প্রসঙ্গ: রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম, মুসলমানের দ্বীনি অধিকার, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে পালনের আবহ এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের দায়।
, ০১ রবীউর আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৯ রবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ১৭সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ০২ আশ্বিন, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
এজন ‘মুসলমান’, সম্মানিত ‘ইসলামী মূল্যবোধ’ বজায় রেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলতে পারবেন; ফিরতে পারবেন।
একজন ‘মুসলমান’ তাঁর চারপাশের আবহে সম্মানিত ‘ইসলামী পরিবেশ’ পাবেন।
একজন মুসলমান- ‘তিনি চলাফেরা করলে কোনো বেপর্দা নারীর মুখোমুখি হবেন না।’ একজন মুসলমান তার কানে- ‘কোনো গান-বাজনার আওয়াজ আসবে না।’ একজন মুসলমান- তিনি ‘সুদমুক্ত অর্থনীতির’ সুযোগ পাবেন। একজন মুসলমান- ‘তিনি শিক্ষায় পবিত্র ইসলামী শিক্ষার গভীরতা পাবেন।’
একজন মুসলমান ‘তিনি সম্মানিত শরীয়তী আইনের সমাহার পাবেন।’
মূলত, এসবই হচ্ছে একজন মুসলমানের একান্ত দ্বীনি অধিকার। আর রাষ্ট্রদ্বীন- ‘পবিত্র দ্বীন ইসলাম’ পালনের সুযোগের অধিকার প্রদান সাপেক্ষে রাষ্ট্রযন্ত্র অবশ্যই সাংবিধানিকভাবে প্রতিটি মুসলমানকে সে সুযোগ দানের জন্য দায়বদ্ধ।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র মুসলমানদের সে কাঙ্খিত দ্বীনি অধিকার প্রদানে লজ্জাজনকভাবে ব্যর্থ।
রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি আচরণে একথা সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত। এক বিজ্ঞাপনের উদাহরণ যদি এক্ষেত্রে দেয়া হয় তাও চরম।
একজন মুসলমান পথচারীর আজ প্রতি মুহূর্তে হাজারো কবীরাহ গুনাহ হয়। হাজারো চোখের ব্যভিচার হয়। শুধুমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্রে চলমান বিজ্ঞাপনী ব্যবহারের কারণে। প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে, বিল্ডিংয়ের ছাদে ছাদে বা দেয়ালে দেয়ালে প্রায় বিবস্ত্র নারীর বিশাল বিজ্ঞাপন টানানো আছে। এসব বিবস্ত্র বাহারী বিজ্ঞাপন মূলত রাষ্ট্রযন্ত্রকে ক্ষত-বিক্ষত করে চলছে।
এসব বিজ্ঞাপন একজন রক্ত-গোশতের মানুষকে বিজ্ঞাপনে প্রদর্শিত সুন্দরী নারীর সান্নিধ্য পাবার জন্য প্ররোচিত করছে। যার পরিণতি হচ্ছে নারীটিজিং, সম্ভ্রমহরণ, পরকীয়া থেকে খুন-খারাবী ইত্যাদি।
আবার বিলাসী ফ্ল্যাট বা আয়েশী উপকরণের চটকদার বিজ্ঞাপন প্রতি মুহূর্তে প্রত্যেক মানুষকে অঢেল বিত্ত-বৈভবের অধিকারী হতে প্রলুব্ধ করছে।
যার পরিণতি হচ্ছে ঘুষ, দুর্নীতি থেকে মজুদদারী, মুনাফাখোরী তথা সিন্ডিকেট। তার যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
অপরদিকে সম্মানিত ‘ইসলামী মূল্যবোধ’ অনুযায়ী একজন সাধারণ মুসলমান যে শুধু দুনিয়াতেই বঞ্চিত হচ্ছে তা নয়; বরং আখিরাতেও সে লাঞ্ছিত হবার উপক্রম হচ্ছে।
সাধারণ মুসলমান সাধারণ প্রবৃত্তির অধিকারী। যার প্রভাবে সে বিজ্ঞাপনে প্রদর্শিত বিবস্ত্র সুন্দরী নারীর প্রতি দৃষ্টিপাতে বিভোর হতেই পারে। নাঊযুবিল্লাহ!
এতে করে তার লক্ষ লক্ষ কবীরাহ গুনাহ হচ্ছে। যার পরিণতি আখিরাতে হাবিয়াহ দোযখ। অথবা আগুনের তৈরি নারীর আলিঙ্গনের শাস্তি। নাঊযুবিল্লাহ!
দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রযন্ত্রের বেখেয়ালের বিজ্ঞাপনে সাধারণ মুসলমান, পরকালে দোযখের আগুনে প্রজ্বলিত হবার উপযুক্ত হচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্র এর অবাধ পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রযন্ত্রই যে ৯৮ ভাগ মুসলমানকে, ‘রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলাম’ উনার এদেশে প্রতি মুহূর্তে জাহান্নামী তৈরি করছে; রাষ্ট্রযন্ত্র সে দায় এড়াতে পারে কী?
রাষ্ট্রযন্ত্র ৯৮ ভাগ মুসলমানকে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে পালনের পরিবেশ বা অধিকার দিচ্ছে; সে কথা বলতে পারে কী?
এদিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকেও বর্তমানে বিজ্ঞাপনে যেভাবে মিথ্যা জরিপ, বাংলাদেশী ঐতিহ্য-অস্বীকার, বিদেশী মডেলে বিজ্ঞাপন, নীতিহীন শিক্ষা, প্রতারণামূলক চর্চা ইত্যাদির অনুশীলন করছে তাও বা রাষ্ট্রযন্ত্র কীভাবে মেনে নিচ্ছে?
পাশাপাশি বিজ্ঞাপনে যেভাবে নারীকে পণ্য হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে তাও নারীবাদীরা কিভাবে মেনে নিচ্ছে?
এছাড়াও গোপন রোগ-চিকিৎসার যে প্রকাশ্য বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে; তাতে পিতা-পুত্র বা মা-মেয়ে একসাথে রাস্তায় চলবে কীভাবে? রাষ্ট্রযন্ত্র কী আদৌ তা ভেবে দেখেছে?
বলার অপেক্ষা রাখে না, রাষ্ট্রযন্ত্র আজ নীতিহীন পুঁজিবাদীদের দখলে। সেখানে পুঁজিই বড় কথা। নীতি মূল্যহীন।
প্রসঙ্গত, একটা বিষয় স্পষ্ট যে, প্রতারণা, মিথ্যা, নারীটিজিং, সম্ভ্রমহরণ, পরকীয়া, খুন, ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি বন্ধ অথবা নারীত্ব মূল্যায়ন কিংবা বিজ্ঞাপনের সুষ্ঠু, সুস্থ ও সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন সেটা তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন তাতে সম্মানিত ইসলামী নীতিমালা সর্বাংশে প্রতিফলিত হবে। অন্য কথায়- সব অন্ধকার দূর করে আলো প্রজ্জ্বলনে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকেই প্রতিভাত করতে হবে।
মূলত, এসব দায়িত্ববোধ আসে ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত মুবারক তথা ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












