সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (৩)
, ১৫ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৪ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২১ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
গান-বাজনা করা কি? কেউ কেউ বলে থাকে, “ইসলামী গান”যেমন- নবীতত্ত্ব, মুর্শীদি, জারী ইত্যাদি জায়িয। কারণ হিসেবে তারা বলে, হযরত সুলত্বানুল হিন্দ খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নাকি গান-বাজনা করেছেন। তারা আরো বলে থাকে যে, বুখারী শরীফ- এর ২য় খ-ের ২২৫ পৃষ্ঠায় এবং ৫ম খ-ের ৫৫৫ পৃষ্ঠায় নাকি “গান-বাজনা”জায়িয বলে লেখা আছে।
এখন আমার সুওয়াল হচ্ছে- “গান-বাজনা”সম্পর্কে সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়সালা কি? সত্যিই কি হযরত সুলত্বানুল হিন্দ খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “গান-বাজনা”করেছেন? আর বুখারী শরীফ কিতাবের মধ্যে “গান-বাজনা”জায়িয লেখা আছে কি? পবিত্র কুরআন শরীফ এবং সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে জাওয়াব দানে বাধিত করবেন।
জাওয়াব (৩য় অংশ):
অতঃপর যারা বলে যে, হযরত সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গান-বাজনা করেছেন, এটা উনার প্রতি চরম মিথ্যা তোহমতের শামিল। কারণ তিনি ছিলেন মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী অর্থাৎ হাবীবুল্লাহ। যিনি সারা জীবন সুন্নত মুবারকের পরিপূর্ণ অনুসরণ-অনুকরণ করেছেন। উনার পক্ষে কি করে হারাম গান-বাজনা করা সম্ভব? বাতিলপন্থী বা বেদাতীরা এ ব্যাপারে একটি দলীলও দেখাতে পারবে না।
মূলতঃ হযরত সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সামা পাঠ করেছেন। আর এটাকেই বেদাতী, ভন্ড ফক্বীরেরা গান-বাজনা বলে প্রচার করছে। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ গান-বাজনা’র সাথে সামা’র বিন্দুমাত্রও সম্পর্ক নেই।
এ প্রসঙ্গে “ফাওয়ায়েদুল ফুওয়াদ”নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, একদা দিল্লীর ৫০০ আলিমের সাথে হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বাহাছ হয়। কারণ দিল্লীর কিছু বেদাতী আলিম অপবাদ দিয়েছিল যে, হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গান-বাজনা করেন। নাঊযুবিল্লাহ! বাহাছে যখন এ প্রশ্ন উত্থাপন করা হলো তখন হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি কস্মিনকালেও গান-বাজনা করি না। বরং আমি সামা করি। আর আমার সামা পাঠের শর্ত হচ্ছে- (১) সেখানে কোন বাদ্য-যন্ত্র থাকবে না, (২) কোন মহিলা থাকবে না, (৩) কোন নাবালেগ দাড়ীবিহীন বালক থাকবে না, (৪) যে ছন্দগুলো পাঠ করা হবে তা শরীয়ত সম্মত হতে হবে, (৫) পঠিত ছন্দগুলি মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব, মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে আকৃষ্টকারী হতে হবে, (৬) আর যারা শুনবেন উনাদের সকলকে বুযুর্গ, পরহেজগার ও আল্লাহওয়ালা হতে হবে।
যখন হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ কথা বললেন, তখন দিল্লীর উক্ত আলেমরা উনাকে হক্ব বলে মেনে নিলেন এবং নিজ ভুলের জন্য লজ্জিত হলেন। কাজেই পূর্ববর্তী হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা যে সামা পাঠ করেছেন তা এরূপই ছিল। সেই সামা’র সাথে বর্তমানে প্রচলিত জারী বা কাওয়ালীকে তুলনা করা কুফরী ছাড়া কিছু নয়।
প্রতিভাত যে, হযরত সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, খাজা, হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি তিনি জীবনে কখনোই গান-বাজনা করেননি। এ ব্যাপারে উনার নামে যারা মিথ্যা তোহমত দেয় তারা চরম ফাসিক এবং কবীরা ও কুফরী গুণাহে গুণাহ্গার। নাঊযুবিল্লাহ!
এরপর যারা বলে যে, বুখারী শরীফ কিতাবের মধ্যে গান-বাজনা জায়িয লেখা আছে, তারা চরম জাহিল, মিথ্যাবাদী ও বেদাতী। আর জাহিল বলেই বুখারী শরীফ কিতাবের ৫ম খ- দলীল হিসেবে উল্লেখ করেছে। অথচ মূল বুখারী শরীফ কিতাবের ৫ম খ-ই নেই। তাদেরকে শুধু এতটুকু বলবেন যে, বুখারী শরীফ কিতাবে যেখানে গান-বাজনা জায়িয বলা হয়েছে সেই অংশটুকু বাংলায় অনুবাদ করে দাও। তবেই তাদের মিথ্যা দলীলের হাক্বীক্বত প্রকাশ পেয়ে যাবে।
মূলতঃ বুখারী শরীফ কিতাবের মধ্যে কোথাও যদি গান-বাজনা জায়িয লেখা থাকতো তাহলে হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার “আদাবুল মুফরাদ”কিতাবে গান-বাজনা হারাম বললেন কেন? কাজেই যারা এ ব্যাপারে বুখারী শরীফ কিতাবের দলীল দেয়, তারা চরম জাহিল, মিথ্যাবাদী, বেদাতী ও প্রতারক।
মূল কথা হচ্ছে, সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সর্বপ্রকার গান-বাজনা হারাম। এটাকে হালাল বলা কুফরী। হযরত সুলত্বানুল হিন্দ গরীবে নেওয়াজ হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জীবনে কখনো গান-বাজনা করেননি। আর বুখারী শরীফ কিতাবের কোথাও গান-বাজনা জায়িয বলা হয়নি।
দলীলসমূহ: তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে আহ্কামুল কুরআন, তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে মাযহারী, তাফসীরে দুররে মানছূর, তাফসীরে মাদারিক, তাফসীরে মায়ালিম, তাফসীরে রূহুল মায়ানী, তাফসীরে রূহুল বয়ান, তাফসীরে কবীর, তাফসীরে আবী সাউদ, তাফসীরে যাদুল মাছীর, তাফসীরে জালালাইন, বায়হাক্বী শরীফ, দায়লামী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, ফাতহুল বারী শরহে বুখারী, উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী, ইরশাদুস্ সারী শরহে বুখারী, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, শরহুত ত্বীবী, তা’লীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, ফতওয়ায়ে আলমগীরী, খুলাছাতুল ফতওয়া, জামিউল ফতওয়া, মুহীত, মুগনী, হিদায়া, তাতারখানিয়া, ফতহুল ক্বাদীর, ফতওয়ায়ে আযীযী ইত্যাদি। (সমাপ্ত)
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ থেকে সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ: মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার শরয়ী হুকুম
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রসঙ্গ: মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার শরয়ী হুকুম
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (১১)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার শরয়ী হুকুম
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (১০)
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ দ্বীন ইসলামে দিবস পালন করা শরীয়তসম্মত (৩)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৯)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ দ্বীন ইসলামে দিবস পালন করা শরীয়তসম্মত (২)
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৮)
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ দ্বীন ইসলামে দিবস পালন করা শরীয়তসম্মত (১)
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৭)
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৬)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












