প্রসঙ্গ: কুড়িগ্রামে গরু জবাই:
, ১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আপনাদের মতামত
মুসলমানগণ নিজেদের অধিকার হতে আর কতদিন নিজেরা বঞ্চিত হবেন?
বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ^রী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে যা ঘটেছে, তা কেবল একটি স্থানীয় ঘটনা নয় - এটি একটি জাতীয় প্রশ্ন, একটি সাংবিধানিক সংকট এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকারের উপর এক ন্যাক্কারজনক আঘাত।
২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ডাকনীরপাঠ এলাকায় মুসলমানের সংখ্যা ২৬৪১ জন, অর্থাৎ প্রায় ৯৭ শতাংশেরও বেশি। সেখানে হিন্দু জনসংখ্যা মাত্র ৭৫ জন, অর্থাৎ ২.৭৬ শতাংশ। অথচ এই বিশাল মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায়, মুসলমানদের নিজের মালিকানাধীন জমিতে, নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ডাকনীরপাঠ বাজার মার্কেটে গরুর গোশত বিক্রি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে বিএনপিকে ব্যবহার করে- ইসকন ও স্থানীয় হিন্দু গোষ্ঠীর চাপে।
প্রশ্ন হলো- এই নিষেধাজ্ঞার আইনগত ভিত্তি কোথায়? কোনো আদালত এই নির্দেশ দেয়নি, কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। কোন আদালতের এখতিয়ারও নেই মুসলামান উনাদের দ্বীনি অধিকার হরণের।
তাহলে কোন অধিকারে মুসলমানের নিজের মার্কেটে তার দ্বীনি ও সাংস্কৃতিক অধিকার হরণ করা হলো?
যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, মাত্র এক কিলোমিটার দূরে একটি ইসকন মন্দির রয়েছে। কিন্তু এই যুক্তি কি গ্রহণযোগ্য? একটি মন্দিরের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধে গরুর গোশত নিষিদ্ধ করার অদ্ভুত নজির কোন আইনে স্বীকৃত?
আরও উদ্বেগজনক হলো রাজনৈতিক মাত্রাটি। বিএনপি- যে দলটি নিজেকে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে দাবি করে- সেই দলের স্থানীয় নেতারা কীভাবে মুশরিকদের চাপে সংখ্যাগরিষ্ঠের বিরুদ্ধে দাঁড়াল? এটি কি নেতৃত্বের দেউলিয়াত্ব, নাকি সুবিধাবাদী রাজনীতির নগ্ন প্রকাশ?
৬০ জন সংখ্যালঘু যখন হাজার হাজার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অধিকার দমন করে- তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো মেরুদ- হারিয়েছে। এটি সম্প্রীতি নয়, এটি নির্লজ্জ আত্মসমর্পণ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মানে কারো অধিকার বিসর্জন নয়। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠের ন্যায্য অধিকার যখন রাজনৈতিক কৌশলে বলি দেওয়া হয়, তখন চুপ থাকাটাই হয় সবচেয়ে বড় অপরাধ। প্রশাসনকে এখনই হস্তক্ষেপ করতে হবে। এই বেআইনি নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। দোষী ব্যাক্তিদেরকে দ্বীনদ্রোহীতার কারণে শরয়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী জামাতীরা কী মনে করে? বেহেশতে- যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দুনিয়াতেই হারাম মদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত! নাউযুবিল্লাহ। বিএনপির ভাষায় জামাত মুনাফেক। জাহান্নামের নি¤œস্তরের বাসিন্দা মুনাফিকরা- ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা যে সত্যিই বড় মুনাফেক, তাই প্রমাণ করছে। মাতালদের পক্ষেই সম্ভব ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বেচা।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রির আগে যে কাজ না করলে বিপদ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পেগাসাসের জাল বিস্তার বাংলাদেশেও। সবাই সাবধান।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষের বাহিনী ও ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রের মহাপ্রস্তুতি (পর্ব-৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিজিবির দায়িত্ব সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক আইনের বিজয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাতক্ষীরায় মসজিদ ভাঙার ধৃষ্টতা এবং আইনের শাসনের জরুরি প্রয়োজনীয়তা
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বঙ্গোপসাগরে সাম্রাজ্যবাদী নব্য-ক্রুসেডারদের সামরিক আগ্রাসনের এক পৈশাচিক ফাঁদ
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৭)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












