ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৪)
শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
, ০৪ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৮ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১১ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) ইলমে তাছাউফ
যেমন, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে স্বীয় পুত্র আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী করতে নির্দেশ দিলেন, অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা কুরবানী না হোক। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত খিযির আলাইহিস সালাম উনাকে নাবালক শিশু হত্যা করার হুকুম করেননি কিন্তু অন্য কোন বৃহত্তর কল্যাণের জন্য বালকটি নিহত হওয়ার ইচ্ছা মহান আল্লাহ পাক উনার ছিলো। তা অনুধাবন করে তিনি শিশুটি হত্যা করেছিলেন।
তবে এই কাজ খিযির আলাইহিস সালাম উনার উপযোগী ছিলো, অন্য কোন অযোগ্য ব্যক্তি, যে এরূপ স্তরে পৌঁছেনি তথাপি যদি এমন কাজে হস্তক্ষেপ করে তাহলে সেটা কুফরী হবে। তাকে হত্যা করা ওয়াজিব। (তাযকেরাতুল আউলিয়া)
উল্লেখ্য যে, উলিল আমর বা আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফাত ও মুহব্বতের গুপ্ত ভান্ডার। মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে প্রতিটি বিষয়ের হাক্বীক্বী জ্ঞান দান করে থাকেন। যা সাধারণ লোকতো দূরের কথা নামধারী আলেমরা পর্যন্ত বে-খবর। এ জ্ঞান মূলতঃ আউলিয়ায়ে কিরামগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ। উনারা ইলমে আসরারের হাক্বীক্বতকে সর্বদাই গোপন করে রাখেন। আমভাবে তা প্রকাশ করেন না। তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে উনাদের নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু প্রকাশিত হতে দেখা যায়। ঘটনাদ্বয় হচ্ছে তার বহিঃপ্রকাশ। আর আমভাবে প্রকাশিত না হওয়া বরং গোপন থাকা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অভিপ্রায়। অন্যথায় যদি আমভাবে প্রকাশিত হয় তাহলে সমাজে নানা প্রকার ফিৎনা-ফাসাদের সূত্রপাত হবে, রক্তপ্রবাহিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়বে।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وِعَاءَيْنِ فَأَمَّا أَحَدُهُمَا فَبَثَثْتُهُ وَأَمَّا الْآخَرُ فَلَوْ بَثَثْتُهُ قُطِعَ هَذَا الْبُلْعُومُ يَعْنِى مَجْرَى الطَّعَامِ
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে দুই পাত্র ইলিম ইয়াদ (সংরক্ষণ) করেছি। তন্মধ্যে এক পাত্র তোমাদের মধ্যে বিস্তার করেছি, কিন্তু অপর পাত্র, তা যদি আমি বিস্তার করি তবে আমার এ হলকুম অর্থাৎ গলা কাটা যাবে। ” (বুখারী শরীফ)
প্রথম প্রকার হচ্ছে ইলমে শরীয়ত বা আহকাম সম্বলিত। আর দ্বিতীয় প্রকার হচ্ছে ইলমে আছরার যেটা ইলমে মা’রিফাত যা ইলমে তাছাওউফ নামেও অভিহিত। আর ইলমে আছরার প্রসঙ্গে সুলত্বানুল মুফাস্সিরীন, হুসাইন ইবনে মুহম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেছেন-
اَلثَّانِى عِلْمُ الْاَسْرَارِ اَلْمَصُونُ عَنِ الْاَغْيَارِ اَلْمُخْتَصُّ بِالْعُلَمَاءِ بِاللهِ مِنْ اَهْلِ الْعِرْفَانِ.
অর্থ: “দ্বিতীয় প্রকার হচ্ছে ইলমে আছরার (ইলমে তাছাওউফ) যা পরিবর্তন পরিবর্ধন থেকে সম্পূর্ণ সংরক্ষিত অর্থাৎ হাক্বীক্বী ফায়দা দানকারী ইলিম। তা উলামায়ে হক্ব বা আল্লাহওয়ালা আলেমগণের মাঝে সীমাবদ্ধ। ” অর্থাৎ যারা ইলমে শরীয়ত ও তরীকত উভয় প্রকার ইলিমের অধিকারী উনারাই উনার গুপ্ত রহস্যাবলী সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। (শরহুত্ ত্বীবী ১ম খ-, ৪১৬ পৃষ্ঠা)
ইলমে আছরার (তত্ব জ্ঞান) ইলমে তাছাওউফের গুপ্ত রহস্যাবলী যদি প্রকাশিত হয় তাহলে সমাজ জীবনে নানা প্রকার ফিৎনা-ফাসাদের সূত্রপাত হবে। ফলে গলা কাটা বা হত্যার মত জঘন্য অপরাধের বীজ বপন হবে। কাজেই ইলমে আছরার বা ইলমে মা’রিফাতের হাক্বীক্বতকে প্রকাশ না করে গোপন রাখাই হচ্ছে নিরাপদ, ফিৎনামুক্ত ও আদবের অন্তর্ভুক্ত। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৪) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৩) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’জীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫২) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫১) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৮) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৭)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ছোহবত মুবারক গ্রহণের ফাযায়িল-ফযীলত, গুরুত্ব-তাৎপর্য ও আবশ্যকতা:
০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












