মন্তব্য কলাম
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পোর্কোন্নয়ন কেন শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে? অনন্য উচ্চতায় উঠা এ সম্পর্ক কেন ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উজ্জীবিত হবে না? (১ম পর্ব)
, ০৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় গত ২২ জুন দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শ্রম সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাকে দুই নেতা স্বাগত জানান। উভয়পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট, সর্বাঙ্গীণ ও ভবিষ্যতমুখী একটি চুক্তি ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে, যা বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য অনুশীলনকে প্রতিফলিত করবে।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ২৮২.৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মালয়েশিয়া থেকে আমদানি ছিল ২.২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সময়ে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ৭ম বৃহত্তম আমদানি উৎস হিসেবে অবস্থান করে।
অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ২৮৩.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি হয়েছে ১.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং আমদানি অংশীদার হিসেবে দেশটির অবস্থান ৭ম এ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত এফটিএ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য ও হালাল খাদ্যপণ্যের জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার গুরুত্ব বহুমাত্রিক। প্রথমত, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম-অধ্যুষিত অর্থনীতি, যার সঙ্গে বাংলাদেশের জনমানুষের সম্পর্ক বহুদিনের। দ্বিতীয়ত, মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অন্যতম বড় গন্তব্য। তৃতীয়ত, আসিয়ান অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সংযোগ বাড়াতে মালয়েশিয়া একটি কার্যকর সেতু হতে পারে। চতুর্থত, রোহিঙ্গা সংকটের মতো আঞ্চলিক মানবিক প্রশ্নে মালয়েশিয়া অতীতে তুলনামূলকভাবে সরব অবস্থান নিয়েছে। এই সফরের একটি প্রতীকী তাৎপর্যও আছে। নতুন সরকারের প্রথম বিদেশ সফর যদি মালয়েশিয়ায় হয়, তবে সেটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে ঢাকা তার পররাষ্ট্রনীতিতে এমন এক ভারসাম্য খুঁজছে, যেখানে প্রতিবেশী শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী অংশীদারদের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতাও সমান জরুরি।
মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে আরেকটি বিষয়-দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতি ও সরবরাহশৃঙ্খলে তার অবস্থান। আসিয়ানভুক্ত একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া শুধু শ্রমবাজার নয়; বরং বাণিজ্য, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি খাত, ইসলামিক ফাইন্যান্স এবং আঞ্চলিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে ঢাকা যদি কুয়ালালামপুরের সঙ্গে সম্পর্ককে কেবল জনশক্তি রপ্তানির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দিতে পারে, তবে তা বাংলাদেশের “লুক ইস্ট” ধরনের অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বাস্তব ভিত্তি দিতে পারে।
মালয়েশিয়া ইসলামিক ব্যাংকিং, সুকুক, শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ এবং হালাল শিল্পে বিশ্বে অগ্রগণ্য। বাংলাদেশ চাইলে মালয়েশিয়ার সঙ্গে হালাল সার্টিফিকেশন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ইসলামিক ফাইন্যান্স, স্বাস্থ্য-পর্যটন ও শিক্ষা খাতে বড় ধরনের অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারে। বাংলাদেশের ওষুধশিল্প, পোলট্রি, খাদ্যশিল্প ও কসমেটিকস খাতে হালাল বাজারের সম্ভাবনা কম নয়।
তৃতীয়ত, প্রবাসী-সংযোগকে বিনিয়োগে রূপ দেওয়া। মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্সের উৎস নন; তাঁরা ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগ, বাজার-তথ্য, উদ্যোক্তা সংযোগ এবং প্রবাসী সঞ্চয়কে উৎপাদনমুখী খাতে নেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সরকার চাইলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স, ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও দেশে ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোগে প্রবাসী বিনিয়োগের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা দিতে পারে।
দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (গড়ট) পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে, যার মাধ্যমে সামরিক জ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের পথ আরও সুগম হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কমিটি (ঔঈউঈ) দ্রুত বাস্তবায়ন করে ভবিষ্যৎ সামরিক সহযোগিতার একটি সুসংগঠিত রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা: বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই অথচ ১৬৫০ থেকে ১৭৫০-এই ১০০ বছরে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোই বাংলা থেকেই ৩ লাখ গজ থেকে ৩ কোটি গজ কাপড় রপ্তানি করেছে। এই বিপুল উৎপাদনে এই বাংলাদেশই কীভাবে তুলার যোগান দিল?
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশের ৪ কোটি মানুষ না খেয়ে থাকে। অথচ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার শস্য নষ্ট হয় খাদ্য অপচয় রোধ করতে ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই’- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই নির্দেশ সমাজের সর্বাত্মক প্রতিফলন ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অলস জমিদারের কায়দায় বসে বসে তালুক বিক্রী করে খাওয়ার মতই জ্যামিতিক হারে ঋণ বাড়িয়ে চলছে সরকার ২০২৮-২৯ অর্থবছর ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো রফতানী বৃদ্ধি ও বহুর্মুখীকরণ করার উদ্যম নেই সরকারের দেশ জাতিকে করে যাচ্ছে সুদী মহাজনদের কাছে জিম্মি ও বিক্রী।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম হলেও রফতানীতে তলানীতে। কাঁঠাল রফতানী করেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












