিই অর্জন করলো, সে ব্যক্তি মুহাক্কিক।”
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ করতে হলে বা মু’মিনে কামিল হতে হলে পবিত্র দ্বীন ইসলাম সম্পর্কিত দু’প্রকার ইলিম মুবারক অর্থাৎ পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ ও পবিত্র ইলমে তাছাওউফ উভয়টিই শিক্ষা করা ফরযে আইন।
পবিত্র ইলমে তাছাওউফ অর্জন করা ফরয হওয়ার কারণ
স্মরণযোগ্য যে, পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ যেমন- আক্বাইদ, ইবাদত, মুআমালাত, মুআশারাত ইত্যাদি সম্পর্কিত ইলিম মুবারক অর্জন করা ফরয তদ্রƒপ অন্তর থেকে বদ খাছলত বা কুস্বভাবসমূহ বের করে নেক খাছলত বা সুস্বভাবসমূহ হাছিল করে “তাযকিয়ায়ে ক্বল্ব্ বা অন্তর পরিশুদ্ধ করার জন্যও পবিত্র ইলমে তাছাওউফ অর্জন করা ফরয। যা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও পবিত্র ক্বিয়াস মুবারক দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত।
এ প্রসঙ্গে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ
অর্থ: খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ইহসান যে, “মু’মিনদের প্রতি একজন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরণ করেছেন, তিনি তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে শুনাবেন, তাদেরকে তাযকিয়া (পরিশুদ্ধ) করবেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবেন। যদিও তারা পূর্বে হিদায়েত প্রাপ্ত ছিল না।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬৪)
অনুরূপ পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ২৯ ও ১৫১ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে এবং পবিত্র সূরা জুমুআহ শরীফ উনার ২ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যেও উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সমার্থবোধক পবিত্র আয়াত শরীফ উল্লেখ আছে।
হযরত মুফাসসিরীনে কিরাম উনারা وَيُزَكِّيهِمْ শব্দ মুবারক উনার ব্যাখ্যায় প্রসিদ্ধ তাফসীর উনার কিতাব যেমন- তাফসীরে জালালাইন শরীফ, কামালাইন শরীফ, বায়হাক্বী শরীফ, কুরতুবী শরীফ, তাবারী শরীফ, কবীর শরীফ, খাযিন শরীফ, বাগবী শরীফ, ইবনে কাছীর শরীফ, দুররে মনছূর শরীফ, আবী সউদ শরীফ, মাযহারী শরীফ, রুহুল বয়ান শরীফ, রুহুল মায়ানী শরীফসহ আরো অনেক প্রসিদ্ধ তাফসীরগ্রন্থে “তাযকিয়ায়ে ক্বল্ব্” বা অন্তর পরিশুদ্ধ করাকে ফরয বলেছেন এবং এজ্জন্য পবিত্র ইলমে তাছাওউফ অর্জন করাকেও ফরয বলেছেন।
অতএব প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র ইলমে তাছাওউফ অর্জন করার মাধ্যমে অন্তর থেকে বদ খাছলতসমূহ দূর করে দিয়ে পবিত্র নেক খাছলতসমূহ পয়দা করা ও অন্তর পরিশুদ্ধ করা ফরয অর্থাৎ ফরযে আইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৪) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৩) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’জীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫২) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫১) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৮) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৭)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ছোহবত মুবারক গ্রহণের ফাযায়িল-ফযীলত, গুরুত্ব-তাৎপর্য ও আবশ্যকতা:
০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৬)
৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












