ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত
ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা (২০)
, ১৮ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৮ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ১৭ মে, ২০২৫ খ্রি:, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ইতিহাস
শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খ্রিষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রিষ্টীয় ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য “Confession of British Spy and British enmity against Islam” গ্রন্থ হচ্ছে হেমপারের স্বীকারোক্তি মূলক রচনা। যা মূল গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
উপনিবেশ মন্ত্রণালয়ের ইরাকি প্রতিনিধি আমাকে উপদেশ দেন, তাকে যেন প্রায়শই ফোন না করা হয় যাতে আমি কোন সন্দেহের সৃষ্টি না করি। তিনি আমাকে আরো পরামর্শ দেন, দজলা নদীর কাছে কোন সরাইখানায় একটি রুম ভাড়া করে সেখানে অবস্থান করবে। তিনি বললেন, “আমি তোমাকে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত জানাবো যখন লন্ডন থেকে চিঠি পাবো। ”
বাগদাদে আমার অবস্থানকালেই আমি বুঝতে পারি আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে খিলাফতের রাজধানী ইস্তাম্বুল এবং বাগদাদের মধ্যে একটা ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। নাজাফ এবং কারবালার উদ্দেশ্যে আমি যখন বাগদাদ ত্যাগ করি তখন আমার দুশ্চিন্তা হলো, নজদের মুহম্মদ হয়তো আমার দেখানো পথ ছেড়ে অন্য পথে ধাবিত হতে পারে। কেননা, সে ছিলো অতিমাত্রায় অস্থির এবং নার্ভাস প্রকৃতির লোক। আমি ভয় পাচ্ছিলাম, যে উদ্দেশ্য নিয়ে তাকে তৈরী করেছিলাম তা না ভ-ুল হয়ে যায়।
আমার চলে আসার সময় সে (ওহাবী নজদী) ইস্তাম্বুলে যাওয়ার কথা ভাবছিলো। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলাম তার এই চিন্তা থেকে তাকে সরিয়ে আনতে। আমি বললাম, “আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন যে তুমি সেখানে গিয়ে এমন কোন উক্তি করবে যাতে প্রকাশ পাবে তুমি ভিন্নমতাবলম্বী এবং শেষে তোমাকে তারা হত্যা করবে। ”
অবশ্য আমার মনে ধারণা ছিলো ভিন্ন রকম। আমি ভীত ছিলাম এই ভেবে যে, সেখানে গেলে নজদের মুহম্মদের সাথে দেখা হবে অনেক ধর্মীয় আলিম ব্যক্তিদের; যারা তার এই ভ্রান্ত মতগুলো খন্ডিয়ে দেবেন এবং সুন্নী মত অনুযায়ী তাকে তৈরী করবেন, তাতে আমার সকল স্বপ্ন বন্ধ হয়ে যাবে। কেননা ইস্তাম্বুলে ছিলো ইসলামের গভীর ইলিম এবং আদর্শের উপস্থিতি।
যখন আমি দেখলাম নজদের মুহম্মদ বসরায় অবস্থান করতে চাচ্ছে না আমি তাকে সুপারিশ করলাম যাতে সে ইস্পাহান এবং সিরাজে যায়। এই দুটো শহর ছিলো যথেষ্ট সুন্দর এবং শিয়া অধ্যুষিত। শিয়ারা জ্ঞানে এবং আদর্শে অপরিপূর্ণ সুতরাং তারা নজদের মুহম্মদের ওপর কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না। এভাবে আমি নিশ্চিত হলাম যে, আমি তাকে যে পথ নির্দেশনা দিয়েছি সেখান থেকে সে সরে যাবে না। বিদায় নেবার সময় আমি তাকে বললাম, “তুমি কি তাকিয়া বিশ্বাস করো”?
উত্তরে সে বললো, হ্যাঁ করি। কাফেরগণ একজন ছাহাবীকে বন্দী করে এবং উনার পিতা-মাতাকে শহীদ করে। এতে তিনি তাকিয়া অবলম্বন করেন এবং প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে, তিনি মুশরিক হয়ে গেছেন। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই ছাহাবীকে ভর্ৎসনা করেননি।
(উল্লেখ্য, উক্ত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্পর্কে হেমপারের এ বক্তব্য মোটেই শুদ্ধ নয়। কেননা ছাহাবী হযরত আম্মার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কাফির, মুশরিক কর্তৃক পিতা-মাতার মর্মান্তিক শাহাদাত বরণের দৃশ্য দেখে উনার যবান দিয়ে যা উচ্চারিত হয়েছিলো তা ছিলো সম্পূর্ণরূপে অনিচ্ছাকৃত। তা কখনই ইচ্ছাকৃত ছিলো না। কাজেই উনার সাথে তাকিয়ার কোন মিল বা সম্পর্ক নেই। মূলতঃ বাহ্যিক ও আন্তরিক সবদিক থেকেই উক্ত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ঈমানে অটল ছিলেন। )
আমি তাকে উপদেশ দিলাম, “যখন তুমি শিয়াদের মধ্যে থাকবে, তাকিয়া করবে। কিন্তু তাদের বলবে না যে তুমি একজন সুন্নী। পাছে তারা তোমার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাদের দেশ এবং পা-িত্যকে কাজে লাগাবে। তাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি শিখে নেবে। কারণ তারা হচ্ছে, মূর্খ এবং একগুয়ে প্রকৃতির লোক। আমি চলে আসার সময় তাকে কিছু যাকাতের পয়সা দিলাম। যাকাত হচ্ছে- ইসলামের কর; যা গরীবদের দেয়া হয়। অতিরিক্ত উপহার হিসেবে তাকে কিছু ভারবাহী পশু দিলাম।
আমার চলে আসার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম। ফলে আমি অস্বস্তি অনুভব করতে থাকি। অবশ্য বিদায়কালে আমরা ঠিক করেছিলাম, আমরা উভয়েই বসরায় ফিরে আসবো। যে প্রথমে ফিরবে, ফিরে অন্যকে না দেখলে দ্বিতীয় জনকে চিঠি লিখবে এবং চিঠি আব্দুর রিদার নিকট রেখে যাবে।
বাগদাদে কয়েকদিন কাটালাম। তারপর লন্ডনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ পেয়ে লন্ডন চলে গেলাম। লন্ডনে গিয়ে সচিব এবং উপনিবেশ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বললাম। আমার দীর্ঘদিনের কার্যকলাপ, অভিজ্ঞতা তাদের অবহিত করলাম। ইরাক সম্বন্ধে যে তথ্য পেলাম তাতে তারা বেশ আনন্দ পেয়েছিলো। বললো, তারা বেশ খুশি। ওদিকে নজদের মুহম্মদের মেয়ে বন্ধু সুফিয়া যে রিপোর্ট পাঠিয়েছিলো তাতেও আমার কথার প্রতিফলন ছিলো।
ভাষান্তর : আবুল বাশার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শুধু স্পেন নয় ফিলিপাইনও ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত, শাসিত বর্তমানে ফিলিপাইন হতে পারতো খ্রিস্টানের পরিবর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের ক্ষমতা হারানোর কারণ: জ্ঞান চর্চা থেকে দূরে সরে আসা (২)
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (২)
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত ইসলামী ইতিহাসের স্বর্ণালী পুলিশ বিভাগের ইতিহাস (১)
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












