বাদশাহ মুহিউদ্দিন মুহম্মদ আওরঙ্গজেব আলমগীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি
, ২০শে রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ১৪ তাসি, ১৩৯০ শামসী সন , ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ২৯শে মাঘ, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
তদানীন্তন সময়ে গুজরাট ছিলো চোর-ডাকাত আর বিদ্রোহীদের আখড়া। এরা জনসাধারণের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিলো। দিন দিন তাদের দৌরাত্ম বেড়ে চলছিলো এবং দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলো। তাদের নিয়ন্ত্রন করা দুরূহ হয়ে উঠেছিলো। সবকিছু বিবেচনা রেখেই বাদশাহ শাহ জাহান আওরঙ্গজেব আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে গুজরাটের সুবেদারি প্রদান করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, গুজরাটের শান্তি শৃঙ্খলা একমাত্র উনার মাধ্যমেই আনা যাবে। আওরঙ্গজেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজেও এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।
গুজরাট এসেই তিনি কৌশল ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেন। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিটি ডাকাত ও বিদ্রোহী দলের তথ্য সংগ্রহ করেন। প্রথমে ডাকাত দলগুলোতে শায়েস্তা করেন। পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী বাহিনী গড়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীতে সদস্য ভর্তিও বেগবান করেন। কয়েক মাস বিরতি দিয়ে তিনি সদ্যগঠিত শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে পুরোদমে মাঠে নামেন। এরপর অবশিষ্ট ডাকাত ও বিদ্রোহী দলগুলোর মূলোৎপাটন করে জনজীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। উনার এই কার্যকরী পদক্ষেপ জনসাধারণের মন থেকে সব ধরণের শঙ্কা দূর করে দেয়। রাস্তাঘাটও নিরাপদ হয়ে যায়। সর্বোপরি আওরঙ্গজেব আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাধারণ মানুষের অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিতে পরিণত হন। গুজরাটের সাধারণ মানুষ উনাকে সুবেদার হিসেবে পেয়ে অত্যন্ত খুশি হয়েছিলো। কারণ তিনি অত্যন্ত দয়ালু ব্যক্তি ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন-চলতেন। সব সময় মানুষের কল্যাণের চিন্তা করতেন।
তবে গুজরাটে তিনি বেশিদিন সুবেদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি। কারণ সুবেদারি লাভের কিছুদিন পরই উনাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করে শায়েস্তা খানকে সেখানকার সুবেদার দেয়া হয় এবং উনাকে তখন চলমান বলখ ও বাদাখশানযুদ্ধের সেনাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। কাবুলের উত্তরে হিন্দুকুশ পর্বতমালার ওপারের শহর বলখ ও বাদাখশান ছিল তখন বুখারার করদরাজ্য। সেখানকার সুলতান নজর মুহম্মদ খান ছিলো একজন অযোগ্য ও অথর্ব শাসক। ফলে তার এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তাই বাদশাহ শাহ জাহান ওই অঞ্চল মুঘল সালতানাতের অধীনে নিয়ে আসতে আওরঙ্গজেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে প্রেরণ করেন।
উজবেকদের সাথে এক অসময় যুদ্ধে আওরঙ্গজেব আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলখ বিজয় করতে সক্ষম হন। এ যুদ্ধ ছিল ১ লাখ ২০ হাজারেরও অধিক উজবেক সেনাদের বিরুদ্ধে মাত্র ৩০-৩৫ হাজার মুঘল সেনাদের কৌশলের যুদ্ধ। তবে আওরঙ্গজেব আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এমনভাবে উজবেকদের পরাজিত করেন যে, উনার সামরিক কৌশল দেখে উজবেক সেনারা নিরাশ ও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে নিজেদের ঘোড়াগুলো মুঘল সেনাদের কাছে বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
তাওয়াক্কুল উনার মাক্বাম হাছিলের পথে ফানা বা বিলীন হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কারবালায় ঐতিহাসিক পবিত্র ১০ই মুহররমুল হারাম শরীফে শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নৌবাহিনী গঠন এবং বিজিত এলাকার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত নিযামুদ্দিন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে বসন্ত পঞ্চমী উৎসবের বানোয়াট ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অশ্লীল চিত্র দেখা ও তৈরিতে যে সমস্ত বিধর্মী রাষ্ট্র শীর্ষে...
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিধর্মীদের কুকীর্তিগুলো লিখিত রূপ দেয়নি কোনো লেখক, ফলে তাদের অপকীর্তিগুলো মুসলমানদের জানার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিধর্মী-কাফির, মুশরিকরা কতবেশি বিদ্বেষ পোষণ করে তার একটি উদাহরণ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর বিধর্মীপ্রীতিতে মত্ত শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এক ছোট্ট কুটিরে খুঁজে পেলেন গরিব কিন্তু বেমেছাল তাক্বওয়াধারী এক পুত্রবধু
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ইলম মুবারক
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অনন্য খুছুছিয়ত মুবারক আর বাবুল ইলমী শানে মহীয়ান
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৪র্থ পর্ব)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












