ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫৩)
, ৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ফতওয়া বিভাগ
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনারوَكَذلِكَ جَعَلْنَاكُمْ اُمَّةً وَّسَطًا ‘অনুরূপ আমি তোমাদেরকে সত্যপরায়ণ উম্মত হিসেবে স্থির করেছি’ অংশ দ্বারা পবিত্র ইজমাউল্ উম্মাহ শরীফ ও ছহীহ কিয়াস শরীফ যে ইসলামী শরীয়ত উনার অকাট্য দলীল তা প্রমাণ করা হয়েছে। পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ কিয়াস শরীফ হযরত ইমাম-মুজতাহিদ উনাদের গবেষণার ফল-ফসল। তাই এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে তাকলীদ বা অনুসরণ করতে নির্দেশ করা হয়েছে।
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ:
(৩৪২)
واستدل الشيخ ابو منصور رحمه الله بالآية على أن الإجماع حجة لأن الله تعالى وصف هذه الأمة بالعدالة، والعدل هو المستحق للشهادة وقبولها فإذا اجتمعوا على شيء وشهدوا به لزم قبوله.
অর্থ: হযরত শায়েখ আবূ মানছূর মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ভিত্তিতে প্রমান করেছেন যে, নিশ্চয়ই উম্মতের ইমাম-মুজতাহিদ উনাদের ইজমা’ শরীফ (অর্থাৎ কোন বিষয়ে ঐক্যমত) অকাট্য দলীল। কেননা, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে এই উম্মতের ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম তথা উলামায়ে কিরাম উনাদের আদালত বা সত্যপরায়ণতার প্রশংসা করেছেন। সত্যপরায়ণতাই স্বাক্ষ্য প্রদানের জন্য এবং তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য উপযুক্ত। সুতরাং যখন কোন ইমাম-মুজতাহিদ কোন বিষয়ে ইজমা’ করেন তখন তা গ্রহণ সাপেক্ষে মান্য করা লাজিম বা ওয়াজিব। (মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাকায়িকুত তা’বীল অর্থাৎ তাফসীরুন নাসাফী সূরা বাকারা: আয়াত শরীফ: ১৪৩, লেখক: আল্লামা আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মাহমূদ নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৭১০ হিজরী)
(৩৪৩)
وشاع عن ابى منصور الاستدلال بالآية- على أن الإجماع حجة.
অর্থ: হযরত শায়েখ আবূ মানছূর মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ভিত্তিতে বলেছেন যে, নিশ্চয়ই উম্মতের ইমাম-মুজতাহিদ উনাদের ইজমা’ শরীফ (অর্থাৎ কোন বিষয়ে ঐক্যমত) অকাট্য দলীল। (রূহুল মায়ানী ফী তাফসীরিল কুরআনিল আযীম ওয়াস সাবয়িল মাছানী অর্থাৎ তাফসীরুল আলূসী সূরা বাকারা: আয়াত শরীফ: ১৪৩, লেখক: আল্লামা শিহাবুদ্দীন মাহমূদ বিন আব্দুল্লাহ হুসাইনী আলূসী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ১২৭০ হিজরী)
(৩৪৪)
والمقصود من الاية في هذا المقام انه قد استدل الشيخ ابو منصور رحمة الله عليه بالاية على ان الاجماع حجة.
অর্থ: অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে; যেমনটি হযরত শায়েখ আবূ মানছূর মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ভিত্তিতে বলেছেন যে, নিশ্চয়ই উম্মতের ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ইজমা’ শরীফ (অর্থাৎ কোন বিষয়ে ঐক্যমত) অকাট্য দলীল। (আত তাফসীরাতুল আহমদিয়াহ ফী বায়ানিল আয়াতিশ শারয়িয়্যাহ, সূরা বাকারা: আয়াত শরীফ: আয়াত শরীফ: ১৪৩, লেখক: আল্লামা হযরত শায়েখ আহমদ বিন আবী সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ মোল্লা জিঊন হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ১১৩০ হিজরী, বুরহানুল মুকাল্লিদীন, ১১৭ পৃষ্ঠা, লেখক: আল্লামা মাওলানা মুহম্মদ রূহুল আমীন বশীরহাটী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সাইফুল মুকাল্লিদীন, ২২৩ পৃষ্ঠা, লেখক: আল্লামা মাওলানা মুহম্মদ ইবরাহীম মুহব্বতপুরী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি)
(৩৪৫-৩৪৮)
باب قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَكَذلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} وَمَا أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِلُزُومِ الْجَمَاعَةِ وَهُمْ أَهْلُ الْعِلْمِ.
عَنْ ابِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُجَاءُ بِنُوحٍ عليه السلام يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ لَهُ هَلْ بَلَّغْتَ فَيَقُولُ نَعَمْ يَا رَبِّ فَتُسْأَلُ أُمَّتُهُ هَلْ بَلَّغَكُمْ فَيَقُولُونَ مَا جَاءَنَا مِنْ نَذِيرٍ فَيَقُولُ مَنْ شُهُودُكَ فَيَقُولُ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم وَأُمَّتُهُ فَيُجَاءُ بِكُمْ فَتَشْهَدُونَ ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم "وَكَذلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا" قَالَ عَدْلاً.
অর্থ: পরিচ্ছেদ; মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, وَكَذلِكَ جَعَلْنَاكُمْ اُمَّةً وَّسَطًا ‘অনুরূপ আমি তোমাদেরকে সত্যপরায়ণ উম্মত হিসেবে স্থির করেছি’। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ’ উনার অনুসরণ লাযিম (ওয়াজিব বা ফরজ) করে নিতে হুকুম করেছেন। আর উনারা (জামায়াত) হলেন আহলুল ইলিম অর্থাৎ ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়া-উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা। (মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫২)
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫১)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৮)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫০)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৮)
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৭)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৬)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৬)
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৫)
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












