নারিকেল গাছই ‘শেষ ভরসা’ বিলুপ্তপ্রায় বাবুই পাখির
, ২৩ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ মে, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আপনাদের মতামত
দেশের আবহমান বাংলার গ্রামে-গঞ্জে এক সময় উঁচু তালগাছে বাবুই পাখিদের দৃষ্টিনন্দন বাসা প্রচুর পরিমাণে দেখা যেত। কালের বিবর্তনে, পরিবেশের বিপর্যয়ে এবং তালগাছ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় বর্তমান সময়ে তাদের শৈল্পিক বাসা হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন আর গ্রামেগঞ্জে খুব একটা শোনা যায় না বাবুই পাখিদের কলরব আর কিচির-মিচির শব্দ।
সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারেও ক্রমশ কমছে তালগাছের সংখ্যা, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে কমছে বাবুই পাখি ও তাদের শৈল্পিক বাসা। তবে এখনও যে পরিমাণ বাবুই পাখি এ জেলায় টিকে রয়েছে সে তুলনায় তালগাছ আর অবশিষ্ট নেই। ফলে তালগাছের সঙ্কটে জেলার বিভিন্ন স্থানে বাবুই পাখিরা সংসার পেতেছে নারিকেল গাছে।
জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৮ নম্বর কালিঘাট ইউনিয়নের ভাড়াউড়া চা বাগানে এবং রাজনগর উপজেলার ২ নম্বর উত্তরভাগ ইউনিয়নের হলদিগুল গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে নারিকেল গাছে অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা। এ দুটি স্থানসহ অপরাপর স্থানে নারিকেল গাছে বাবুই পাখিদের বাসা দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন মানুষজন।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ আলী বলেন, “তালগাছ হলো বাবুই পাখিদের আশ্রয়স্থল। তালগাছেই সাধারণত তারা বাসা বাধে, সংসার পাতে। দেশে আগের মতো আর তালগাছ দেখা যায় না, দেখা যায় না বাবুই পাখিও। তবে বর্তমান সময়ে তালগাছের সঙ্কটে বাবুই পাখিরা বাসা তৈরির জন্য বেছে নিয়েছে নারিকেল গাছ।”
বন কর্মকর্তা ও গবেষকরা জানান, আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে বাবুই পাখি বাউই পাখি নামে অধিক পরিচিত। এদেশে তিন ধরণের বাবুই পাখি দেখা যায়। এগুলো হলো দেশি বাবুই, দাগি বাবুই ও বাংলা বাবুই। বাবুই পাখি দেখতে যেমন আকর্ষনীয় তেমনি তাদের তৈরিকৃত বাসার আকার-আকৃতিও বেশ দৃষ্টিনন্দন। তারা খড়, গাছের কচিপাতা, লতাপাতা ইত্যাদি দিয়ে অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে বাসা তৈরি করে। শৈল্পিক বাসা তৈরি করে বলে বাবুই পাখিকে প্রকৃতির ইঞ্জিনিয়ারও বলা হয়।
অত্যন্ত পরিশ্রমি পাখি বাবুই দলবদ্ধ আর কলোনী করে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত। বাবুই পাখিদের তৈরিকৃত বাসাগুলো দেখতে অনেকটা উল্টানো কলসির মতো। তাদের শিল্পচিন্তা অত্যন্ত নিপুণ। এরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের বীজ, ধান, কচিপাতা, পোকা ও ফুলের মধু খেয়ে থাকে। মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এদের প্রজননকাল। স্ত্রী বাবুই পাখি দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। প্রায় দুই সপ্তাহে সেই ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। এক মাসের মধ্যেই বাবুই পাখির ছানা একা একা উড়তে পারে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আপনার সন্তানের কারণে আপনাকে যেন জাহান্নামে যেতে না হয়...
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তিতে দেশের স্বার্থ যেভাবে বিকিয়ে দেয়া হয়েছে (২)
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তিতে দেশের স্বার্থ যেভাবে বিকিয়ে দেয়া হয়েছে (১)
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের কৃষিতে সাদা মাছির আক্রমণ: উদ্বেগ ও প্রতিকার (১)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পথশিশুদের স্থায়ী পুনর্বাসনে চাই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মাটির হনন ও খাদ্য-সার্বভৌমত্বের সংকট: বিষচক্র থেকে ফেরার ডাক
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
জাহান্নাম সম্পর্কে সবারই চিন্তা-ফিকির করা উচিত
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অন্যান্য দেশে উড়াল সেতু ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে; আর বাংলাদেশ সরকার ফ্লাইওভার তৈরি করছে
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উশর কি? পবিত্র দ্বীন ইসলামে উনার গুরুত্ব
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিজ্ঞাপন
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শিক্ষানীতির পরিবর্তন ছাড়া মুসলমানদের অধিকার কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হে উন্মাদের দলেরা! খেলাচ্ছ্বলে তোমরা কাদেরকে সমর্থন দিচ্ছো ও মহব্বত করছো দেখে নাও; তোমাদের হাশর নশর কাদের সাথে হতে যাচ্ছে তাও বুঝে নাও!
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












