ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫২) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
, ০৫ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১১ পৌষ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) ইলমে তাছাউফ
হযরত উরওয়া ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় কুরাঈশ নেতৃবৃন্দ আমাকে আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পাঠালেন। আমি উনার দরবার শরীফে গিয়ে দেখতে পেলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত নূরুল খুশূ’ মুবারক অর্থাৎ ওযূ মুবারক করছেন। আর সেই ওযূ মুবারকের ব্যবহৃত পানি মুবারক সংগ্রহের জন্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রবল প্রতিযোগিতা। মনে হচ্ছিলো যেন এ নিয়ে সকলে যুদ্ধ শুরু করে দিবেন। উক্ত পানি মুবারকের একটি ফোঁটাও উনারা মাটিতে পড়তে দিচ্ছেন না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুর রিসালাহ্ মুবারক অর্থাৎ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুবারক ধৌত পানি যিনি যতটুকু পাচ্ছেন ততটুকুই উনারা মেখে নিচ্ছেন নিজেদের চেহারা ও শরীরের অন্যান্য অংশে। আমি আরো দেখলাম, উনার পবিত্র নূরুছ ছফা’ মুবারক অর্থাৎ জিসিম মুবারক উনার পশম মুবারকও সযতেœ সংগ্রহ করছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে নির্দেশ মুবারক দিচ্ছেন, সাথে সাথে সে নির্দেশ মুবারক প্রতিপালিত হচ্ছে। তিনি যে কথা মুবারক বলছেন, সে কথা মুবারক গভীর মনোযোগ সহকারে শুনে যাচ্ছেন উনারা। সকলের দৃষ্টি অবনমিত। আমি দেখলাম সম্মান প্রদর্শনের এক অভূতপূর্ব নিদর্শন। সুবহানাল্লাহ!
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মাথা মুবারক) উনার পবিত্রতম নূরুল ফাতাহ মুবারক (চুল মুবারক) কাটবার সময় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে যেতেন। উনারা কর্তিত পবিত্রতম নূরুল ফাতাহ মুবারক (চুল মুবারক) মাটিতে পড়তে দিতেন না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পরিশেষে পবিত্রতম নূরুল ফাতাহ মুবারক (চুল মুবারক) গুলোকে একত্রিত করতেন। এরপর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে বন্টন করে দিতেন। (মাদারিজুন্ নুবুওওয়াত, হুকূকুল মুস্তফা)
আহমদ ইবনে ফজলুবিয়া যাহিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন একজন বিশিষ্ট বুযূর্গ ছাহাবী। তিনি ছিলেন বিখ্যাত তীরন্দাজ। তিনি বলেন, “আমি যখন জানতে পারলাম যে, আমার হাতের এ ধনুকটি আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্পর্শ মুবারক করেছিলেন, সেদিন থেকে এ ধনুকটি আমি ওযূ ছাড়া স্পর্শ করিনি।” সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, মাহবুবের সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছুকে মুহব্বত করা, পৃথিবীর সকল বস্তুর উর্ধ্বে সেগুলোকে স্থান দেয়া; তথা সর্বশ্রেষ্ঠ বা সর্বোৎকৃষ্ট জ্ঞান করা মুহব্বতের দাবি। যখন কারো মুহব্বত অন্তরে গভীরভাবে রেখাপাত করে তখন তার প্রতিটি জিনিস ভাল বা উত্তম বলে বিবেচিত হয়। কোনটাই আর খারাপ মনে হয় না। এজন্যই বলা হয় “মুহব্বতের চক্ষু অন্ধ।”
জনৈক আরব্য কবি সুনিপুণভাবে তা প্রকাশ করেছেন-
امر على الديار ديار ليلى - اقبل ذا الجدار وذا الجدارا
وماحب الديار شغفن قلبى- ولكن حب من سكن الديارا
অর্থ: “আমি যখন আমার প্রিয়তমার বাড়ির নিকট দিয়ে গমণ করি তখন কখনও এ দেয়াল চুম্বন করি কখনও সে দেয়াল চুম্বন করি। ঘরের মুহব্বত আমার অন্তরকে প্রণয়াসক্ত ও মুগ্ধ করেনি। বরং ঘরের অধিবাসী (প্রিয়তমাই) আমার অন্তরকে মুগ্ধ ও মাতোয়ারা করে দিয়েছে।” (ইহ্ইয়াউ উলুমিদ্দীন, হুকূকুল মুস্তফা)
আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত মুবারকের একমাত্র লক্ষ্যস্থল। উনারা পৃথিবীর সবকিছুর উপর উনার মুহব্বতকে স্থান দিয়েছিলেন। স্বভাবত কারণে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় বা বস্তুর বেমেছাল মুহব্বত উনাদের অন্তরের গহীনে স্থান পেয়েছিলো। উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছুকেই উনার মত সম্মান-ইজ্জত করতেন, অত্যন্ত বরকত ও রহমত মনে করতেন।
পক্ষান্তরে যাদের অন্তরে সে মুহব্বতের বিন্দুমাত্র ঘাটতি ছিলো তারা মুসলমান হতে খারিজ হয়ে কাট্টা কাফিরে পরিণত হয়েছিলো তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। সেক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট জিনিসের কদর না করার কারণে দুনিয়াবী নানা বালা-মুছীবত, কঠিন বিপদ-আপদের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭২)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭১)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭০)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৯)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৬)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৮)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৭)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৬)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৫)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












