খলিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ১২৫ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে হিদায়েত করতে চান, তার অন্তরকে ইসলাম উনার জন্য প্রসারিত করে দেন। আর যাকে গোমরাহ করতে চান অর্থাৎ যে গোমরাহীর মধ্যে দৃঢ় তার অন্তরকে সংকুচিত বা কঠিন করে দেন।”
মহান আল্লাহ পাক তিনি যার অন্তরকে প্রসারিত করেন তাকেই হিদায়েত দান করেন। কিভাবে হিদায়েত লাভ করা যাবে আর কি কারণে হিদায়েত থেকে মাহরূম হয়ে যাবে সে বিষয়ে হাক্বীক্বী ইলম হাছিল করতে হলে কামিল শায়েখ বা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার ব্যতীত কারো জন্য কোন বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেকের উচিত কামিল শায়েখ বা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে সেই মহা মূল্যবান নিয়ামত মুবারক হাছিল করা।
, ২৮ শা’বান শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২১ ‘আশির, ১৩৯০ শামসী সন , ২১ মার্চ, ২০২৩ খ্রি:, ০৭ চৈত্র, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, এই মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম যে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফ দুই ধরণের। ১. মুহকামাত-স্পষ্ট আয়াত শরীফ ২. মুতাশাবিহাত- রূপক তথা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ আয়াত শরীফ। অর্থাৎ মুহকাম আয়াত শরীফ উনাদের অর্থ স্পষ্ট, সহজেই উপলব্ধি করা যায় এবং অর্থ নির্ধারণ ও গ্রহণে কোন অসুবিধা হয় না। আর মুতাশাবিহ আয়াত শরীফ উনাদের অর্থ রূপক, ব্যাখ্যা ব্যতীত হাক্বীক্বী মর্ম উপলব্ধি করা সম্ভব না। তবে যারা রছিখুন তথা গভীর ইলম উনার অধিকারী উনারাই পারেন এই সমস্ত আয়াত শরীফ উনাদের মর্ম উদঘটন করতে। মুতাশাবিহ আয়াত শরীফ উনার উনার অর্থ করতে গিয়ে যাদের কম আক্বল-সমঝ রয়েছে তারা বলে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে হিদায়েত করেন, সেই হিদায়েত লাভ করে। আর যাকে গোমরাহ করেন কেউ তাকে হিদায়েত দিতে পারে না। তাহলে কি মহান আল্লাহ পাক তিনি একজনের একরকম চান আর আরেকজনের আরেক রকম চান? নাউযুবিল্লাহ! মূলত, এরূপ ধারণা পোষণ করা মহান আল্লাহ পাক উনার শান মুবারক উনার খিলাফ। মেছাল স্বরূপ বলা যায়, একজন পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে পিতা-মাতা সবার সাথেই সমান ব্যবহার করেন। কিন্তু যে সন্তান পিতা-মাতার অনুগত, স্বাভাবিক ভাবেই পিতা-মাতা সেই সন্তানের প্রতি মায়া মুহব্বত বেশী থাকে। আর যে সন্তান তাদের অনুগত নয়, সে অনুগত না হওয়ার কারণে আদর মুহব্বত পায় না। অথচ পিতা-মাতা চায় সবাইকে সমান মুহব্বত করতে। অন্যদিকে যে সন্তান অনুগত নয় তাকেও যে মুহব্বত করা হয়না তা কিন্তু নয়। তদ্রুপ যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে রুজু হয়, সেই হিদায়েত পায়। আর যে উনার দিকে রুজু হয় না, ফরমাবরদারি করে না, গোমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে সে হিদায়েত লাভ করতে পারে না।
ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ১২৫ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে হিদায়েত করতে চান, তার অন্তরকে ইসলাম উনার জন্য প্রসারিত করে দেন। আর যাকে গোমরাহ করতে চান অর্থাৎ যে গোমরাহীর মধ্যে দৃঢ় তার অন্তরকে সংকুচিত বা কঠিন করে দেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা যুমার শরীফ উনার ২২ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যার অন্তরকে ইসলাম উনার জন্য প্রসারিত করেন, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নূরে নূরান্বিত হয়ে যান। যার অন্তর মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির না করার কারণে কঠিন হয়ে যায়, তার জন্য ধ্বংস, জাহান্নাম। তারাই প্রকাশ্য গোমরাহির মধ্যে রয়েছে।
ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, যে বা যারা হেদায়েত চায় সে বা তারা হেদায়েত লাভ করে। আর যে বা যারা গুমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে সে বা তারা হেদায়েত লাভ করতে পারে না। আরো উল্লেখ্য হিদায়েত লাভ করার জন্য অন্যতম হচ্ছে অন্তর প্রসারিত হওয়া। যে ব্যক্তি হিদায়েত লাভ করে তার অন্তর নূরে নূরান্বিত হয়ে যায়, ইলমে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আর যে গোমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে তার অন্তরটা সংকুচিত হয়ে যায়।
ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি যার অন্তরকে প্রসারিত করেন তাকেই হিদায়েত দান করেন। কিভাবে হিদায়েত লাভ করা যাবে আর কি কারণে হিদায়েত থেকে মাহরূম হয়ে যাবে সে বিষয়ে হাক্বীক্বী ইলম হাছিল করতে হলে কামিল শায়েখ বা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার ব্যতীত কারো জন্য কোন বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেকের উচিত কামিল শায়েখ বা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে সেই মহা মূল্যবান নিয়ামত মুবারক হাছিল করা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা, জ্বীন-ইনসান সকলের জন্যই ইখলাছ অর্জন করা এবং ইখলাছের সাথে প্রতিটি আমল করা ফরয। সুবহানাল্লাহ! কেননা ইখলাছ ব্যতীত কোন ইবাদত মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কবুল হয় না। ইখলাছ হাছিল করতে হলে অবশ্যই একজন কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে ইলমে তাছাউফ অর্জন করতে হবে।
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রতি উত্তম আচরণকারীগণই ছালিহীন হিসেবে পরিগণিত হবেন। একইভাবে ছালিহীন হতে হলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রতি উত্তম আচরণ করতে হবে, উনাদের প্রতি সর্বোচ্চ হুসনে যন পোষণ করতে হবে।
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম উম্মাহ সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে সঠিক আক্বীদা পোষণ করা। কেননা উনারা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মাক্বাম মুবারকে অনন্যা। যে বা যারা বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করে উনাদের যত বেশি তা’যীম-তাকরীম, সম্মান করবে এবং উনাদের অনুসরণ -অনুকরণ করার কোশেশ করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকেও ততখানি মর্যাদা দান করবেন অর্থাৎ সেও মর্যাদাবান হয়ে যাবে।
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুকরণে নাম রাখা দুনিয়ায় যেমন রহমত, বরকত ও সাকীনার কারণ, তেমনি আখিরাতে ও শাফায়াত মুবারক, নাযাত ও ফযীলত লাভের উছীলা।
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ব্যতীত ইবাদত মূল্যহীন। প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- যামানার মুজাদ্দিদ ও কামিল শায়েখ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের মাধ্যমে ইলমে ফিকাহ্ ও ইলমে তাছাউফ উভয় প্রকার ইলম অর্জন করে মু’মিনে কামিল হওয়া।
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনারা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদাসম্পন্ন স্থান। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনাদেরকে যথাযথ তা’যীম বা সম্মান করা সকলের জন্যই ফরয। সকল মু’মিন-মু’মিনার জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- সর্বদা ও সর্বক্ষেত্রে পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের ইজ্জত, সম্মান, হুরমত বজায় রাখতে হবে। নচেৎ ঈমানহারা হওয়া ব্যতীত কোনো গতি থাকবে না।
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইলমে তাছাওউফ উনার যাবতীয় কার্যাবলী তারতীব অনুযায়ী নিয়মিত ও পরিমিত এবং সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে এবং প্রতিটি আমলের জবাবদিহী এবং আত্মসমালোচনার জন্য ‘মুহাসাবা’ বা ‘নিজস্ব আমলের হিসাব গ্রহণ’ অতীব জরুরী।
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে তাছাওউফ উনার যাবতীয় কার্যাবলী তারতীব অনুযায়ী নিয়মিত ও পরিমিত এবং সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে এবং প্রতিটি আমলের জবাবদিহী এবং আত্মসমালোচনার জন্য ‘মুহাসাবা’ বা ‘নিজস্ব আমলের হিসাব গ্রহণ’ অতীব জরুরী।
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
“হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম- উনারা সারা কায়িনাতের মহাসম্মানিত মাতা। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। আর উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফরী।
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নেককারদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সুসংবাদ আর বদকারদের জন্য দুনিয়াতে লাঞ্চনা-গঞ্চনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি। তাই সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- হালাল ও নেক কাজে দায়েমীভাবে মশগুল হওয়া এবং সর্বপ্রকার হারাম ও বদ কাজ হতে সর্বদা বিরত থাকা।
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘য়াত উনার বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘নূরে মুজাসসাম’ অর্থাৎ তিনি আপাদমস্তক নূর মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির সমস্ত কামিয়াবীর সোপান। ইলমে তাছাউফের তারতীব অনুযায়ী গাইরুল্লাহ হতে বিমুখ হয়ে একাগ্রতার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনাকে স্মরণ করা বা উনার যিকির করা এবং মহান আল্লাহ পাক উনার দিকেই খালিছভাবে রুজু হওয়া।
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












