জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে দ্বীনি অধিকারে হস্তক্ষেপ: অর্ধেক বেলা মসজিদ বন্ধ রাখা অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য
, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আপনাদের মতামত
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ হলো তার শিক্ষার্থীরা, আর সেই শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের আত্মিক ও দ্বীনি প্রশান্তির কেন্দ্রস্থল হলো প্রতিষ্ঠানের মসজিদ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অর্ধেক বেলা তালাবদ্ধ রাখার এক অদ্ভুত ও বৈষম্যমূলক নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্বীনি আবেগেই আঘাত হানেনি, বরং এটি একজন মুমিনের ইবাদতের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
মসজিদ কেবল নামাজের স্থান নয়; এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পবিত্র আশ্রয়স্থল, যেখানে যোহরের পর থেকে আসর বা মাগরিব পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, জিকির-আজকার কিংবা নিরিবিলিতে দ্বীনি আলোচনায় মগ্ন থাকতে চান। বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ এবং ক্যাম্পাস সংকুচিত প্রতিষ্ঠানে, যেখানে শিক্ষার্থীদের বসার বা বিশ্রামের পর্যাপ্ত জায়গা নেই, সেখানে নামাজের পর মসজিদের দুয়ার বন্ধ করে দেওয়া অত্যন্ত অমানবিক।
প্রশাসন নিরাপত্তার অজুহাত কিংবা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কোনো যুক্তিই মসজিদ বন্ধ রাখার জন্য যথেষ্ট হতে পারে না। যদি নিরাপত্তার সংকট থাকে, তবে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বাড়ানো হোক। যদি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রশ্ন আসে, তবে অপ্রয়োজনীয় ফ্যান বা লাইট বন্ধ রাখার সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে। কিন্তু তার বদলে মহান আল্লাহ পাক উনার ঘরকে দিনের বড় একটি সময় তালাবদ্ধ করে রাখা কোনোভাবেই ইনসাফ কায়েমের পরিচায়ক নয়।
ছাত্র-শ্রমিক-জনতার যে বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখছি, সেখানে একটি পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে নামাজের জন্য শিক্ষার্থীদের হাহাকার করতে হবে-এটা মেনে নেওয়া যায় না। বিশ^বিদ্যালয়ের কাজ শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা উন্মুক্ত করা, বাধা সৃষ্টি করা নয়।
আমরা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, মসজিদ 'অর্ধেক বেলা' বন্ধ রাখার এই নিয়ম অবিলম্বে বাতিল করুন। ফজরের ওয়াক্ত থেকে শুরু করে এশা ও তাহাজ্জুদ পর্যন্ত মসজিদের দুয়ার সর্বস্তরের ইবাদতকারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখুন। মনে রাখতে হবে, জ্ঞানার্জনের জায়গায় যদি মহান রব্ব উনার সান্নিধ্য লাভের পথে বাধা দেওয়া হয়, তবে সেই শিক্ষা কখনো পূর্ণতা পায় না। জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, মসজিদ কখনো বন্ধ করবে না- এটাই শরীয়ত উনার হুকুম।
ইনসাফ কায়েম হোক, ইবাদতের অধিকার মুক্তি পাক।
-মুহম্মদ কুররাতুল আইন হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তিতে দেশের স্বার্থ যেভাবে বিকিয়ে দেয়া হয়েছে (২)
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তিতে দেশের স্বার্থ যেভাবে বিকিয়ে দেয়া হয়েছে (১)
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের কৃষিতে সাদা মাছির আক্রমণ: উদ্বেগ ও প্রতিকার (১)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পথশিশুদের স্থায়ী পুনর্বাসনে চাই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মাটির হনন ও খাদ্য-সার্বভৌমত্বের সংকট: বিষচক্র থেকে ফেরার ডাক
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
জাহান্নাম সম্পর্কে সবারই চিন্তা-ফিকির করা উচিত
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অন্যান্য দেশে উড়াল সেতু ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে; আর বাংলাদেশ সরকার ফ্লাইওভার তৈরি করছে
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উশর কি? পবিত্র দ্বীন ইসলামে উনার গুরুত্ব
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিজ্ঞাপন
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শিক্ষানীতির পরিবর্তন ছাড়া মুসলমানদের অধিকার কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হে উন্মাদের দলেরা! খেলাচ্ছ্বলে তোমরা কাদেরকে সমর্থন দিচ্ছো ও মহব্বত করছো দেখে নাও; তোমাদের হাশর নশর কাদের সাথে হতে যাচ্ছে তাও বুঝে নাও!
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশ সরকারের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪’- এ গরু-ছাগল-মহিষের গোশত আমদানি নিষিদ্ধ। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জানে না, অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানে না- অথচ ভারত সরকারী-বেসরকারীভাবে জানে- ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












