ইতিহাস
কুরবানীবিরোধী ও মুসলিম বিদ্বেষী জালিম শাসক গৌরগোবিন্দের করুণ পরিণতি
, ০৬ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৪ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ মে, ২০২৬ খ্রি:, ১০ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
সনটি ছিলো ১৩৪৪ খ্রিষ্টাব্দ। সিলেটের তৎকালীন হিন্দু শাসক গৌর গোবিন্দের রাজ্যের এক মহল্লায় ১৩টি মুসলিম পরিবার বাস করতেন। উনাদেরই একজন ছিলেন শেখ বুরহান উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি হিন্দু জালিম শাসক গৌর গোবিন্দের কারণে গোপনে সম্মানিত ইবাদত-বন্দেগী করতেন। কারণ, সেখানে প্রকাশ্যে মুসলমানদের জন্য সম্মানিত ইবাদত-বন্দেগী করা নিষিদ্ধ ছিলো। কেউই গরু জবেহ ও পবিত্র কুরবানী করতে পারতো না।
শেখ বুরহান উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কোনো আওলাদ ছিলেন না। সন্তানের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করে তিনি নিয়ত করলেন, যদি উনার একটি সন্তান হয় তাহলে তিনি শুকরিয়াস্বরূপ মহান আল্লাহ পাক উনার নামে একটি গরু কুরবানী করবেন। কিছুদিন অপেক্ষার পর সত্যি সত্যিই উনার একজন সন্তান দুনিয়াতে আসলেন। খুশি হয়ে তিনি শুকরিয়া করে নিয়ত মুতাবিক একদিন গোপনে একটি গরু কুরবানী করে গোশত মুসলমানদের মধ্যে বিলি করতে লাগলেন। এমন সময় একটি কাক এসে ছোঁ মেরে এক টুকরা গোশত নিয়ে গেলো। মহান আল্লাহ পাক উনার কি কুদরত মুবারক; কাক গোশতের টুকরাটি ফেললো গৌর গোবিন্দের মন্দিরের প্রধান প্রবেশ পথে।
গোবিন্দ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সৈন্য পাঠিয়ে শেখ বুরহান উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে উপস্থিত করালো। জালিম হিন্দু শাসক গৌরগোবিন্দ শেখ বুরহান উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ডান হাত কেটে দিলো। নিষ্পাপ সদ্য দুনিয়াতে আসা উনার আওলাদ উনাকে পিতার সামনেই নির্মমভাবে শহীদ করলো। নাউযুবিল্লাহ!
এ অবস্থা দেখে শেখ বুরহান উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আহলিয়া তিনি ইন্তেকাল করলেন। শুধু এতটুকুই নয়, ওই যালিম গোবিন্দ ওই দিনই আক্রমণ চালিয়ে ওই এলাকার সকল মুসলমানদেরকে নির্মমভাবে শহীদ করে ফেললো! নাউযুবিল্লাহ!
অত্যন্ত ব্যাথিত অন্তরে শেখ বুরহান উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি পায়ে হেঁটে উপস্থিত হলেন সোনারগাঁয়ে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের দরবারে। ইলিয়াস শাহ সব শুনে যালিম হিন্দু শাসক গৌর গোবিন্দকে শাস্তি দেয়ার জন্য সৈন্য-সামন্ত পাঠালেন যুদ্ধ করার জন্য। বেশ কিছুদিন যুদ্ধ হলো, শত শত মুসলিম সৈন্য শহীদ হলো। কিন্তু জয় করা হলো না।
এরপর শেখ বুরহান উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি রওয়ানা হলেন দিল্লির পথে। দিল্লির শাসক আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ তুঘলক তিনি উনার নিকট হতে সব বিষয় শুনে গোবিন্দকে শায়েস্তা করার জন্য সৈন্যসহ মুসলিম সিপাহসালার সিকান্দার গাজীকে সেনাপতি করে অভিযানে পাঠালেন। কিন্তু পথিমধ্যে অনেক প্রতিকূলতার কারণে উনারা দিল্লিতে ফিরে গেলেন।
অতঃপর নতুন কিছু সৈন্যসহ আর একজন বীর সাইয়্যিদ নাসির উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সেনাপতি করা হলো। মুসলিম শাসকের আদেশ পেয়ে তিনি দোয়া নিতে গেলেন উনার সম্মানিত শায়েখ হযরত খাজা নিজাম উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবারে। তখন ওখানেই অবস্থান করছিলেন হযরত শাহ জালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। সবকিছু শুনে হযরত শাহ জালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি সিদ্ধান্ত নিলেন তিনিও সাইয়্যিদ নাসির উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে সাথে এই অভিযানে যাবেন।
অতঃপর হযরত শাহ জালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ৩৬০ জন সঙ্গী নিয়ে সাইয়্যিদ নাসির উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সৈন্যবাহিনীর সাথে রওয়ানা দিলেন। পথিমধ্যে গৌর গোবিন্দের সৈন্যদের সাথে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয় মুসলমানদের। সম্মানিত ওলীয়ে কামিলগণ উনাদের দোয়া, মহান আল্লাহ পাক উনার গায়েবী মদদ এবং হযরত শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহানিয়তের নিকট গৌর গোবিন্দের যাদুমন্ত্র অকার্যকর হয়ে তার বাহিনীর চরম পরাজয় হলো। নিহত হলো গোবিন্দের সেনাপতি মনা রায়। মুসলিম বাহিনী অগ্রসর হতে থাকলো গৌর গোবিন্দের রাজধানী অভিমুখে। সুরমা নদী পার হয়ে মুসলিম বাহিনী যখন প্রাসাদের নিকটবর্তী হলো, তখন হিন্দু শাসক গৌর গোবিন্দ প্রাসাদ ছেড়ে পালিয়ে যায়। মুসলমানদের সম্মানিত আযানের ধ্বনিতে গৌর গোবিন্দের প্রাসাদ ও মন্দির ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।
উদিত হয় নতুন সূর্য। সম্মানিত কুরবানী উনার বিরোধীদের করুণ পরিণতি অবলোকন করে বিশ^। উড়তে থাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পতাকা। গৌর গৌবিন্দের রাজ্যের নতুন নাম হয় জালালাবাদ, যাকে আমরা আজকে সিলেট নামে চিনে থাকি।
-মুহম্মদ শাহ জালাল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নৌবাহিনী গঠন এবং বিজিত এলাকার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত নিযামুদ্দিন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে বসন্ত পঞ্চমী উৎসবের বানোয়াট ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অশ্লীল চিত্র দেখা ও তৈরিতে যে সমস্ত বিধর্মী রাষ্ট্র শীর্ষে...
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিধর্মীদের কুকীর্তিগুলো লিখিত রূপ দেয়নি কোনো লেখক, ফলে তাদের অপকীর্তিগুলো মুসলমানদের জানার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিধর্মী-কাফির, মুশরিকরা কতবেশি বিদ্বেষ পোষণ করে তার একটি উদাহরণ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর বিধর্মীপ্রীতিতে মত্ত শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এক ছোট্ট কুটিরে খুঁজে পেলেন গরিব কিন্তু বেমেছাল তাক্বওয়াধারী এক পুত্রবধু
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ইলম মুবারক
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অনন্য খুছুছিয়ত মুবারক আর বাবুল ইলমী শানে মহীয়ান
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৪র্থ পর্ব)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (১৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৩য় পর্ব)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












