মন্তব্য কলাম
বর্বর আম্রিকা আর সন্ত্রাসী ইসরাইলের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কিন্তু মুসলিম দেশ ইয়েমেন থেকে শুরু করে সোমালিয়া-লিবিয়া হতে সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চালিয়ে রাখছে আরব-আমিরাত ভয়াবহ মানবেতর সংকটে সুদান, সহিংসতা-রোগ-দুর্ভিক্ষে দিশাহারা মানুষ সুদানের রক্তপাত বন্ধে মুসলিম বিশ্বকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে এক্ষুনি
, ০৩ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২১ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
গতকাল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে- ‘ধারণার চেয়েও ভয়াবহ সংকটে সুদান, সহিংসতা-রোগ-দুর্ভিক্ষে দিশাহারা মানুষ’
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনী আরএসএফ-এর মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশজুড়ে চলছে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। সম্প্রতি সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল ফাশার শহরে ভয়াবহ গণহত্যার চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতিবাদের মাধ্যমেই কি তারা তাদের কর্তব্য সমাপ্ত করবেন? নাকি গুরুত্বপূণ আরো কিছু করণীয় রয়েছে? সুদান আজ যে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে, তার দায় শুধু দু’বাহিনীর ঘাড়ে চাপালে হবে না। ২০১৯ সালের বিপ্লব এবং প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আনতে হবে। আর সুদানে গৃহযুুদ্ধের যে ভয়াবহ রূপ, তাতে ইন্ধন দিচ্ছে কারা? আরএসএফ এত অস্ত্র ও অর্থ পাচ্ছে কেমন করে, কারা-এর যোগানদাতা? ভূরাজনীতির বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। সুদানে রক্তপাত বন্ধের জন্য মুসলিম বিশ্বকে সঙ্গত দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান।
সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধ এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। সংঘাতের কারণে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে সেখানে খাবার, ওষুধ ও অন্য প্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র সংকটে দিশাহারা সাধারণ মানুষ।
দেশটিতে মানুষ শুধু সহিংসতার কারণেই মারা যাচ্ছে তা নয় বরং রোগ ও অনাহারেও মারা যাচ্ছে। বারবার কলেরা, ভাইরাল হেপাটাইটিস, মেনিনজাইটিস, ইয়েলো ফিভার এবং অন্যান্য মরণব্যাধী রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এই যুদ্ধ বিশ্বের বৃহত্তম ক্ষুধা সংকট তৈরি করেছে, যেখানে ২ কোটির বেশি অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৬২ শতাংশ এখন পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে না। সেখানে ক্রমাগত দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ছে।
দারফুর ও কর্দোফানের পশ্চিমাঞ্চলে মানুষ ভয়াবহ নৃশংসতা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। হাসপাতাল ও স্কুলে ড্রোন হামলা হচ্ছে, শহরগুলো অবরুদ্ধ, বিভিন্ন গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং ত্রাণবাহী গাড়িবহরে বোমা হামলা চালানো হচ্ছে।
সুদানের জন্য অর্থবহ কিছু করতে হলে সুদান-সংকটের মূল বিষয়গুলো আমাদের জানতে হবে। প্রথমেই আমাদের ফিরে যেতে হবে ২০১৯ সালে। এ বছর এক বিদ্রোহের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন তদানিন্তন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির। এরপর সুদানের সেনাবাহিনী ও মিলিশিয়া বাহিনী (আরএসএফ) বেসামরিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে এক ‘অস্বস্তিকর জোট সরকার’ গঠন করেছিল। বিপ্লব করে বশির সরকারকে হটানো গেলেও, দেশগড়ার কাজ ততটা সহজ নয়। দুর্নীতি দূর করে সুশাসনের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাক্ষা পূরণ আরও কঠিন কাজ। এ কাজে প্রয়োজনীয় ধৈর্য, যোগ্যতা এবং ত্যাগ-তিতীক্ষা। এ সবের অভাবে অচিরেই দ্বন্দ্ব দেখা গেল সামরিকদের সাথে বেসামরিকদের। সরকার থেকে বিদায় নিতে হলো বেসামরিকদের। এরপর দেশের নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ল সুদানের সেনাবাহিনী ও মিলিশিয়া বাহিনী আরএসএফ । অথচ এ দু’পক্ষ আগে একসঙ্গে সরকারে অংশীদার ছিল। এখন একে অপরকে নির্মূল করার জন্য চালিয়ে যাচ্ছে নিষ্ঠুর লড়াই।