বাগেরহাটে নওমুসলিম সোহাগের শাহাদাত এবং আমাদের বিবেকহীন নীরবতা
, ০৪ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৩ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১০ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আপনাদের মতামত
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে নওমুসলিম সোহাগের নিথর দেহটি আজ আমাদের সমাজের বুক চিরে কিছু রূঢ় প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে। বিশ বছর আগে যে মানুষটি সত্যের আলো চিনে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, দুই দশক পর সেই ‘অপরাধের’ প্রতিশোধ নিতে মায়ের মমতাকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হলো-এ লজ্জা আমরা রাখব কোথায়?
তথ্যচিত্রে দেখা গিয়েছে, অসুস্থ মায়ের দোহাই দিয়ে সন্তানকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। অথচ সেই মা আজ নির্বিকার, তার চোখে অশ্রু নেই। যে সন্তান সুস্থ অবস্থায় মায়ের মুখ দেখতে গেল, কয়েক ঘণ্টা পর তার নিথর দেহে মিলল অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। কেন এই নির্মমতা? কেন তড়িঘড়ি করে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই তাকে শ্মশানের চিতায় পুড়িয়ে প্রমাণ মুছে ফেলার এই পৈশাচিক ব্যস্ততা? যদি তার মাদ্রাসা পড়–য়া কিশোর সন্তান আর স্ত্রী বুক চিতিয়ে না দাঁড়াতেন, তবে হয়তো ইসলামের জন্য জীবন দেওয়া এই মানুষটির শেষ চিহ্নটুকুও ছাই হয়ে বাতাসে মিশে যেত।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো প্রশাসনের নির্লিপ্ততা। একজন নাগরিককে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠছে, স্বজনরা আহাজারি করছে, অথচ পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে-এ দৃশ্য কোন বাংলাদেশের? অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘাপটি মেরে থাকা মুশরিকদের মদদেই আজ নওমুসলিমরা নিজ দেশে পরবাসী। দুই শতাধিক উগ্রবাদী সংগঠনের সক্রিয়তার খবর যদি সত্য হয়, তবে বুঝতে হবে এ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেয়াল আজ কেবল লোকদেখানো খোলস মাত্র।
সোহাগ জীবন দিয়েছেন, কিন্তু নিজের বিশ^াস থেকে এক চুল বিচ্যুত হননি। এটি কেবল একটি হত্যা নয়, বরং এটি এ দেশের শান্তিপ্রিয় মুসলিম জনপদকে এক নীরব যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া। নওমুসলিমদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা মুসলমানরা আজ কতটা সচেতন? আমাদের ভাইদের যখন পিটিয়ে মারা হচ্ছে, তখন আমাদের প্রতিবাদী কণ্ঠ কি বোব হয়ে থাকবে?
বিচার বিভাগ ও উর্ধ্বতন প্রশাসনের কাছে দাবি, এই হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন। রাষ্ট্রের উদাসীনতা অপরাধীদের সাহস বাড়িয়ে দিচ্ছে। মনে রাখবেন, বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি যদি বজায় থাকে, তবে আজ সোহাগের রক্ত ঝরছে, কাল হয়তো পুরো সমাজ এই আগুনের লেলিহান শিখায় ভস্মীভূত হবে।
এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, দেশের প্রশাসন কত অথর্ব ও অযোগ্য।
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রির আগে যে কাজ না করলে বিপদ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পেগাসাসের জাল বিস্তার বাংলাদেশেও। সবাই সাবধান।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষের বাহিনী ও ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রের মহাপ্রস্তুতি (পর্ব-৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিজিবির দায়িত্ব সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক আইনের বিজয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাতক্ষীরায় মসজিদ ভাঙার ধৃষ্টতা এবং আইনের শাসনের জরুরি প্রয়োজনীয়তা
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বঙ্গোপসাগরে সাম্রাজ্যবাদী নব্য-ক্রুসেডারদের সামরিক আগ্রাসনের এক পৈশাচিক ফাঁদ
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৭)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের কৌশলগত নিরপেক্ষতার সামনে নতুন ভূরাজনৈতিক ফিৎনা
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করতে হবে
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
৫১ কোটির জনসংখ্যার জন্য ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনী প্রয়োজন সাইবর্গ পদাতিক: এক্সোস্কেলিটন প্রযুক্তিতে মুসলিম বিশে^র যুগলবন্দি (পর্ব-২)
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৫১ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ৫০ লক্ষাধিক নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত অপরিহার্যতা ও সামরিক রূপরেখা (পর্ব-১)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












