সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
পবিত্র রমাদ্বান শরীফের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল ‘ছলাতুত তারাবীহ’ আদায়। এই নামায নিয়ে সমাজে ব্যাপক ইখতিলাফ দেখা যায়, অনেক নামধারী মালানা-মুফতী সাহেবরা তারাবীহ নামায ৮ রাকায়াত অথবা ১২ রাকায়াত বলে থাকে। আবার অনেক মসজিদে ৮ রাকায়াত বা ১২ রাকায়াত তারাবীহ আদায়ও করে।
সুওয়াল হলো- ছলাতুত তারাবীহ সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল ও তারাবীহ নামায কত রাকায়াত এই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।
জাওয়াব: (১ম অংশ)
পবিত্র ছলাতুত তারাবীহ উনার আহকাম:
‘তারাবীহ’ শব্দটি বহুবচন। একবচনে ‘তারবীহাতুন’। এর অর্থ হচ্ছে বিশ্রাম নেয়া বা আরাম করা। পাঁচ তারবীহাতুন মিলে এক তারাবীহ। অর্থাৎ, চার রাকায়াত পর পর বসে দোয়া, দরূদ ও তাসবীহ পাঠের মাধ্যমে বিশ্রাম নিয়ে বিশ রাকায়াত নামায আদায় করা হয় বলে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘তারাবীহ’।
মাসয়ালা:
তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াত। পুরুষ-মহিলা প্রত্যেকের জন্যই এ নামায সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। বিশ রাকায়াত থেকে কেউ যদি এক রাকায়াতও কম পড়ে তাহলে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ তরক করার কারণে ওয়াজিব তরকের গুনাহে গুনাহগার হবে। তবে পুরুষের জন্য তারাবীহ নামায উনার জামায়াত হচ্ছে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ কিফায়া। অর্থাৎ কিছু লোক জামায়াতে আদায় করলেই সকলের সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ আদায় হয়ে যাবে।
তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াত পড়ার দলীল:
আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের ফতওয়া মুতাবিক- তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াত পড়াই সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। অতএব, কেউ যদি বিশ রাকায়াত থেকে এক রাকায়াতও কম পড়ে, তবে তার সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ তরক করার গুনাহ হবে। অর্থাৎ তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াতই পড়তে হবে। এর উপরই ইজমা হয়েছে।
যারা তারাবীহ নামায ৮ রাকায়াত বলে থাকে, তারা বুখারী শরীফ-এ বর্ণিত “তাবিয়ী হযরত আবূ সালমাহ্ ইবনে আব্দুর রহ্মান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা দলীলস্বরূপ পেশ করে থাকে। যাতে বর্ণিত আছে যে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْـمَنِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّهُ اَخْبَرَهُ اَنَّهُ سَاَلَ اُمّ الْمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ الصّـدّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامَ كَيْفَ كَانَتْ صَلَاةُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزِيْدُ فِىْ رَمَضَانَ وَلَا فِىْ غَيْرِهِ عَلَى اِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلّى اَرْبَعًا.
অর্থ: “তাবিয়ী হযরত আবূ সালমাহ্ ইবনে আব্দুর রহ্মান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে কত রাকায়াত নামায পড়তেন? তখন উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে ও পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস ব্যতীত অন্য মাসে এগারো রাকায়াতের অধিক নামায পড়তেন না। আর তিনি তা চার, চার রাকায়াত করে পড়তেন।” (বুখারী শরীফ: কিতাবুত তারাউয়ীহ: বাবু ফাদ্বলি মান ক্বামা রমাদ্বান: হাদীছ শরীফ নং ২০১৩)
মূলত এ পবিত্র হাদীছ শরীফ হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাযের বর্ণনা, তারাবীহ নামাযের বর্ণনা নয়। কারণ তারাবীহ নামায শুধুমাত্র পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার জন্যই নির্দিষ্ট। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ ব্যতীত অন্যান্য মাসে তারাবীহ নামায নেই। আর তাহাজ্জুদের নামায সারা বছরই পড়তে হয়।
অতএব, “তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াত”- এ ব্যাপারে বহু ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে।
যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم كان يصلى فى رمضان عشرين ركعة سوى الوتر.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়তেন বিতর নামায ব্যতীত।” অর্থাৎ তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াত এবং বিতর তিন রাকায়াত। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা) (অসমাপ্ত)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত জরুরী সুওয়াল-জাওয়াব
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (৩)
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (২)
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (১)
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মসজিদের ভিতরে চেয়ার স্থাপন নব্য বিদয়াত
৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মসজিদের ভিতরে চেয়ার স্থাপন নব্য বিদয়াত
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ বা শায়েখ উনার নিকট বাইয়াত হওয়ার সম্পর্কে
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মসজিদের ভিতরে চেয়ার স্থাপন নব্য বিদয়াত
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












