ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৫)
, ২৪ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৭ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ২১ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ইলমে তাছাউফ
৩৪। কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার কোন কথা কাজ কিংবা অন্য কোন বিষয়ের আমানত নষ্ট করবেনা।
আমানত সংরক্ষণ করা স্বীয় কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার খালিছ সন্তুষ্টি-রেজামন্দী ও নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার আমানত সংরক্ষণ দ্বারা সালিক বা মুরীদ- মহান আল্লাহ পাক এবং উনার সম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমানত সংরক্ষণের শিক্ষা ও শক্তি অর্জন করে। মা’রিফাত ও মুহব্বতের খাযিনা হাছিলের যোগ্যতা পয়দা হয়। বাতিনী নিয়ামতপ্রাপ্তির উপযুক্ত হয়ে উঠে।
উল্লেখ্য যে, আমানতের বিষয়টি এমনি গুরুত্বপূর্ণ যে, তার মাধ্যমে যেমন স্বীয় কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার খালিছ সন্তুষ্টি ও নৈকট্য পাওয়া যায় তেমনি তা সংরক্ষিত না করলে উনার অসন্তুষ্টির রোষাণলে পড়তে হয়। আর কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার অসন্তুষ্টির কারণে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন এবং উনার সম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে অসন্তুষ্ট হন তা বলা নিষ্প্রয়োজন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালাম পাকে ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ.
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আমানতের খিয়ানত করবেনা এবং তোমাদের পরস্পরের মাঝে আমানতের খিয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতাও করবেনা।” (পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ/২৭)
আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মুনাফিকের আলামত বা চিহ্ন চারটি। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আমানতের খিয়ানত করা।”
উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরেই কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার হক। মুরীদ সে হক সংরক্ষণের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি জ্ঞাপন করেই পবিত্র ছোহবত মুবারক লাভের সুযোগ পায়। কাজেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেমনিভাবে মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমানত সংরক্ষণ করেছেন। তেমনিভাবে মুরীদের জন্যও স্বীয় কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার কথা-কাজ ইত্যাদি বিষয়ে পূর্ণ আমানত রক্ষা করা আবশ্যক।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ আমানত সংরক্ষণের প্রতি এমন যত্মবান ছিলেন যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের প্রতি বিশেষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
لِكُلِّ نَبِيٍّ صَاحِبُ سِرٍّ، وَصَاحِبُ سِرِّي مُعَاوِيَةُ ابْنُ أَبِي سُفْيَانَ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “প্রত্যেক নবীর গুপ্ত রহস্যভেদ অবগত ছাহাবী ছিলেন। আমার গুপ্তভেদ অবহিত ছাহাবী হচ্ছেন হযরত মুআবিয়া ইবনে আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।
হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আবূ আমীরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জন্য এভাবে দোয়া করেছেন যে-
اَللَّهُمَّ اجْعَلْهُ هَادِيًا مَّهْدِيًّا وَاهْدِ بِهِ
অর্থ: “আয় আল্লাহ পাক! আপনি উনাকে (মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে) সঠিক পথ প্রদর্শনকারী, সত্য পথের অনুসারী এবং উনার দ্বারা মানুষের হিদায়েত নছীব করুন।” (তিরমিযী শরীফ)
এমনিভাবে “মিশকাত শরীফের” ৫৭৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
حُذَيْفَةُ صَاحِبُ السِّرِّ
অর্থ: “হযরত হুযাইফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হচ্ছেন গুপ্তভেদ অবহিত ছাহাবী।” সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো বলেন, “হযরত হুযাইফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আপনাদেরকে যা বলেন তা সত্য বলে মনে করবেন।” (মিশকাত শরীফ)
প্রকাশ থাকে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার নিকট মুনাফিকদের নামের তালিকা দিয়েছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সে ব্যক্তির জানাযার নামাযে শরীক হতেন যার জানাযার নামাযে ছহিবুস্ সির হযরত হুযাইফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু শরীক থাকতেন। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
তাওয়াক্কুল তথা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ভরসা করার ফযীলত
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৪)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭৩)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
انابة (ইনাবত) মাক্বাম হাছিলকারীগণের হালত বা অবস্থা
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ওলী আল্লাহগণ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা ফরয।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭২)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭১)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭০)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৯)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












