ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
, ০২ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৪ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৮ পৌষ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ইলমে তাছাউফ
আফদ্বালুল আউলিয়া, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তারই ভয়াবহ পরিণতির কথা অত্যন্ত সুনিপূণভাবে উনার কিতাব “মাকতুবাত শরীফে” উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, রহমতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মা’রিফাত-মুহব্বত, সন্তুষ্টি-রেজামন্দী মুবারক প্রাপ্তির প্রধান প্রতিবন্ধক হচ্ছে, নাকেছ বা অপূর্ণ ব্যক্তির নিকট গমণ করা, তার কাছে বাইয়াত হওয়া। যে ব্যক্তি “সুলূক” ও “জযবা” দ্বারা আত্মশুদ্ধি লাভ না করে শায়েখের আসনে উপবিষ্ট হয়েছে, সালিক বা মুরীদের জন্য তার ছোহবত বা সংসর্গ লাভ করা হচ্ছে বিষ সাদৃশ্য এবং তার নিকট যাতায়াত করা জীবন নাশক ব্যাধিস্বরূপ। এমনকি নাকেছ বা বিদয়াতী ব্যক্তির ছোহবতে মুরীদগণের উচ্চ মনোবৃত্তি, উচ্চাকাঙ্খা ও যোগ্যতা বিনষ্ট হয়ে যায়, যেন শৃঙ্গ হতে পাতালে পতিত হয়।
যেমন- রোগাক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা গ্রহণ করলে তার রোগ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায় এমনকি এক পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধক শক্তিই বিনষ্ট হয়ে যায়। যদিও তা প্রথমে কিছুটা উপকারী মনে হয় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উহা অনিষ্টকারী। উক্ত রোগাক্রান্ত ব্যক্তি যখন বিজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট গমন করে; তখন সে প্রথমে রেচকাদি ঔষধ দ্বারা পূর্ববর্তী ঔষধের দুষক্রিয়া নষ্ট করার চেষ্টা করে। তারপর রোগের উপযুক্ত ঔষধ প্রয়োগ করে থাকে।” আর যদি বিজ্ঞ চিকিৎসকের সন্ধান না পায় তবে মৃত্যু অনিবার্য।
হুজ্জাতুল ইসলাম, ইমাম আবূ হামিদ মুহম্মদ গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, যারা দুনিয়ালোভী, বিদয়াতী তাদের ছোহবত বিষতুল্য। কেননা অপরের অনুকরণ-অনুসরণ করা মানুষের মজ্জাগত স্বভাব। বন্ধু তার বন্ধুর স্বভাব থেকে কিছু চুরি করে নেয়। অথচ উক্ত বন্ধু তার কিছুই টের পায় না। সেক্ষেত্রে বিদয়াতী, দুনিয়ালোভীদের সাথে উঠা-বসা করলে, সম্পর্ক রাখলে যেমন দুনিয়ার লোভই বৃদ্ধি পাবে তেমনি বিদয়াতই উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকবে। (ইহ্য়াউ উলুমিদ্দীন)
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
اَلْمَرْءُ عَلٰى عَلَى دِينِ خَلِيلِهٖ فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُّخَالِلُ
অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “মানুষ স্বভাবতই তার বন্ধুর মত-পথের অনুসরণ-অনুকরণ করে থাকে। সুতরাং (ছোহবত অর্জন করার পূর্বে) লক্ষ্য রাখা উচিত, সে কার ছোহবত অর্জন করছে, বন্ধুত্ব স্থাপন করছে। (আহমদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, শুয়াবুল ঈমান, মিশকাত শরীফ, ৪২৭ মাকতুবাতে সা’দী)
গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “মু’মিন ব্যক্তিগণের উচিত- তারা যেন কোন বিদয়াতীর সঙ্গে কোন সম্পর্ক না রাখে, মেলা-মেশা ও উঠা-বসা তথা ছোহবতে না থাকে। তাদের আনন্দ উৎসবে শরীক না হয়, খুশি প্রকাশ না করে। আন্তরিক মুহব্বত না রাখে এবং কোন আলোচনায় লিপ্ত না হয়। এমনকি তাদের জানাযায় শরীক হওয়া, তাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত ও অনুগ্রহের দোয়া করাও ঠিক নয়। বরং তাদের থেকে দূরে থেকে তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা আবশ্যক।” (গুনিয়াতুত্ ত্বালিবীন)
কেননা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে মু’মিন বিদয়াতীদের সঙ্গে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই শত্রুতা পোষণ করে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার অন্তরকে ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কোন বিদয়াতীর সঙ্গে খুশি মনে ও প্রসন্ন বদনে মোলাকাত করে, তার ছোহবত বা বন্ধুত্ব গ্রহণ করে, সে যেন সে দ্বীনকে অবজ্ঞা করলো যে দ্বীনকে মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি নাযিল করেছেন।”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম তিনি আরো বলেন, “বিদয়াতী ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত বিদয়াত কার্য বর্জন না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত মহান আল্লাহ পাক তিনি তার কোন নেক আমল কবুল করবেন না।”
ইমামুশ শরীয়ত, ওয়াত তরীকত, হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ফাসেক বা বিদয়াতীর সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য শত্রুতা পোষণ করা, মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য লাভের কারণ।
হযরত ফুযাইল ইবনে আয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “বিদয়াতীর সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারীদের সমস্ত নেক আমল নষ্ট ও বরবাদ হয়ে যায় এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি তার অন্তর হতে ঈমানের নূর বের করে দেন। আর যে ব্যক্তি বিদয়াতীদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে তার নেক আমল নিতান্ত কম হলেও মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন। (গুনিয়াতুত্ ত্বালিবীন)
কাজেই নাকেছ (অপূর্ণাঙ্গ) বিদয়াতী ব্যক্তিদের যারা শরীয়তের পূর্ণ পাবন্দ নয় তথা বিদয়াত, বেশরা কর্মকান্ডে সর্বদা মশগুল থাকে, তাদের ছোহবত বর্জন করা কত আবশ্যক তা সহজেই অনুমেয়। সর্বোপরি মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের ছোহবতে থাকতে, তাদের সঙ্গে কোন প্রকার সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করেছেন। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার প্রতি ইমামুল মুসলিমীন, হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চূড়ান্ত আদবের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হক্কানী রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন পোষণ করা আবশ্যক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৭) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার সাথে তায়াল্লুক-নিসবত ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক রাখার দাবি করা অবান্তর
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১১)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৬) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আদব রক্ষা করার গুরুত্ব
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৪) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












