সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ: বাইয়াতের প্রকারভেদ ও বাইয়াত হওয়ার পন্থা-পদ্ধতি
, ৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
বাইয়াতের প্রকার এবং খাছ সুন্নতী তরতীবে পুরুষ ও মহিলাদের বাইয়াত হওয়ার পদ্ধতি কি?
জাওয়াব: (১ম অংশ)
হিজরী দ্বাদশ শতাব্দীর মহান মুজাদ্দিদ, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, তাজুল মুফাসসিরীন, ফখরুল ফুক্বাহা, হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘আল কাওলুল জামীল’ কিতাবে পাঁচ ধরণের বাইয়াতের কথা উল্লেখ করেন-
مِنْهَا بَيْعَةُ الْـخِلَافَةِ وَمِنْهَا بَيْعَةُ الْاِسْلَامِ وَمِنْهَا بَيْعَةُ التَّمَسُّكِ بِـحَبْلِ التَّقْوٰى وَمِنْهَا بَيْعَةُ الْـهِجْرَةِ وَالْـجِهَادِ وَمِنْهَا بَيْعَةُ التَّوَثُّقِ فِـى الْـجِهَادِ
১. খিলাফতের বাইয়াত। ২. বাইয়াতে ইসলাম। ৩. বাইয়াতে তাকওয়া: তাকওয়া অবলম্বনে দৃঢ় থাকার বাইয়াত। যাকে বাইয়াতে তাছাউফও বলা হয়। ৪. বাইয়াতে হিজরত ও জিহাদ। ৫. জিহাদের ময়দানে অটল থাকার বাইয়াত।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যুগে যে বাইয়াত ছিলো তা হচ্ছে বাইয়াতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। খিলাফতের যুগে ছিলো বাইয়াতে খিলাফত। খিলাফতের পর যে বাইয়াত চলমান তা হচ্ছে বাইয়াতে তাকওয়া।
প্রত্যেক প্রকার বাইয়াত গ্রহণই ফরয। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণে হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা বাইয়াত করিয়েছেন এবং পরবর্তীতে হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বাইয়াত করিয়ে যাচ্ছেন। লোকজন কম হলে সরাসরি হাতে হাত রেখে বাইয়াত করানো সহজ ও সম্ভব হয়। কিন্তু লোকজন বেশি হলে সেক্ষেত্রে পাগড়ী বা রুমাল ধরিয়ে এবং পেছনের লোকজনকে গায়ে গায়ে হাত রেখে বাইয়াত করানো হয়ে থাকে। এ পদ্ধতির বাইয়াতও হাতে হাত রেখে বাইয়াত হওয়ার অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া দূর থেকে শুনে শুনেও বাইয়াত হওয়া যায়।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلشَّيْخُ فِـى اَهْلِهٖ كَالنَّبِىِّ فِـىْ اُمَّتِهٖ وَفِـى رِوَايَةٍ اَلشَّيْخُ لِقَوْمِهٖ كَالنَّبِىِّ فِـىْ اُمَّتِهٖ
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা উম্মতের নিকট যেরূপ মহাসম্মানিত ও অনুসরণীয়, সম্মানিত শায়েখ বা হযরত মুর্শিদ কিবলা তিনিও উনার (সম্প্রদায়ের লোকজন বা মুরীদদের) অধীনস্তদের নিকট তদ্রুপ সম্মানিত ও অনুসরণীয়।” (দায়লামী শরীফ, মাকতুবাত শরীফ, জামিউল জাওয়ামি’, আল মাকাছিদুল হাসানাহ, তানযীহুশ শরীয়াহ, আল মীযান, আল জামিউছ ছগীর, আদ দুরারুল মুনতাশিরাহ ইত্যাদি)
বাইয়াত হওয়ার সুন্নতী তরতীব:
পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে দেখা যায়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং পরবর্তী তাবেয়ীন, সালফে ছালেহীন, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনারা তিন পদ্ধতিতে বাইয়াত করাতেন। (১) হাতের উপর হাত রেখে (২) শুধুমাত্র কথার মাধ্যমে, (৩) চিঠি পত্রের মাধ্যমে।
প্রথম পদ্ধতি: হাতে হাত রেখে বা পাগড়ী ধরিয়ে বাইয়াত: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুল মাগফিরাহ মুবারক তথা পবিত্র হাত মুবারকে হাত রেখে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বাইয়াত হতেন।
কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণে এবং উনার তরফ থেকে খিলাফতপ্রাপ্ত হয়েই একই পদ্ধতিতে বাইয়াত করে থাকেন। এ বিষয়ে খালিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ الَّذِيْنَ يُبَايِعُوْنَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُوْنَ اللهَ يَدُ اللهِ فَوْقَ أَيْدِيْهِمْ ۚ فَمَنْ نَّكَثَ فَإِنَّـمَا يَنْكُثُ عَلٰى نَفْسِهٖ ۖ وَمَنْ أَوْفٰى بِـمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللهَ فَسَيُؤْتِيْهِ أَجْرًا عَظِيْمًا
অর্থ: আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যারা আপনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করছে, তারা তো মহান আল্লাহ পাক উনার কাছেই বাইয়াত গ্রহণ করছে। মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতময় হাত মুবারক তাদের হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে বাইয়াত (উনার শর্ত) ভঙ্গ করে অবশ্যই সে তার নিজের ক্ষতিই করে এবং যে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে মহান আল্লাহ পাক তিনি অতিসত্ত্বর উনাকে মহাপুরস্কার দান করবেন।” (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ- ১০)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ: মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার শরয়ী হুকুম
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রসঙ্গ: মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার শরয়ী হুকুম
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (১১)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার শরয়ী হুকুম
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (১০)
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ দ্বীন ইসলামে দিবস পালন করা শরীয়তসম্মত (৩)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৯)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ দ্বীন ইসলামে দিবস পালন করা শরীয়তসম্মত (২)
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৮)
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ দ্বীন ইসলামে দিবস পালন করা শরীয়তসম্মত (১)
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৭)
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৬)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












