সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ: মশহুর দুইখানা হাদীছ শরীফ নিয়ে আপত্তির খন্ডন
, ০৩ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
“আল আয়িম্মাতু মিন কুরাইশ” এবং “তা‘য়াল্লামুল ফারায়িদ্বা ওয়া আল্লিমূহা ফাইন্নাহা নিছফুল ইলম” হাদীছ শরীফ দুখানা জনৈক ব্যক্তি বানোয়াট মনে করে অস্বীকার করে থাকে। এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াব কি হবে?
জাওয়াব: (১ম অংশ)
উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ দু’খানা বিশুদ্ধ এবং দলীলসমৃদ্ধ। যেমন প্রথম হাদীছ শরীফখানা উনার মূল বর্ণনাকারী হচ্ছেন হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশিষ্ট খাদিম। তিনি সুদীর্ঘ দশ বৎসর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দিয়েছেন।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت انس بن مالك رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الائمة من قريش.
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, খলীফা হবেন কুরাইশদের থেকে। (মুসনাদে আহমদ শরীফ, মুসনাদে বাজ্জার শরীফ, মুসনাদে আবু ইয়ালা শরীফ, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী শরীফ, মুসতাদরাক লিল হাকিম শরীফ, মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, সুনানে দারু কুতনী, মু’জামুল কবীর লিত তবারানী, সুনানুদ দারিমী, তারীখুল খুলাফা ইত্যাদি)
আর দ্বিতীয় হাদীছ শরীফখানা বর্ণনা করেছেন হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী অর্থাৎ রাবীগণ উনাদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه مرفوعا تعلموا الفرائض وعلموها فانها نصف العلم
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে মারফুসূত্রে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা ফারায়িয শিক্ষা করো এবং তা শিক্ষা দাও। কেননা নিশ্চয়ই তা হচ্ছে ইলমের অর্ধেক। (ইবনে মাজাহ, দারু কুতনী, হাকিম ইত্যাদি)
প্রকাশ থাকে যে, পবিত্র হাদীছ শরীফ হলো ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْـهَوٰى اِنْ هُوَ اِلَّا وَحْى يُوحٰى
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওহী মুবারক ব্যতিত নিজের থেকে কোন কথা মুবারক বলেন না।” (পবিত্র সূরা নজম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ৩, ৪)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت الـمقدام بن معديكرب رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الا انى اتيت القران ومثله معه.
অর্থ: “হযরত মিক্বদাম ইবনে মা’দী কারিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, জেনে রাখো, আমাকে পবিত্র কুরআন শরীফ দেয়া হয়েছে এবং উনার সাথে উনার অনুরূপ বিষয় অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শরীফ দেয়া হয়েছে। (আবু দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)
উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয়তম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যেসকল ওহী মুবারক নাযিল করেছেন তা দু’শ্রেণীর। এক- ওহীয়ে মাতলূ, তা হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ। দুই- ওহীয়ে গইরে মাতলূ, অর্থাৎ ওহী দ্বারা প্রাপ্ত মূল ভাবটিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বীয় ভাষা মুবারক এ প্রকাশ করেছেন, ইহাই পবিত্র হাদীছ শরীফ। ইহা ক্বিরায়াত হিসেবে পাঠের হুকুম নামাযে দেয়া হয়নি।
পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করাকে রেওয়ায়েত বলে এবং যিনি বর্ণনা করেন উনাকে রাবী বলে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার রাবী পরম্পরাকে সনদ বলে। কোন হাদীছ শরীফ উনার সনদ বর্ণনা করাকে ইসনাদ বলে। কখনো ইসনাদ ‘সনদ’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সনদ বর্ণনা করার পর যে মূল হাদীছ শরীফ বর্ণনা করা হয়, উনাকে মতন বলে।
আরো উল্লেখ্য, পবিত্র হাদীছ শরীফ প্রথমত তিন প্রকারের। ক্বওলী, ফে’লী ও তাকরীরী। কথা জাতীয় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে ক্বওলী, কার্যবিবরণ সম্বলিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে ফে’লী এবং সম্মতিসূচক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে তাকরীরী হাদীছ শরীফ বলে।
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ থেকে সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বিদা (২)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বিদা
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৫)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৩)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (২)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (১)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












