ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫১) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
, ০৪ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১০ পৌষ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ইলমে তাছাউফ
(২১) কামিল শায়েখ উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় বা বস্তুকে সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বোত্তম ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করবে।
এতে মুরীদের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মা’রিফাত-মুহব্বত মুবারক হাছিলের পথ সুগম হবে। রেজামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের দ্বার খুলে যাবে। সাথে সাথে স্বীয় কামিল শায়েখ উনার নেক দৃষ্টিও তার উপর পড়বে। যা সকল মুরীদের একান্ত কাম্য ও পরম প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য যে, যিনি যত সম্মানিত, মর্যাদা-মর্তবার অধিকারী উনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীও তেমনি মর্যাদার অধিকারী, বেমেছাল সম্মান ও মর্যাদার পাত্র। কাগজের কোন সম্মান নেই যদি তাতে কলমের কোন আঁক না থাকে। অর্থাৎ কাগজে যা লেখা হয় সে লিখানুযায়ী তার মূল্যায়ণ হয়। অনুরূপ ভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যখন কোন ব্যক্তির নিবিড় সম্পর্ক স্থাপিত হয় তখন তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে সম্মানিত ও মর্যাদাবান হয়ে যান। তা’যীম-তাকরীমেরও যোগ্য হয়ে উঠেন। তখন তার সাথে যে বিষয় বা বস্তু সম্পৃক্ত হয় তা আর সাধারণ থাকে না।
জনৈক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কতিপয় ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে দাওয়াত করলেন। যথা সময়ে মেহমানদারীর কার্যক্রম শুরু হলো। খাদ্য-দ্রব্য পরিবেশনের প্রাক্কালে দস্তরখানা বিছানো হলো। আরব দেশের অধিবাসীগণ সাধারণতঃ খাওয়ার সময় চামড়ার তৈরী দস্তরখানা ব্যবহার করে থাকেন। দস্তরখানাটি ছিলো তুলনামূলকভাবে কিছুটা ময়লাযুক্ত। তা দেখে মেহমানের পক্ষ হতে এক ব্যক্তি বললেন, দস্তরখানাটি এমন ময়লাযুক্ত রাখা উচিত হয়েছে কি? এ কথা শুনে উনার মেজবান ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দস্তরখানাটি তুলে জলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করলেন। দস্তরখানাটি আগুনে পরার সাথে সাথে আগুন নিভে গেলো। এদৃশ্য দেখে মেহমানগণ হতবাক হয়ে গেলেন। কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার এ কাজের হিকমত কি? এত উত্তপ্ত আগুনে একটি দস্তরখানা পড়া মাত্রই তা নিভে গেলো কেন?
জাওয়াবে মেজবান ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, যেদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দস্তরখানাটিতে খাদ্য খেয়েছেন সেদিন হতে তার বরকত লাভের লক্ষ্যে তা ধৌত করিনি। আর ধোয়ার প্রয়োজনও অনুভব করিনি। সুবহানাল্লাহ!
মূলতঃ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ দস্তরখানায় খানা খাওয়ার বরকতে উত্তপ্ত আগুন নিভে গেছে। সুবহানাল্লাহ!
হযরত শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্ববিখ্যাত “মাদারিজুন্ নুবুওওয়াত” কিতাবে উল্লেখ করেন, “খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি রহমত-বরকত ও সাকীনাহ লাভের আশায় আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে স্থানে উপবেশন করতেন সে স্থানে হাত মুবারক বুলিয়ে সে হাত দিয়ে স্বীয় মুখমন্ডল মুছতেন।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, “হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার টুপির মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কয়েকটি নূরুল ফাতাহ মুবারক (চুল মুবারক) রক্ষিত ছিলো। কাফিরদের বিরুদ্ধে এক প্রচ- যুদ্ধের সময় উনার সেই টুপি মুবারক মাটিতে পড়ে যায়। তিনি সে টুপি মুবারকটি হস্তগত করার জন্য তুমুল যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। আর কাফির বাহিনীও প্রচ- বাধার সৃষ্টি করলো। তাদের সে প্রচ- অস্ত্রাঘাতে বেশ কিছু সংখ্যক মুসলমান মুজাহিদ শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করলেন।
পরবর্তীতে উনাকে সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলো যে, সামান্য একটি টুপি মুবারক উদ্ধারের জন্য আপনি এতো ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করলেন কেন?
জাওয়াবে তিনি বললেন, এ যুদ্ধ শুধু আমার টুপি মুবারক উদ্ধারের জন্য নয় বরং এ যুদ্ধ করা হয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম নূরুল ফাতাহ মুবারক (চুল মুবারক) উনার সম্মানার্থে। যা আমার টুপির মধ্যে রক্ষিত ছিলো। কাফিরদের অপবিত্র স্পর্শে সেই পবিত্রতম নূরুল ফাতাহ মুবারক (চুল মুবারক) উনার সম্মান ভূলুন্ঠিত হওয়া আমার জন্য অসহনীয় ছিলো। কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম নূরুল ফাতাহ মুবারক (চুল মুবারক) উদ্ধারের জন্য যুদ্ধের বিকল্প কিছুই ছিলো না। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার প্রতি ইমামুল মুসলিমীন, হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চূড়ান্ত আদবের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হক্কানী রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন পোষণ করা আবশ্যক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৭) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার সাথে তায়াল্লুক-নিসবত ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক রাখার দাবি করা অবান্তর
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১১)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৬) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আদব রক্ষা করার গুরুত্ব
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৪) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












