দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৫ম পর্ব)
, ১৭ মে, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
জাতিসংঘ ওরফে ইহুদী সংঘের কথিত মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়: যা প্রকৃতপক্ষে একমাত্র পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিচালনার কেন্দ্র।
“মানবাধিকারের ছদ্মাবরণে বিশ্বব্যাপী ইহুদী কর্তৃক পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কুফরীর শৃঙ্খলে বন্দি করার চক্রান্ত:
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন-
لَـتَجِدَنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّـلَّذِيۡنَ اٰمَنُوا الۡيَهُوۡدَ وَالَّذِيۡنَ اَشۡرَكُوۡا
“(ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবেন ইহুদীদেরকে এবং যারা মুশরিক তাদেরকে।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: ৮২)
ইসলাম ও মুসলমানদের চিরশত্রু ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিক তারা সবসময় চায় পৃথিবী থেকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের নাম নিশানা সব মুছে দিতে। তাই তারা সবসময় জান ও মাল সব দিক থেকে মুসলমানদের ক্ষতি করতে চায়। মুসলমানদের চিরশত্রু, শয়তানের অনুচর ইহুদী-মুশরিক-কাফিররা সারা পৃথিবী জুড়ে জুলুম করার জন্য এবং শোষণ করার জন্য অনেকগুলো কূটকৌশল অবলম্বন করেছে।
সারা পৃথিবীর মানুষ যখন দলে দলে সম্মানিত দ্বীন ইসলামে দাখিল হচ্ছে, তখন তারা দ্বীন ইসলাম উনার প্রচার-প্রসার ঠেকানোর জন্য নানা রকম মিথ্যা অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্র করেছে। যেমন: অনেক প্রকার ষড়যন্ত্র ও অনেক কূটচাল এবং গুপ্তহত্যা ও সন্ত্রাসীমূলক আক্রমণ চালিয়ে ইসলামী খিলাফত ব্যবস্থা বিলুপ্তির জন্য অপচেষ্টা করেছে। এছাড়া দ্বীনি চেতনাবোধ, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও দ্বীনী জাতীয়তাবোধের বিপরীতে তারা নানান ভৌগলিক ও আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদের জন্ম দিয়েছে।
আবার এই ভূখন্ড নির্ভর আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদের চেতনাকে উস্কে দিয়ে তারাই কোনো নির্দিষ্ট ভূখন্ডের উপরে কোনো নির্দিষ্ট জনসমষ্টিকে দিয়ে বিভিন্ন জাতি রাষ্ট্র তৈরী করেছে। ইহুদীদের তৈরী এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য তারা রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ইত্যাদি বিভিন্ন তন্ত্র-মন্ত্র ও নিয়ম-নীতির প্রচলন করেছে। এইসব তন্ত্র-মন্ত্র ও নিয়ম-নীতি তারাই পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে। তাই আক্ষরিক অর্থে স্বাধীন বললেও পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রের উপরে তাদের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এটা ইহুদীদের কল্পিত এক বিশ্ব ব্যবস্থা (ড়হব ড়িৎষফ ড়ৎফবৎ) প্রতিষ্ঠার জন্য পরিচালিত কার্যক্রম।
আবার অপেক্ষাকৃত দূর্বল দেশগুলোকে শোষণ করার জন্য তারা উপনিবেশবাদের জন্ম দিয়েছিলো। এই উপনিবেশবাদের (Colonialism) ঐতিহ্যগত রূপ হলো শক্তিশালী দেশগুলো কর্তৃক দুর্বল দেশকে সামরিক, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শোষণ করা। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের দ্বারা তারা পৃথিবীর একটা বড় অংশকে শোষণ করতো। ফ্রান্সের উপনিবেশবাদের দ্বারা তারা পুরো আফ্রিকাকে শোষণ করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে। পরবর্তীতে মুসলমানদের অনেক জিহাদ ও রক্তক্ষয়ের মাধ্যমে ব্রিটিশ উপনিবেশের পতন হয়েছে।
পরবর্তীতে তারা আমেরিকাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে প্রতিটি স্টেট বা অঙ্গরাষ্ট্রের আলাদা আলাদা স্বতন্ত্র শাসন ব্যবস্থা এবং সংবিধান আছে। কিন্তু কেন্দ্রিয় বা ফেডারেল সরকারের হাতে রয়েছে নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং বৈদেশিক নীতির নিয়ন্ত্রণ। এই আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মডেলে (আঙ্গিকে) সারা পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই ইহুদীরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে তৈরী করে জাতিসংঘ।
সংক্ষেপে বলা যায়, জাতিসংঘ হচ্ছে ইহুদীদের উপনিবেশবাদের আধুনিক রুপ। যেখানে সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলো আক্ষরিক অর্থে স্বাধীন কিন্তু ইহুদীসংঘের (জাতিসংঘের) দ্বারা শাসিত। এই শাসনের জন্য তারা বিভিন্ন বয়ান দিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং কার্যক্রম ইহুদীসংঘের (জাতিসংঘের) মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জারি করে। জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের এমন একটি প্রকল্প হলো ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার কমিশন।
ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকরা সবসময় চায় মুসলমানদের ক্ষতি করতে, মুসলমানদের শহীদ করতে, জান ও মালের ক্ষতি করতে, ঈমান ধ্বংস করতে, মুসলমানদের দেশ দখল করতে, মুসলমানদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করতে, মুসলমানদেরকে গরীব করে রাখতে, মুসলমানদেরকে অসুস্থ করে রাখতে, মুসলমান দেশে অশান্তি ও ফিৎনা-ফাসাদ লাগিয়ে রাখতে, মুসলমান দেশগুলোকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে জুলুম করতে ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে, মুসলমান দেশগুলোকে তাদের উপনিবেশ (কলোনী) বানিয়ে রাখতে।
এসব কাজই হলো জাতিসংঘের তথা ইহুদীসংঘের তথাকথিত মানবাধিকার কমিশনের কাজ। আর তারা দেশে দেশে এই কমিশনের কার্যালয় বা অফিস স্থাপন করে সেই দেশটাকে কথিত মানবাধিকারের নামে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক, প্রশাসনিক, সামরিক, সাংস্কৃতিক এবং সর্বোপরি দ্বীনী বিষয়ে পুরো পঙ্গু করে ফেলে এবং ইহুদীদের কথামত চলতে বাধ্য করে। নাউযুবিল্লাহ। (সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নৌবাহিনী গঠন এবং বিজিত এলাকার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত নিযামুদ্দিন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে বসন্ত পঞ্চমী উৎসবের বানোয়াট ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অশ্লীল চিত্র দেখা ও তৈরিতে যে সমস্ত বিধর্মী রাষ্ট্র শীর্ষে...
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিধর্মীদের কুকীর্তিগুলো লিখিত রূপ দেয়নি কোনো লেখক, ফলে তাদের অপকীর্তিগুলো মুসলমানদের জানার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিধর্মী-কাফির, মুশরিকরা কতবেশি বিদ্বেষ পোষণ করে তার একটি উদাহরণ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর বিধর্মীপ্রীতিতে মত্ত শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এক ছোট্ট কুটিরে খুঁজে পেলেন গরিব কিন্তু বেমেছাল তাক্বওয়াধারী এক পুত্রবধু
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ইলম মুবারক
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অনন্য খুছুছিয়ত মুবারক আর বাবুল ইলমী শানে মহীয়ান
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৪র্থ পর্ব)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (১৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৩য় পর্ব)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












