ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অনন্য খুছুছিয়ত মুবারক আর বাবুল ইলমী শানে মহীয়ান
, ২৫ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ১২ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) ইতিহাস
প্রবাদ আছে, ‘হার গুলেরা রঙ্গো বুয়ে দিগারাস্ত’। অর্থাৎ ‘একেক ফুলের একেক রকম রং ও ঘ্রাণ’। সমস্ত উম্মতের মাঝে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব। আবার উনাদের মাঝে বদরী ছাহাবীগণ উনাদের রয়েছে বিশেষ ফযীলত। আবার মুহাজিরগণ উনাদের রয়েছে ব্যতিক্রম শান মুবারক। অপরদিকে খিলাফতের ক্ষেত্রে কুরাইশগণ উনাদের রয়েছে একক প্রাধান্য। সর্বোপরি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য মুবারক নির্ধারিত।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- আমি দানশীলতার মুবারক শহর এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনার দরজা মুবারক স্বরূপ। আমি বীরত্বের মুবারক শহর এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার দরজা মুবারক স্বরূপ। আমি লজ্জাশীলতার মুবারক শহর এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনার মুবারক দরজাস্বরূপ। আমি ইলম উনার শহর মুবারক এবং ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনার দরজা মুবারক স্বরূপ। (নুজহাতুল মাজালিস)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মুকুটস্বরূপ। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার লিবাসস্বরূপ। সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অলংকারস্বরূপ। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার চিকিৎসক স্বরূপ। (কিতাবুল ফিরদাউস)
অর্থাৎ হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রত্যেকের আলাদা বা স্বতন্ত্র খুছুছিয়ত মুবারক রয়েছে। সঙ্গতকারণেই সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহ ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার খুছুছিয়ত মুবারক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কিতাবে উল্লেখ করা হয়, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি কায়িনাতে একক ব্যক্তিত্ব। যিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার ভিতরে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। উনার পূর্বে অন্য কেউই পবিত্র কা’বা শরীফ উনার ভিতরে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেননি। আর কিয়ামত পর্যন্ত কেউই এরূপ করতে সামর্থ্যবান হবেন না।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি ইলমের শহর মুবারক। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খুঁটিস্বরূপ। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার দেয়ালস্বরূপ। সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার ছাদস্বরূপ। এবং সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনার দরজাস্বরূপ। (নুজহাতুল মাজালিস)
অর্থাৎ হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই ইলমের জামে’। তবে ইলম প্রকাশিত হবে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে। যা অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- হযরত হুবায়রা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণ করার পর ইমামুছ ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত হাসান আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র খুতবা মুবারক প্রদানকালে ইরশাদ মুবারক করেন, গতকাল এমন একজন মহান ব্যক্তিত্ব তোমাদের থেকে পর্দা করেছেন যিনি ইলম প্রকাশের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীগণ উনাদের চেয়ে অগ্রগামী। আর পরবর্তীরা তো উনার নাগালই পায়নি। (মুসনাদে আহমদ শরীফ)
সত্যিই সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ইলম মুবারক প্রকাশের ক্ষেত্রে সকলের অগ্রগামী। বলা হয়, ইলম দু’ প্রকার। জাহিরী এবং বাতিনী তথা ইলমে ফিক্বহ এবং ইলমে তাসাউফ।
ইলমে তাছাউফের অনেকগুলো সিলসিলা বা তরীকা মুসলিম উম্মাহর মাঝে চালু রয়েছে। তবে শুধুমাত্র নক্শবন্দিয়ায়ে মুজাদ্দিদিয়া তরীকা ব্যতিত অন্য সব তরীকা উনার মাধ্যমেই জারি হয়েছেন। তরীকার শাজরা শরীফ তার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
ইলমে ফিকাহর প্রথম আলোচ্য বিষয় ইলমে তাফসীর। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার ইলমে তাফসীর সম্পর্কে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন শরীফ সাত হরফে নাযিল হয়েছে। প্রতিটি হরফেরই একটি জাহিরী এবং একটি বাতিনী অর্থ রয়েছে। আর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিকট জাহিরী-বাতিনী উভয় প্রকার ইলম মুবারকই রয়েছে। (মানাকিবু আসাদিল গালিব)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- ইলম ও হিকমতকে দশ (১০) ভাগ করা হয়েছে। তন্মধ্যে নয় (৯) ভাগ সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া করা হয়েছে। আর এক ভাগ মানুষদের বণ্টন করা হয়েছে। (আবূ নুয়াইম)
তাই তো, তাফসীর, হাদীছ শরীফ, ফিকাহ, উছূল, ক্বাওয়ায়িদ, বালাগাত, ফাসাহাত, ফারায়েয, ইলমে তিব্ব, ইলমে হুনুরসহ সমস্ত প্রকার ইলম প্রকাশের ক্ষেত্রে উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। ইলম হাছিল করতে হলে উনার আনুষ্ঠানিক নিসবত প্রয়োজন।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি ইলম মুবারক উনার শহর। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনার দরজাস্বরূপ। অতএব, যে ইলম হাছিল করতে চায়, সে যেন ইলমের দরজা দিয়ে আসে। (আবু নুয়াইম)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ উনার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জাহিরী ইলম তো অবশ্যই এমনকি বাতিনী ইলম তথা বাতিনী নিয়ামত হাছিল করতে হলেও সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিসবত মুবারক বা উনাকে উসীলা হিসেবে গ্রহণ করা অতীব জরুরী।
কিতাবে উল্লেখ করা হয়, গাউছুল আ’যম হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি মানুষদেরকে নসীহত করুন। তিনি আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি তো অনারবী। আরবীদেরকে কিভাবে নসীহত মুবারক করবো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুখ মুবারক-এ নূরুল বারাকাত মুবারক প্রদান করলেন। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনিও নূরুল বারাকাত মুবারক প্রদান করলেন। আর সেই মুবারক দিন হতেই হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তা’লীম দেয়া শুরু করেন।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, নিসবত মুবারকের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি নির্দেশ মুবারকে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে জামিউল ইলম পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার তা’লীম মুবারক প্রদান করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই উম্মাহর দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শান জেনে হুসনে যন পোষণ করত উনার নিসবত মুবারক হাছিল করে রেযামন্দি হাছিলের কোশেশ করা।
-আহমদ নুছাইর।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৪র্থ পর্ব)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (১৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৩য় পর্ব)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফরাসী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং নববী মুহব্বতের দৃষ্টান্ত
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: অভিশপ্ত ইহুদী মনস্তত্ব বিশ্লেষণ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যখন চট্টগ্রামের বন্দর থেকে শুরু হতো হজযাত্রা (৩)
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উসমানীয় সালতানাতে যেভাবে পবিত্র কুরবানীর ঈদ বিশেষভাবে উদযাপন করা হতো
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কুরবানীবিরোধী ও মুসলিম বিদ্বেষী জালিম শাসক গৌরগোবিন্দের করুণ পরিণতি
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যখন চট্টগ্রামের বন্দর থেকে শুরু হতো হজযাত্রা (২)
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (২য় পর্ব)
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৫ম পর্ব)
১৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
উসমানীয় শাসনের প্রতি ভারতের মুসলমানদের আত্মত্যাগ এবং সিঙ্গাপুর গণহত্যার করুণ ইতিহাস
১৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