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে দু’বাহিনীর মধ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেটা সেনাবাহিনীর সাথে ছোটখাটো কোনো বিদ্রোহী বাহিনীর সংঘর্ষ ছিল না। আসলে এটি ছিল পূর্ণাঙ্গ দুই সেনাবাহিনীর যুদ্ধ। উভয় পক্ষের কাছেই ছিল অস্ত্রভা-ার, অর্থের উৎস, হাজার হাজার সেনা এবং বিদেশি জোগানদাতা। ফলে উভয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যুদ্ধে সুদানে কয়েক কোটি মানুষ ভিটে ছাড়া হয়েছে। নিহত হয়েছে প্রায় দেড় লাখ মানুষ। সেখানে এখন তিন কোটিরও অধিক মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। এসব চিত্রের চাইতেও সুদানের মানুষের দুর্দশার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যখন-তখন যেখানে-যেখানে হামলা চালাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দারফুর ও আল ফাশের অঞ্চলে যে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চলছে, তার পেছনে সংযুক্ত আরব আমিরাত বড় ভূমিকা রাখছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বহুদিন ধরেই আরএসএফ-এর ঘনিষ্ঠ মিত্র। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর আগে আরএসএফ মিলিশিয়াদের ভাড়াটিয়া যোদ্ধা হিসেবে ইয়েমেন যুদ্ধে পাঠিয়েছিল। এখন তারা আরএসএফ-এর হাতে প্রচুর অর্থ ও অস্ত্র দিচ্ছে। এর ফলে সুদানের গৃহযুদ্ধ আরো ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতই প্রথম আরব দেশ হিসেবে সহিষ্ণুতা মন্ত্রণালয় চালু করেছিল। আবার প্রথম আরব দেশ হিসেবে গণহত্যার অভিযোগেও অভিযুক্ত দেশটি। গত ১০ এপ্রিল সুদানের পক্ষের আইনজীবীরা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) এই অভিযোগের বিষয়ে শুনানি করেন। তাঁদের অভিযোগ, আরব আমিরাত মাসালিত জাতিগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালানো সুদানি আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) সমর্থন দিয়েছে।
এদিকে সুদানের মতো বড়, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর দেশটিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে। আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর খনি থেকে উত্তলিত স্বর্ণের বেশিরভাগ অংশই পাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এছাড়া আরও কিছু দেশ ও গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে জড়িয়েছে সুদানের গৃহযুদ্ধে। ফলে সুদানের গৃহযুদ্ধ এক ধরনের প্রক্সিযুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
সাম্রাজ্যবাদীরা স্থিতিশীল সুদান চায় না। তাদের স্বার্থে প্রয়োজন এক অস্থিতিশীল সুদান, গৃহযুদ্ধের সুদানÑ যা সুদানের জনগণের জন্য মহাবিপদজনক। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুদানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে কথা বলেছেন, গণহত্যা বন্ধের শুধু মৌখিক দাবি জানিয়েছেন। কাজটি সহজ নয়। তবে মুসলিম বিশ্ব কার্যকরভাবে এগিয়ে আসলেই কাজটি সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘দ্যা গ্রেট রিসেট’ ও নমরুদী মশার প্রতিশোধের এক চরম ইহুদী-নাসারায়ী নীলনকশা!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিদ্যুতের বিল বার বার বাড়ানো শোষক জমিদারি কায়দায় চক্র বৃদ্ধি হারে খাজনার চাবুক মারা অথচ বিদ্যুতে শুধু চুরি নয়, সব দিক থেকে সাগর চুরি হচ্ছে। সে চুরির ক্ষত পোষাতে জনগণের উপর খাজনা বৃদ্ধি করে চোরদের উৎসাহ ও প্রনোদনা এবং নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সে যুগেও হুসাইন আহমদকে ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের কংগ্রেসের পা চাটা- গোলাম প্রচারণা করা হলেও থানভী গংরা তা বুঝতে পারলো কৈ? আজকে পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার মসজিদ ভাঙ্গা ও লাখ লাখ মুসলমানদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদ গ্রহণে বাধ্য করার মত মহা জুলুমের মূলে হোসেন আহমদের সর্ব ভারতীয় জাতীয়বাদ।
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












